Iran Earning From Hormuz Toll: ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে কতগুলো জাহাজ যাতায়াত করে, জেনে নিন ইরান একদিনে কত আয় করবে?
হরমুজ প্রণালী হল পারস্য উপসাগরকে উন্মুক্ত মহাসাগরের সাথে সংযোগকারী সবচেয়ে সংকীর্ণ কিন্তু ব্যস্ততম সমুদ্রপথ। বিশ্বের প্রায় ২০% অপরিশোধিত তেল এবং ৩০% এলএনজি এর মধ্য দিয়ে চলাচল করে, যা এটিকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জীবনরেখায় পরিণত করেছে।
Iran Earning From Hormuz Toll: ইরান এই টোল পরিকল্পনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী থেকে শত শত কোটি ডলার আয় করতে পারে
হাইলাইটস:
- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি
- হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনের পথ
- ইরান এই পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে
Iran Earning From Hormuz Toll: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। এটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনের পথ, কিন্তু যুদ্ধের পরেও জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এদিকে, ইরান এই পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই টোল কার্যকর হলে, ইরানের দৈনিক ও বার্ষিক আয়ের পরিমাণ হবে বিস্ময়কর।
We’re now on WhatsApp – Click to join
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ
হরমুজ প্রণালী হল পারস্য উপসাগরকে উন্মুক্ত মহাসাগরের সাথে সংযোগকারী সবচেয়ে সংকীর্ণ কিন্তু ব্যস্ততম সমুদ্রপথ। বিশ্বের প্রায় ২০% অপরিশোধিত তেল এবং ৩০% এলএনজি এর মধ্য দিয়ে চলাচল করে, যা এটিকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জীবনরেখায় পরিণত করেছে। সাধারণ দিনগুলিতে, এশিয়া, ইউরোপ এবং আমেরিকায় সরবরাহ বহনকারী কয়েক ডজন বড় তেলের ট্যাঙ্কার এবং পণ্যবাহী জাহাজ প্রতিদিন এর মধ্য দিয়ে যাতায়াত করে।
২৪ ঘন্টায় কয়টি জাহাজ চলাচল করে?
বর্তমান পরিস্থিতি এই পথের চিত্র পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, বর্তমানে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ১৫টি জাহাজ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করছে। এটি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৯০% কম। যেখানে আগে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১৩০টি, বা কখনও কখনও ১৪০টি পর্যন্ত জাহাজ চলাচল করত, সেখানে এখন যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এটি সরাসরি তেল সরবরাহ এবং বিশ্ববাজারকে প্রভাবিত করছে।
জাহাজের উপর উত্তেজনার প্রভাব ও কঠোর নজরদারির
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৪০ দিনের যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতি হলেও, এই অঞ্চলে উত্তেজনা এখনো চরমে রয়েছে। এ কারণেই ইরান এখন জাহাজগুলোর ওপর আরও কঠোর তল্লাশি চালাচ্ছে এবং শুধু ইরান-অনুমোদিত জাহাজগুলোকেই যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছে। বিভিন্ন দেশের শত শত জাহাজ আটকা পড়েছে বা বিকল্প পথ খুঁজছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক ডজন চীনা ট্যাংকারও অপেক্ষায় রয়েছে।
BREAKING: Iran could earn 8 billion dollars monthly from Hormuz tolls
Nearly 96 billion yearly
Potential 20 percent GDP boost.— The Breaking Minutes (@BreakingMinutes) April 8, 2026
হরমুজে টোল আদায়ের প্রস্তুতি
এই উত্তেজনার মধ্যে, ইরান তার রাজস্ব বাড়ানোর জন্য একটি নতুন উপায় বের করেছে। জানা গেছে যে, দেশটি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী তেল ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর টোল ট্যাক্স আরোপ করার পরিকল্পনা করছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি ব্যারেল তেলের ওপর প্রায় ১ ডলার ট্রানজিট ফি ধার্য করা হবে। কিছু হিসাব অনুযায়ী, এর পরিমাণ প্রতিটি জাহাজের জন্য ২০ লক্ষ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
হরমুজ থেকে ইরান একদিনে কতটা লাভ করে?
এই টোল ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে ইরানের দৈনিক রাজস্বে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে। অনুমান করা হচ্ছে যে, শুধুমাত্র টোল থেকেই প্রতিদিন ২০ থেকে ২১.৫ মিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে। ভারতীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রতিদিন প্রায় ১৬০ থেকে ১৮০ কোটি টাকা (প্রায় ১.৬ বিলিয়ন থেকে ১.৮ বিলিয়ন ডলার)। এই আয় তেল বিক্রির ওপর নির্ভর না করে, শুধুমাত্র সড়ক ব্যবহার থেকেই আসবে।
চমকপ্রদ বার্ষিক আয়ের পরিসংখ্যান
এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে বার্ষিক রাজস্বের ওপর। প্রতিবেদন অনুসারে, এই টোল থেকে ইরান বছরে ৭০ থেকে ৮০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে। ভারতীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৬.৫ থেকে ৭.৫ লক্ষ কোটি টাকা। এই অঙ্কটি ইরানের বর্তমান তেল রপ্তানি আয়কে ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা এই পরিকল্পনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
Read more:- ট্রাম্পের অবরোধের মধ্যে ভারতীয় জাহাজের কাছ থেকে কোনো টোল আদায় করবে না ইরান, প্রকাশ্যে ঘোষণা তেহরানের
আগে কত আয় হত?
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরান ২০২৩ সালে তেল রপ্তানি থেকে প্রায় ৪১.১ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৪ সালে ৪৬.৭ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। ২০২৬ সালে এর দৈনিক তেল রাজস্ব প্রায় ১৩৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বর্তমানে, ইরান দৈনিক প্রায় ১.৬ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করে। সুতরাং, টোল থেকে সম্ভাব্য রাজস্ব তার প্রচলিত তেল ব্যবসাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।







