America India Slams Pakistan: আফগানিস্তান বিতর্কের মাঝেই জাতিসংঘে পাকিস্তানের কড়া সমালোচনা করেছে ভারত
জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আফগানিস্তানের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, মানবাধিকার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আফগানিস্তানে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, উগ্রবাদী কার্যকলাপ এবং মানবিক সংকট নিয়ে বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করে।
America India Slams Pakistan: পাকিস্তানের তীব্র সমালোচনা! জাতিসংঘের মঞ্চ থেকে সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করাল ভারত
হাইলাইটস:
- জাতিসংঘে পাকিস্তানের সমালোচনা করেছে ভারত
- ভারতের স্পষ্ট বার্তা কী তা এখনই জেনে নিন বিশদ
- এদিকে পাকিস্তানের অতীত রেকর্ড নিয়েও উঠছে প্রশ্ন
America India Slams Pakistan: আফগানিস্তানে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ক জাতিসংঘের (UN) এক আলোচনায় পাকিস্তানকে কঠোর ভাষায় তিরস্কার করেছে ভারত। ভারতীয় প্রতিনিধি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন যে, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস কার্যকলাপের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অতীত রেকর্ড সমগ্র বিশ্বের কাছেই স্পষ্ট; তাই অন্যকে উপদেশ দেওয়ার আগে এমন একটি দেশের উচিত নিজেদের ইতিহাসের দিকেই ফিরে তাকানো। ভারতের এই কড়া মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সন্ত্রাসবাদের ইস্যুটিকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
We’re now on WhatsApp- Click to join
জাতিসংঘে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা
জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আফগানিস্তানের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, মানবাধিকার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আফগানিস্তানে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, উগ্রবাদী কার্যকলাপ এবং মানবিক সংকট নিয়ে বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করে। এই অধিবেশন চলাকালীন পাকিস্তানও তাদের মতামত তুলে ধরে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্পর্কিত বেশ কিছু বিষয় উত্থাপন করে। তবে পাকিস্তানের মন্তব্যের জবাবে ভারত জানায় যে, যে দেশটির সন্ত্রাসবাদকে মদদ দেওয়া ও আশ্রয় দেওয়ার ইতিহাস রয়েছে, সেই দেশের মুখে শান্তি ও স্থিতিশীলতার কথা বলাটা এক চরম স্ববিরোধিতা। ভারতীয় প্রতিনিধি জোর দিয়ে বলেন যে, পাকিস্তানের ভূমিকা এবং তাদের অতীত কার্যকলাপ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহল পুরোপুরি অবগত।
We’re now on Telegram- Click to join
সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে ভারতের কঠোর অবস্থান গ্রহণ
ভারত দীর্ঘকাল ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চগুলোতে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ এবং সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর প্রাপ্ত সহায়তা সংক্রান্ত বিষয়টি উত্থাপন করে আসছে। জাতিসংঘের মঞ্চেও ভারতীয় প্রতিনিধি পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন যে, সন্ত্রাসবাদ কোনো রূপেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর বিরুদ্ধে অবশ্যই কোনো প্রকার দ্বিমুখী নীতি ছাড়াই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভারত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, আফগানিস্তানে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি কেবল তখনই সম্ভব, যদি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, উগ্রবাদী সংগঠন এবং তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় একটি সম্মিলিত ও কার্যকর কৌশল অবলম্বনের জন্য ভারত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
India slammed Pakistan’s hypocrisy on human rights and terrorism at the UN, citing UNAMA reports on cross-border strikes in Afghanistan that caused hundreds of civilian deaths and injuries@AmbHarishP https://t.co/EEGNwDIijz
— Shalinder Wangu (@Wangu_News18) May 21, 2026
পাকিস্তানের অতীত রেকর্ড নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন
নিজেদের বিবৃতিতে, ভারতীয় প্রতিনিধি পাকিস্তানের ইতিহাসের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন—এমন এক ইতিহাস, যা সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জগুলোর প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও রাষ্ট্র বারবার তুলে ধরেছে। ভারত জোরালোভাবে অভিমত প্রকাশ করেছে যে, যেসব রাষ্ট্রের সহিংসতা ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে অতীত রেকর্ড ইতিমধ্যেই সমালোচনার মুখে পড়েছে, তাদের অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার আগে নিজেদের আত্মসমালোচনা করা উচিত। ভারতের এই মন্তব্যকে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিবৃতিগুলোর প্রত্যক্ষ জবাব হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত আবারও দ্ব্যর্থহীনভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে তারা কোনো প্রকার নমনীয়তা বা অস্পষ্টতা বিন্দুমাত্রও সহ্য করবে না।
আফগানিস্তানে শান্তির প্রয়োজনীয়তা
নিজেদের বক্তব্যে ভারত আফগানিস্তানের জনগণের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভারতীয় প্রতিনিধি উল্লেখ করেন যে, আফগানিস্তানের নাগরিকরা বছরের পর বছর ধরে সংঘাত, অস্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়ে আসছেন। এই প্রেক্ষাপটে, দেশটিতে শান্তি, উন্নয়ন এবং মানবিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা জোরদার করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। ভারত এ বিষয়েও জোর দিয়েছে যে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড যেন কোনো দেশের বিরুদ্ধেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত না হয়। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সন্ত্রাসবাদের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আলোকপাত
জাতিসংঘের একটি বৈঠকে বেশ কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদকে বিশ্বশান্তির প্রতি এক গুরুতর হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, কেবল রাজনৈতিক সমাধানের মাধ্যমেই আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; বরং এর জন্য প্রয়োজন সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা। ভারত ধারাবাহিকভাবে এই বিষয়টির ওপর জোর দিয়ে আসছে যে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনোভাবেই বেছে বেছে পদক্ষেপ নেওয়ার নীতি গ্রহণ করা উচিত নয়। সন্ত্রাসী কার্যকলাপ যেখানেই সংঘটিত হোক কিংবা এর নেপথ্যে যে উদ্দেশ্যই থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিন্ন ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য।
Read More- ঔপনিবেশিক রাস্তার নাম ফেরাল পাকিস্তান সরকার, ইসলামপুর পরিণত হচ্ছে ‘কৃষ্ণনগরে’
ভারতের বার্তা স্পষ্ট
জাতিসংঘে প্রদত্ত এই বক্তব্যের মাধ্যমে ভারত একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার প্রশ্নে নিজেদের নীতি নিয়ে তারা কোনো আপস করবে না। পাকিস্তানকে উদ্দেশ্য করে ভারত এ কথাও দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে তথ্য ও ইতিহাসকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত সেখানে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। এছাড়া, তারা এই বার্তাও দিয়েছে যে, বিশ্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সব দেশকে অবশ্যই দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতার সাথে কাজ করতে হবে।
এইরকম আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।






