Monsoon Trek: এই বর্ষায় এক টুকরো স্বর্গ পেতে বেড়িয়ে পড়ুন হিমালয়ের এই ৩ ট্রেকিং পথে

Monsoon Trek: প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে অনুভব করতে ট্রেকিংই একমাত্র ভরসা

 

হাইলাইটস:

  • এই বর্ষায় ট্রেকিং করতে চাইছেন?
  • ট্রেকিং করার মজাই আলাদা
  • হিমালয়ের কোন কোন পার্বত্য পথে বর্ষাকালেও ট্রেকিং করা যায় জেনে নিন

Monsoon Trek: বর্ষাকাল মানেই সজীব, সবুজ এবং সৌন্দর্যে মোড়া প্রকৃতির রূপ। অনেকেই আছেন যারা এই বর্ষায় বেড়াতে যেতে ভালোবাসেন। তবে প্রকৃতির একদম কাছে যেতে গেলে হাঁটা ছাড়া উপায় নেই। এক কথায় যাকে বলা হয় ট্রেকিং (Trekking)। তবে পাহাড়ি চড়াই-উতরাই পেরিয়ে হাঁটা খুব একটা সহজ নয়। তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে খুব কাছ থেকে অনুভব করতে অনেকেই ট্রেকিংয়ের উপরই ভরসা রাখেন।

We’re now on WhatsApp – Click to join

যে পথগুলিতে গাড়ি পৌঁছয় না, সেই পথগুলিতে যাওয়ার জন্যও ভরসা একমাত্র ট্রেকিং। অনেক দুর্গম পার্বত্য এলাকা শুধুমাত্র হাঁটা পথেই পাড়ি দেওয়া যায়। তাই অনুভব করা যায় তার অপার্থিব রূপও। আপনি যদি এই বর্ষায় প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য স্বচক্ষে দেখতে চান, তবে ট্রেকের জন্য বেছে নিতে পারেন হিমালয়ের বেশ কয়েকটি জায়গা।

ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স, উত্তরাখণ্ড

যারা ট্রেক করতে ভালোবাসেন তারা বন্য পাহাড়ি ফুলের টানে ছুটে আসেন উত্তরাখণ্ডের ‘ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স’-এ। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে, এই উপত্যকা জুড়ে রয়েছে রকমারি ফুল। এই ট্রেক শুরু হয় জুন মাস থেকে। আর চলে অক্টোবর মাস পর্যন্ত। শুধু রকমারি ফুল দেখেই মজা পাবেন তা নয়, এই জায়গার অন্যতম আকর্ষণ হল উপত্যকায় বয়ে চলা পুষ্পবতী নদী। সেই সঙ্গে চোখে পড়বে এশীয় কালো ভল্লুক, স্নো লেপার্ড-সহ নানা রকমের বন্যপ্রাণী। এই পুষ্পবতী নদীর লাগোয়া পথ ধরে পৌঁছে যাওয়া যায় শিখ সম্প্রদায়ের পবিত্র তীর্থক্ষেত্র হেমকুণ্ড সাহিবে। এদিকে পাহাড়ি গ্রামের মজা নিতে নিতে হাঁটা পথে হিমালয়কে উপভোগ করতে করতে ট্রেকার্সরা পৌঁছে যাবেন ‘ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স’-এ।

কী ভাবে যাবেন –

জোশীমঠ থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে রয়েছে গোবিন্দঘাট। আর এখান থেকেই শুরু হয় ‘ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ারর্স’-এর ট্রেকিং। যাত্রাপথ প্রায় ৪৭ কিলোমিটার। ট্রেকিং এবং যাতায়াত মিলিয়ে ৬-৭ দিনের মতো সময় লাগে।

We’re now on Telegram – Click to join

কাশ্মীর গ্রেট লেকস

ভারতের ভূস্বর্গ যে কাশ্মীর, একথা কারও অজানা নয়। গোটা কাশ্মীরই যেন রূপকথার গল্পের বইয়ের মতো সাজানো। ডাল লেক, হাউজ বোট, সোনমার্গ এবং গুলমার্গের সৌন্দর্য দেখে আপনি যদি ভাবেন কাশ্মীর ঘোরা কমপ্লিট, তবে আমরা বলবো, না আপনি এখনও কাশ্মীরের সেই রূপ দেখেননি। সবুজ ঘাসে ঢাকা দীর্ঘ উপত্যকা, তার মধ্যে ফুটে রয়েছে রঙবেরঙের ফুল, কোথাও চরছে ভেড়ার দল এবং আপনি সেই পথে হেঁটেই পৌঁছনো যাচ্ছেন বরফঢাকা পাহাড়ের কোলে টলটলে জলের জলাশয়ে। আপনি পুরোটাই স্বপ্ন লাগছে তো? হ্যাঁ এটা স্বপ্ন মনে হলেও, কথাটা কিন্তু সত্যি। কাশ্মীরের গ্রেট লেকসে ট্রেক করলে আপনারও তাই মনে হবে। নীল আকাশ, পাহাড়, ফুল, একাধিক হ্রদ এ পথের মূল আকর্ষণ অমোঘ।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাহাড়ি রাস্তা ট্রেকিং করার পর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য দেখে একটুও হতাশ হবেন না। শ্রীনগর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে পাহাড়ের বুকে রয়েছে এই স্বচ্ছ জলের একাধিক জলাশয়।

কী ভাবে যাবেন –

সোনমার্গ থেকে শুরু হয় এই ট্রেকিং। প্রায় ৭-৮ দিনের মতো সময় লাগে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই ট্রেক চলে।

Read more:- নিরিবিলিতে সময় কাটাতে চান? তবে উইকেন্ডে চলে আসুন কলকাতার কাছে এই সমুদ্র সৈকতে

হাম্পতা পাস, হিমাচল প্রদেশ 

এই বর্ষায় নৈসর্গিক রূপ উপভোগ করতে হিমাচল প্রদেশের লাহৌল এবং কল্লু উপত্যকার সেরা ট্রেক হতে পারে হাম্পতা পাস। সরু আঁকাবাঁকা পথ ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেক করে হাম্পতা পাস যাওয়ার সময় লাহৌলের সৌন্দর্য ভুলিয়ে দেবে আপনার সমস্ত কষ্ট। রুক্ষ ঊষর ভূমিতে নীল রঙের নদীর বয়ে যাওয়া দেখে মনে হবে, আপনার ট্রেকে আসা সার্থক। তবে হাম্পতা পাস থেকে অনেকে আবার চন্দ্রতাল লেক পর্যন্তও ট্রেক করেন।

কী ভাবে যাবেন –

মানালি বেস ক্যাম্প থেকে শুরু হয় ৫ দিনের এই ট্রেকিং। দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। জুনের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ট্রেকের জন্য আদর্শ সময়।

এইরকম ভ্রমণ সম্পর্কিত প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন। 

Sanjana Chakraborty

Professional Content Writer

Leave a Reply

Your email address will not be published.