Ramayana: ‘রামায়ণ’-এর একটি প্রদর্শনী দেখার পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন আশিস চঞ্চলানি, বিশেষ উল্লেখ করলেন রবি দুবের কথা
আশিষ চঞ্চলানি ছবিটির তারকা অভিনয়শিল্পীদের নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন। রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী ও যশের অভিনয়ের প্রশংসা করে তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রত্যেকেই নিজ নিজ চরিত্রে অত্যন্ত সাবলীল ও আকর্ষণীয়।
Ramayana: রণবীর কাপুরের ‘রামায়ণ’ নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে, আশিস চঞ্চলানির প্রতিক্রিয়া নজর কেড়েছে
হাইলাইটস:
- সম্প্রতি একটি বিশেষ প্রদর্শনী শেষে আশিস চঞ্চলানির মন্তব্য ঘিরে উত্তেজনা চরমে
- দুর্দান্ত অ্যাকশন দৃশ্য এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে
- এদিন একটি বিশেষ প্রদর্শনী দেখার পরই আশিস চঞ্চলানি তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন
Ramayana: রণবীর কাপুরের ‘রামায়ণ’—ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রতীক্ষিত একটি সিনেমা—মুক্তির আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সিনেমাটির বিশাল সেট, দুর্দান্ত অ্যাকশন দৃশ্য এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি একটি বিশেষ প্রদর্শনী শেষে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেতা আশিস চঞ্চলানির মন্তব্য এই প্রত্যাশাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আশিস সিনেমাটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং এটিকে একটি বিশাল ব্লকবাস্টার হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে, সিনেমাটির প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে মুক্তির পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া এবং বক্স অফিসের আয়ের ওপর। গত ৩রা নভেম্বর মুম্বাইতে সিনেমাটির একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে কলাকুশলীসহ বিনোদন জগতের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। প্রদর্শনী শেষে আশিস চঞ্চলানি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ‘রামায়ণ’-এ ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে দেখা অন্যতম সেরা কিছু অ্যাকশন দৃশ্য রয়েছে। তিনি সিনেমাটির চোখ ধাঁধানো ভিজ্যুয়াল এবং বিশাল পরিসরের অ্যাকশন কোরিওগ্রাফির প্রশংসা করেছেন। আশিস আরও উল্লেখ করেছেন যে, সিনেমাটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নীতেশ তিওয়ারির পরিচালনা; তাঁর মতে, পরিচালক পুরো সিনেমাটির ওপর দারুণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন, যার ফলে গল্পের প্রবাহ কোথাও বিন্দুমাত্র দুর্বল হয়নি।
We’re now on Telegram- Click to join
রণবীর, সাই পল্লবী ও যশের অভিনয়ের প্রশংসা
আশিষ চঞ্চলানি ছবিটির তারকা অভিনয়শিল্পীদের নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন। রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী ও যশের অভিনয়ের প্রশংসা করে তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রত্যেকেই নিজ নিজ চরিত্রে অত্যন্ত সাবলীল ও আকর্ষণীয়। ছবিটিতে রণবীর কাপুর ভগবান রামের ভূমিকায় অভিনয় করছেন, সাই পল্লবীকে দেখা যাবে সীতার চরিত্রে এবং যশকে দেখা যাবে রাবণের ভূমিকায়। ছবিটি ঘোষণার পর থেকেই এই তিন অভিনয়শিল্পীকে নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আশিষ বিশেষভাবে রবি দুবের কথা উল্লেখ করেছেন, যিনি লক্ষ্মণের চরিত্রে অভিনয় করছেন। রবির অভিনয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন যে, অভিনেতা তাঁর চরিত্রটিকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আশিষের মতে, ছবিটিতে লক্ষ্মণকে কেন্দ্র করে কিছু হালকা মেজাজের ও মজার দৃশ্যও রয়েছে, যা দর্শকরা নিশ্চয়ই উপভোগ করবেন। অর্থাৎ, তাঁর পর্যালোচনায় ছবিটির গম্ভীর ও আবেগঘন মুহূর্তগুলোর পাশাপাশি বিনোদনমূলক দিকগুলোও উঠে এসেছে।
We’re now on WhatsApp- Click to join
রাবণ ও জটায়ুর মধ্যকার যুদ্ধে আবেগাপ্লুত আশিস
আশিস চঞ্চলানির পর্যালোচনার সবচেয়ে আলোচিত অংশটি হলো সিনেমার একটি আবেগঘন দৃশ্য। তিনি জানিয়েছেন যে, রাবণ ও জটায়ুর মধ্যকার লড়াই তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে; তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং তার চোখে জল চলে আসে। নিজের পোস্টে আশিস উল্লেখ করেছেন যে, জটায়ুর লড়াই দেখার সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন—যা থেকে বোঝা যায় যে, সিনেমাটিতে এই অংশটিকে অত্যন্ত আবেগপূর্ণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। রামায়ণের আখ্যানে জটায়ুর প্রসঙ্গটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাবণ যখন মা সীতাকে অপহরণ করে লঙ্কায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তখন সীতাকে উদ্ধার করার জন্য জটায়ু তার সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হন। এই লড়াইয়ের সময় জটায়ু মারাত্মকভাবে আহত হন। পরবর্তীতে, সীতা যে অপহৃত হয়েছেন, সে বিষয়ে ভগবান রামকে জানানোর ক্ষেত্রেও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এমতাবস্থায়, বড় পর্দায় এই দৃশ্যটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা দর্শকদের জন্য সিনেমার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
ভিএফএক্স ও অ্যাকশনের প্রশংসা, পাশাপাশি কিছু উল্লেখযোগ্য ত্রুটি
চলচ্চিত্রটির অ্যাকশন দৃশ্য এবং ভিজ্যুয়াল ইফেক্টের প্রশংসা করার পাশাপাশি, আশিস কিছু কারিগরি ত্রুটির কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, রাতের কিছু দৃশ্যে ব্যবহৃত ‘ডি-এজিং’ (বয়স কমিয়ে দেখানোর) ইফেক্টগুলো কিছুটা দৃষ্টিকটু মনে হতে পারে। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ছবিটির সম্পাদনা এতটাই চমৎকার যে এই ছোটখাটো ত্রুটিগুলো খুব একটা চোখে পড়ে না। তিনি ডিএনইজি এবং নামিত মালহোত্রার টিমের কাজেরও প্রশংসা করেছেন। ছবিটির ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট নিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। ‘রামায়ণ’ অত্যন্ত বিশাল পরিসরে নির্মিত হয়েছে এবং এর নির্মাণ প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক কারিগরি দলগুলো যুক্ত ছিল। ফলে, আধুনিক প্রযুক্তির সাথে বিশাল ক্যানভাসের এক মেলবন্ধনে এই ভারতীয় পৌরাণিক মহাকাব্যটিকে কীভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা দেখার জন্য দর্শকরা নিশ্চয়ই বেশ আগ্রহী হবেন।
Read More- পিছিয়ে গেল সব্যসাচীর ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’র মুক্তি, তবে কী ৪০০০ কোটির রামায়ণই এর কারণ?
৫ই নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে সিনেমাটি
নীতীশ তিওয়ারি পরিচালিত ‘রামায়ণ’ সিনেমাটি দুটি পর্বে মুক্তি পাবে। প্রথম পর্বটি ২০২৬ সালের ৫ই নভেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী, যশ এবং রবি দুবের পাশাপাশি এই সিনেমায় একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে সানি দেওলকে। সিনেমাটির দ্বিতীয় পর্ব ২০২৭ সালের দীপাবলির সময় মুক্তি পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও আশিস চঞ্চলানির পর্যালোচনা ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে, তবুও সিনেমাটি মুক্তির আগেই সেটিকে ‘ব্লকবাস্টার’ আখ্যা দেওয়াটা তাড়াহুড়ো হবে। বক্স অফিসে এর সাফল্য নির্ভর করবে টিকিট বিক্রি, দর্শকদের প্রতিক্রিয়া এবং আয়ের পরিমাণের ওপর। আপাতত ‘রামায়ণ’ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে এবং সবার নজর এখন ৫ই নভেম্বরের মুক্তির দিকে। এখন দেখার বিষয়, আশিসের প্রশংসায় যেমনটি ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, সিনেমাটি সত্যিই তেমন এক জমকালো চলচ্চিত্র অভিজ্ঞতা উপহার দিতে পারে কি না।
এইরকম আরও বিনোদন জগতের প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।







