Tamil Nadu News: মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান নিয়ে বিতর্ক, রাজ্যের সঙ্গীতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলল জোটসঙ্গী
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থালাপতি বিজয়ের প্রথম সরকারি অনুষ্ঠানে বাজানো গানগুলোর ক্রম বা বিন্যাস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সংগঠনগুলো যুক্তি দেখিয়েছে যে, তামিলনাড়ুর সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং ঐতিহ্যের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা উচিত ছিল।
Tamil Nadu News: সরকার গঠনের পরই বিতর্কে জড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়, রাজ্যের সঙ্গীত তৃতীয় স্থানে রাখতেই বিতর্ক তুঙ্গে
হাইলাইটস:
- তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ‘থালাপতি’ বিজয়ের শপথগ্রহণের পরই নতুন বিতর্ক
- রাজ্যের জাতীয় সঙ্গীত—’তামিল থাই ভালথু’—কে তৃতীয় স্থানে রাখা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি
- এহেন পদক্ষেপকে ঐতিহ্যের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে সিপিআই ও জোটসঙ্গীরা
Tamil Nadu News: তামিলনাড়ুতে নতুন সরকার গঠনের পরই একটি রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। জোট শরিক দল সিপিআই (CPI) তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এই কারণে যে, মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে রাজ্যের সঙ্গীত ‘তামিল থাই ভালথু’ বাজানো হয়েছিল তৃতীয় স্থানে। এই বিষয়টি তামিলনাড়ুর রাজনীতির অন্দরে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে, তামিলনাড়ুতে দীর্ঘকাল ধরে এই প্রথা চলে আসছে যে, সরকারি অনুষ্ঠানগুলো রাজ্যের সঙ্গীত ‘তামিল থাই ভালথু’ দিয়ে শুরু হবে এবং জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে শেষ হবে। তবে, বিজয় প্রশাসনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রথমে ‘বন্দে মাতরম’, এরপর জাতীয় সঙ্গীত এবং সবশেষে রাজ্যের সঙ্গীত বাজানো হয়—প্রচলিত এই রীতির ব্যতিক্রমই বর্তমান বিতর্কের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
We’re now on WhatsApp- Click to join
**মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান নিয়ে কেন বিতর্কের সৃষ্টি হলো?**
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থালাপতি বিজয়ের প্রথম সরকারি অনুষ্ঠানে বাজানো গানগুলোর ক্রম বা বিন্যাস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সংগঠনগুলো যুক্তি দেখিয়েছে যে, তামিলনাড়ুর সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং ঐতিহ্যের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা উচিত ছিল। রাজ্য সরকারের অন্যতম প্রধান শরিক দল সিপিআই অভিযোগ করেছে যে, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে গানের যে ক্রম অনুসরণ করা হয়েছে, তা তামিলনাড়ুর প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
We’re now on Telegram- Click to join
**সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করল সিপিআই**
এই বিষয়ে জারি করা এক বিবৃতিতে সিপিআই-এর রাজ্য সম্পাদক এম. বীরপান্ডিয়ান জোর দিয়ে বলেছেন যে, তামিলনাড়ু সরকারকে অবশ্যই জনগণের কাছে ব্যাখ্যা দিতে হবে—এই ত্রুটির জন্য কে দায়ী। তিনি গুরুত্বারোপ করেন যে, রাজ্যের সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠান অবশ্যই ‘তামিল থাই ভালথু’ দিয়ে শুরু হওয়া উচিত এবং জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর মাধ্যমে শেষ হওয়া উচিত। তিনি আরও দাবি করেন যে, বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীনও যেন কঠোরভাবে একই ঐতিহ্য মেনে চলা হয়। বীরপান্ডিয়ান আরও দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, তামিল সংস্কৃতি এবং পরিচয়ের সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে কোনোভাবেই কোনো আপস করা চলবে না।
**‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হলো**
এই বিতর্কটি এমন এক সময়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, যখন খবর পাওয়া যাচ্ছে যে কেন্দ্রীয় সরকার ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমতুল্য মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। সিপিআই নেতারা যুক্তি দেখিয়েছেন যে, তামিলনাড়ুর স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে রাজ্যের সঙ্গীতকেই অগ্রাধিকার দেওয়া আবশ্যক। তারা অভিযোগ করেছেন যে, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে গৃহীত নতুন ক্রমটি রাজ্যের সামগ্রিক অনুভূতির পরিপন্থী।
বিতর্ক থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিল TVK
বিতর্কটি যখন ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছিল, তখন থালাপতি বিজয়ের দল—তামিঝাগা ভেত্রি কাজাগাম (TVK)—এই ইস্যু থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেয়। দলের এক পদাধিকারী, আধভ অর্জুন, স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে তামিলনাড়ুতে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত প্রথা হলো অনুষ্ঠানের শুরুতে রাজ্যের সঙ্গীত (State Anthem) পরিবেশন করা এবং সবশেষে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা। তিনি নিশ্চিত করেন যে, এখন থেকে সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠানে এই সুপ্রাচীন প্রথাটিই কঠোরভাবে মেনে চলা হবে। দলটির পক্ষ থেকে আরও স্পষ্ট করা হয় যে, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যে ক্রমটি অনুসরণ করা হয়েছিল, তা কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা ছিল না।
রাজ্যপাল ও কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনার প্রসঙ্গ টেনে
TVK নেতারা দাবি করেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা একটি নতুন নির্দেশিকা এবং রাজভবনের সুনির্দিষ্ট নির্দেশের কারণেই এই প্রথাগত ব্যতিক্রমটি ঘটেছিল। তবে, দলটি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেয় যে, ভবিষ্যতের অনুষ্ঠানগুলো তামিলনাড়ুর নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্য রেখে কঠোরভাবে আয়োজন করা হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন সরকার গঠনের ঠিক পরপরই যে বিতর্কের সূত্রপাত হলো—তা আগামী দিনগুলোতে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।
Read More- থালাপতি বিজয়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তৃষা কৃষ্ণাণের চোখে জল, ভাইরাল ভিডিও
তামিলনাড়ুতে তুঙ্গে রাজনৈতিক তৎপরতা
মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সময় যে বিতর্কের সূচনা হয়েছিল, তা এখন একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ নিচ্ছে। বিরোধী দলগুলোও এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগতে শুরু করেছে। ফলস্বরূপ, আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনে এই ইস্যুটি নিয়ে তীব্র বাদানুবাদের সাক্ষী থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
এইরকম আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।







