West Bengal Assembly Election: সুন্দরবনের নদী ভাঙন নাকি ডায়মন্ড হারবার মডেল, অভিষেক গড়ে ফুটবে পদ্ম?
বর্তমানে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিস্তীর্ণ অংশ আজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়। তাই তো চোখ বন্ধ করে সেখানকার জনগন বলে দিচ্ছেন, ‘তৃণমূলই জিতবে!’ স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নই দেখতে পাবেন এখানে। এর সঙ্গে বাড়তি পাওনা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড হারবার মডেল।
West Bengal Assembly Election: তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত বাংলা সবচেয়ে বড় জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা
হাইলাইটস:
- দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার দিকেই সকলের নজর রয়েছে
- এই জেলাটি যেমন বাংলা সবচেয়ে বড় জেলা, তেমনই এই জেলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই শেষ কথা
- অভিষেকের ডায়মন্ড হারবার মডেল এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়
West Bengal Assembly Election: কখনও আয়লা, কখনও আমফান আবার কখনও ইয়াস। মাথা তুলে দাঁড়াতে না দাঁড়াতেই একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ে উড়ে যায় ছাদ, ভেসে যায় সর্বস্ব। কপিলমুনি যেখানে গঙ্গা মাথায় করে এনে সাগরে মেশালেন, সেই কপিলমুনির আশীর্বাদপ্রাপ্ত জেলায় মাঝেমধ্যেই নেমে আসে কারও ‘অভিশাপ’! আর সেই মানুষগুলোর লড়াইয়ে সঙ্গে যাঁরা কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে পারেন, মানুষও তাদের সঙ্গেই। বর্তমানে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিস্তীর্ণ অংশ আজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড়। তাই তো চোখ বন্ধ করে সেখানকার জনগন বলে দিচ্ছেন, ‘তৃণমূলই জিতবে!’ স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নই দেখতে পাবেন এখানে। এর সঙ্গে বাড়তি পাওনা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড হারবার মডেল।
We’re now on WhatsApp – Click to join
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার একদিকে যেমন গঙ্গা, তেমন অন্যদিকে ম্যানগ্রোভ অরণ্য। দৈর্ঘ্যে-প্রস্থের দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গের সবথেকে বড় জেলা হল এটি। পদ্ম এখনও প্রবেশ করতে পারেনি এই জেলায়। তবে একসময় এটি ছিল বামেদের শক্ত ঘাঁটি। এই জেলার সাতগাছিয়া বিধানসভার প্রায় দুই দশককের বিধায়ক ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। এছাড়া সুভাষ নস্কর, কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়ও এই জেলারই মানুষ। তবে এখন যুগ পাল্টেছে, সারা জেলা জুড়ে এখন শুধুই সবুজ ঝড়। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল অনুসারে এই জেলার প্রায় সব আসনই তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। শুধুমাত্র ব্যতিক্রম নওশাদ সিদ্দিকির ভাঙড়, আইএসএফের একমাত্র বিধায়ক তিনি। এদিকে বিজেপির শীর্ষ নেতারা বারবার এই জেলায় এলেও অভিষেকের গড়ে তেমন প্রভাব দেখা যায়নি।
সাগরদ্বীপ ঘেঁষা এলাকা অর্থাৎ যেখানে ঝড়-ঝাপটার দাপট সবচেয়ে বেশি, সেখানকার মানুষ শাসকদলের দিকেই রয়েছে। এই বিস্তীর্ণ এলাকা সবই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। এখানকার বেশিরভাগ জায়গায় ২০১১ থেকেই তৃণমূললের দখলে রয়েছে। যার ফলে এই সব কেন্দ্রে বিরোধীদের দাঁত ফোটানো যথেষ্ট কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে।
ডায়মন্ড হারবার মডেল

এক সময় লাল দূর্গ হল ডায়মন্ড হারবার, তবে ভাঙন আসে ২০০৮ সাল থেকে। প্রথমে জেলা পরিষদ, তারপর গ্রাম পঞ্চায়েত এবং বিধানসভা ও লোকসভা। আর তারপর সেই ডায়মন্ড হারবারের সঙ্গে জুড়ে গেল ‘মডেল’ শব্দটা। আসলে করোনা-কালে বাড়ি বাড়ি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে আজকের সেবাশ্রয়, তিলে তিলে যে গড় তৈরি করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সেখানে তৃণমূল প্রার্থীদের জয় যেন সময়ের অপেক্ষা। অভিষেকের সংসদীয় এলাকায় তার যে প্রভাব রয়েছে তা অস্বীকার করতে পারছেন না বিরোধী শিবিরও। স্থানীয়দের কথায়, ৪ঠা মে’র পর এই সমস্ত বিধানসভায় অকাল হোলি খেলা হবে, আর তা সবটাই সবুজ।
ফ্যাক্টর হবে প্রতীক উর রহমান?
এই জেলার অন্যতম ফ্যাক্টর সদ্য তৃণমূলে যোগদান করা দাপুটে নেতা প্রতীক উর রহমান। ২০২১-এর বিধানসভায় ডায়মন্ড হারবারের সিপিএম প্রার্থী ছিলেন তিনি। এরপর ২০২৪-এর লোকসভায় তিনি ছিলেন অভিষেকের প্রতিদ্বন্দ্বী। আর সেই অভিষেকের হাত ধরেই তিনি এখন তৃণমূলে। তার জনপ্রিয়তার কথা অবশ্য অস্বীকার করতে পারে না আলিমুদ্দিনও। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় মুখ হিসেবে তার অনুগামীর সংখ্যাও নেহাত কম নয়! প্রতীক উর দল বদল করার ফলে সিপিএমের যেটুকু ভোট বেঁচে ছিল, সেটাও সবুজ-বাক্সে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
Read more:- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মতো আপনিও কি নৌকা থেকে হাওড়া ব্রিজ দেখতে চান? জেনে নিন বিস্তারিত
নওশাদ-শওকত সমীকরণ
দক্ষিণ ২৪ পরগনার কথা বললে, ভাঙড় সবার প্রথমে আসে। ভাঙড়ের মাটিতে আব্দুল রেজ্জাক মোল্লার দাপট এখনও বাংলার মানুষের স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে। তবে এখন নওশাদ সিদ্দিকি ভাঙড়ের বড় ফ্যাক্টর। যার ফলে নওশাদকে চ্যালেঞ্জ করতে তৃণমূলের দাপুটে নেতা শওকত মোল্লাকে নিজের কেন্দ্র ছাড়তে হয়েছে। এবার নওশাদ-শওকতের মুখোমুখি লড়াই দেখছে ভাঙড়বাসী। ঘাসফুল ফোটানোর চেষ্টায় এই এলাকায় লাগাতার প্রচার চালাচ্ছেন যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ। অন্যদিকে অবশ্য আরাবুল ইসলামও তৃণমূলের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূল ছেড়ে আসা আরাবুল এবার আইএসএফের হয়ে ময়দানে নেমেছেন। তবে এ কথা অস্বীকার করা যায় না দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা জুড়ে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাপট রয়েছে। তার রাজনৈতিক জীবনও শুরু হয়েছে এই জেলা থেকেই। ফলে এই জেলায় যে তৃণমূল বাজিমাত করবে একথা বলাই যায়। কিন্তু দেখার দেখার বিষয় হল, নওশাদ সিদ্দিকির এলাকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উন্নয়ন কি আদেও কোনও কাজ দেবে!
এই রকম রাজনৈতিক প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।







