health

Dehydration During Pregnancy: গর্ভাবস্থায় জলের অভাব কি শিশুর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে? অ্যামনিওটিক তরলের পরিমাণ কীভাবে বাড়ানো যায়, তা জেনে নিন

অ্যামনিওটিক ফ্লুইড হলো এক বিশেষ ধরনের তরল, যা জরায়ুর ভেতরে শিশুকে ঘিরে থাকে। এটি শিশুকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে এবং তার স্বাভাবিক বিকাশে সহায়তা করে।

Dehydration During Pregnancy: অ্যামনিওটিক তরলের মাত্রা বাড়াতে এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করুন এবং মা ও শিশু—উভয়ের স্বাস্থ্যের যত্ন নিন

হাইলাইটস:

  • গর্ভাবস্থায় গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
  • এই পুরো সময়জুড়ে মায়ের শরীরে অনেক পরিবর্তন আসে
  • যা প্রভাব ফেলতে পারে শিশুর বিকাশের ওপরও

Dehydration During Pregnancy: গর্ভাবস্থায় গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে মায়ের শরীরে অনেক পরিবর্তন আসে, যা শিশুর বিকাশের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আল্ট্রাসাউন্ড করার সময় অনেক সময় চিকিৎসক গর্ভবতী মাকে জানাতে পারেন যে, শিশুর চারপাশে থাকা তরল—যাকে অ্যামনিওটিক ফ্লুইড বলা হয়—তার পরিমাণ কমে গেছে। এমন কথা শুনে গর্ভবতী নারী ও তাঁর পরিবারের উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক। প্রকৃতপক্ষে, গর্ভে শিশুর সুরক্ষা ও বিকাশের জন্য অ্যামনিওটিক ফ্লুইড অপরিহার্য। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, এই তরলের ঘাটতিকে বলা হয় “অলিগোহাইড্রামনিওস”। তবে ঝুঁকির মাত্রা একেক ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে; এটি নির্ভর করে গর্ভাবস্থার পর্যায় এবং তরলের ঘাটতির পরিমাণের ওপর।

We’re now on Telegram- Click to join

অ্যামনিওটিক ফ্লুইড (গর্ভস্থ তরল) কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

অ্যামনিওটিক ফ্লুইড হলো এক বিশেষ ধরনের তরল, যা জরায়ুর ভেতরে শিশুকে ঘিরে থাকে। এটি শিশুকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে এবং তার স্বাভাবিক বিকাশে সহায়তা করে। গর্ভে থাকাকালীন শিশু এই তরলের মধ্যেই থাকে; এমনকি শিশুটি এই তরল গিলে ফেলে, যা তার ফুসফুসের বিকাশেও কাজে লাগে। এই তরল শিশুর শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নড়াচড়ার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা করে দেয় এবং নাড়িকে (আমবিলিক্যাল কর্ড) চাপের হাত থেকে রক্ষা করে। তাই গর্ভাবস্থাজুড়ে অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

We’re now on WhatsApp- Click to join

গর্ভাবস্থায় অ্যামনিওটিক তরল কমে যাওয়ার কারণগুলো কী কী?

গর্ভাবস্থায় অ্যামনিওটিক তরল কমে যাওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। কখনো কখনো ডিহাইড্রেশন বা মায়ের শরীরে জলের অভাব এর একটি কারণ হতে পারে। এ ছাড়াও আরও অন্যান্য কারণ থাকতে পারে।

অ্যামনিওটিক থলি থেকে নিঃসরণ: অ্যামনিওটিক থলিতে ছোট কোনো ছিদ্র তৈরি হলে, তার ভেতরে থাকা তরল ধীরে ধীরে বেরিয়ে যেতে পারে।

প্ল্যাসেন্টা বা অমরা সংক্রান্ত সমস্যা: প্ল্যাসেন্টা যদি সঠিকভাবে কাজ না করে, তবে শিশু পর্যাপ্ত পুষ্টি ও অক্সিজেন পায় না, যা অ্যামনিওটিক তরলের মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে।

ভ্রূণের কিডনি সংক্রান্ত সমস্যা: গর্ভে থাকা অবস্থায় শিশুর কিডনি বা মূত্রনালীতে কোনো সমস্যা থাকলে তা মূত্র উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ: গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ বা প্রি-একলাম্পসিয়ার মতো শারীরিক অবস্থার কারণে অ্যামনিওটিক তরলের মাত্রা কমে যেতে পারে।

নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘ গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থা যদি সম্ভাব্য প্রসবের তারিখ পেরিয়ে আরও দীর্ঘায়িত হয়, তবে অ্যামনিওটিক তরলের মাত্রা কমে যেতে পারে।

অ্যামনিওটিক ফ্লুইড বা গর্ভস্থ তরলের পরিমাণ বাড়ানোর উপায় কী?

আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় যদি অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের পরিমাণ কম ধরা পড়ে, তবে প্রথমেই আপনার স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের (গাইনোকোলজিস্ট) পরামর্শ নেওয়া উচিত। যদিও কিছু পদক্ষেপ ফ্লুইডের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, তবে এর কার্যকারিতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।

১. প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন

গর্ভাবস্থায় শরীরকে আর্দ্র (হাইড্রেটেড) রাখা অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন। সাধারণত গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন ৮–১২ কাপ জল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। গরম আবহাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া বা শারীরিক পরিশ্রমের সময় শরীরে জলের চাহিদা আরও বাড়তে পারে। যদি শরীরে জলের অভাবের (ডিহাইড্রেশন) কারণে অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের মাত্রা কমে গিয়ে থাকে, তবে পর্যাপ্ত জল পান করলে তা বাড়াতে সাহায্য হতে পারে।

২. জলযুক্ত ফল ও শাকসবজি খান

আপনার খাদ্যতালিকায় জল সমৃদ্ধ খাবার—যেমন তরমুজ, খরমুজ, কমলা, শসা এবং লাউ—অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। এগুলো শরীরকে আর্দ্র রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানও সরবরাহ করে। তবে, কেবল এগুলো খেলেই যে অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের পরিমাণ বাড়বে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

৩. সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন

গর্ভাবস্থায় শরীরের জন্য প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদানের প্রয়োজন হয়। আপনার খাদ্যতালিকায় ডাল, দুধ, দই, সবুজ শাকসবজি ও ফলমূলের পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখুন। মা ও শিশু—উভয়ের স্বাস্থ্যের জন্যই সুষম খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৪. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান

আপনার অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের মাত্রা যাচাই করার জন্য চিকিৎসক আল্ট্রাসাউন্ড করার পরামর্শ দিতে পারেন। এতে ‘অ্যামনিওটিক ফ্লুইড ইনডেক্স’ (AFI) অথবা ‘ডিপেস্ট ভার্টিক্যাল পকেট’ (DVP) পরিমাপের মাধ্যমে তরলের পরিমাণ নির্ণয় করা হয়। প্রয়োজনে শিশুর বৃদ্ধি ও রক্তপ্রবাহ পর্যবেক্ষণের জন্য ‘ডপলার টেস্ট’ও করা হতে পারে।

৫. বিশ্রাম সংক্রান্ত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন

যদি চিকিৎসক আপনাকে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেন, তবে তা মেনে চলুন। শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া জরুরি; তবে সব গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রেই যে কঠোরভাবে বিছানায় শুয়ে থাকতে হবে (বেড রেস্ট), তা কিন্তু নয়। আপনার শারীরিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কী ধরনের শারীরিক কার্যকলাপ করা যাবে, সে বিষয়ে চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন।

গর্ভাবস্থায় অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের (গর্ভস্থ তরল) মাত্রা কম থাকলে আপনার কী কী এড়িয়ে চলা উচিত?

অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের মাত্রা কম থাকলে কিছু ভুল এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। প্রথমত, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট বা ঘরোয়া প্রতিকার গ্রহণ করবেন না। ইন্টারনেটে পাওয়া কোনো উপায় অবলম্বন করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এছাড়া, ফ্লুইডের মাত্রা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে জোর করে অতিরিক্ত জল পান করবেন না; বরং আপনার শরীরের প্রয়োজন এবং শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী তরল গ্রহণ করুন। যদি আপনার উচ্চ রক্তচাপ থাকে অথবা কিডনি বা হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকে, তবে কতটুকু তরল গ্রহণ করা উচিত তা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ধূমপান ও মদ্যপান থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক বা অন্য কোনো ওষুধ সেবন করবেন না, কারণ কিছু ওষুধ অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের মাত্রার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আল্ট্রাসাউন্ডে যদি অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের মাত্রা কম ধরা পড়ে, তবে পরবর্তী ফলো-আপ পরীক্ষাগুলো কখনোই বাদ দেবেন না।

এই লক্ষণগুলোকে উপেক্ষা করবেন না

অ্যামনিওটিক ফ্লুইড বা গর্ভস্থ তরলের পরিমাণ কমে যাওয়াকে (অলিগোহাইড্রামনিওস) সবসময় স্পষ্ট লক্ষণের মাধ্যমে বোঝা যায় না; প্রায়শই এটি কেবল আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষার মাধ্যমেই ধরা পড়ে। তবুও, কিছু সতর্কতামূলক লক্ষণের দিকে নজর রাখা জরুরি:

যোনিপথ দিয়ে ক্রমাগত জলীয় তরল নিঃসরণ হওয়া অথবা হঠাৎ প্রচুর পরিমাণে তরল বেরিয়ে আসা।

  • গর্ভস্থ শিশুর নড়াচড়া স্বাভাবিকের চেয়ে কম অনুভূত হওয়া।
  • পেটে ক্রমাগত ব্যথা বা খিঁচুনি অনুভব করা।
  • যোনিপথে রক্তপাত হওয়া।
  • জ্বর হওয়া অথবা যোনিপথ দিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব নির্গত হওয়া।

যদি আপনার যোনিপথ দিয়ে জলীয় তরল নিঃসরণ হয় অথবা শিশুর নড়াচড়া কমে গেছে বলে মনে হয়, তবে অবিলম্বে হাসপাতালে যোগাযোগ করুন বা আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পরবর্তী নির্ধারিত সাক্ষাতের (অ্যাপয়েন্টমেন্ট) জন্য অপেক্ষা করবেন না।

Read More- গর্ভাবস্থায় রক্তাল্পতার এই লক্ষণগুলো কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়, জানুন

অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের (গর্ভস্থ তরল) মাত্রা খুব কম হলে কি প্রসব কৃত্রিমভাবে শুরু করার (ইনডিউস করার) প্রয়োজন হতে পারে?

এটি নির্ভর করে গর্ভাবস্থার পর্যায় (কত সপ্তাহ চলছে), তরলের ঘাটতির তীব্রতা এবং শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর। যদি অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের মাত্রা অত্যন্ত কম থাকে বা তা শিশুর সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তবে চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে, শিশুকে সময়ের আগেই প্রসব করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ‘ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ আল্ট্রাসাউন্ড ইন অবস্টেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনোকোলজি’ (ISUOG)-এর মতে, অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের মাত্রা কম থাকলে শিশুর বৃদ্ধি, তার কিডনি ও মূত্রাশয়ের অবস্থা এবং রক্তপ্রবাহ পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে। গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে যদি সামান্য ঘাটতি ধরা পড়ে, তবে পরিস্থিতি প্রায়শই স্বাভাবিক থাকে।

এইরকম আরও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।

Back to top button