Odisha Flood Crisis: বন্যার কারণে পরিস্থিতির অবনতি, ৬টি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি! ওড়িশায় হোস্টেলে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করা হয়েছে
ওড়িশায় বন্যার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার ছয়টি জেলায় পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক।
Odisha Flood Crisis: বন্যার মধ্যে স্বস্তির খবর— ওড়িশায় হোস্টেলে আটকে পড়া ৩০০ শিক্ষার্থীকে নৌকায় করে উদ্ধার করা হয়েছে
হাইলাইটস:
- ওড়িশায় বন্যা পরিস্থিতি এখনও আরও গুরুতর
- রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে
- ওড়িশার বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে
Odisha Flood Crisis: ওড়িশায় বন্যা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। রাজ্যের বালেশ্বর, ভদ্রক, জাজপুর, কেন্দ্রপড়া, ময়ূরভঞ্জ ও কেওনঝড় জেলায় বন্যার প্রভাব অনুভূত হচ্ছে। বেশ কয়েকটি প্রধান নদীর জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করায় নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে এবং এর ফলে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে। এদিকে, কেন্দ্রপড়া জেলার একটি সরকারি আবাসিক বিদ্যালয়ে বন্যার মধ্যে আটকে পড়া প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
We’re now on Telegram- Click to join
৬টি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
ওড়িশায় বন্যার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার ছয়টি জেলায় পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় ওই এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়া সত্ত্বেও বেশ কয়েকটি নদীর জলের স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে; প্রতিবেশী ঝাড়খণ্ডের উজানের অববাহিকায় ভারী বৃষ্টির প্রভাব ওড়িশার নদীগুলোর ওপর পড়েছে। বালেশ্বর জেলায় রাজঘাটে সুবর্ণরেখা নদীর জলের স্তর বিপদসীমা অতিক্রম করায় জলেশ্বর, বাস্তা ও বালিয়াপালের মতো এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। জলকা নদীও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ভদ্রক ও জাজপুর জেলার পরিস্থিতিও সমানভাবে উদ্বেগজনক; সেখানে সালান্দি ও বৈতরণী নদীর জলের স্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রশাসন ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে।
We’re now on WhatsApp- Click to join
কেন্দ্রাপাড়ার একটি হোস্টেলে আটকে পড়েছেন ৩০০-এর বেশি শিক্ষার্থী
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়টি ছিল কেন্দ্রাপাড়া জেলার পট্টামুণ্ডাই ব্লকের কুলসাহিতে অবস্থিত সরকারি আবাসিক বিদ্যালয়টিকে ঘিরে। বন্যার জল বিদ্যালয়ের চত্বর ও হোস্টেলে ঢুকে পড়ায় প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সেখানে আটকে পড়েন। ব্রহ্মাণী নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যালয়ের নিচু অংশগুলো প্লাবিত হয়; ফলে শিক্ষার্থী ও অন্যান্য কর্মীদের ভবনের ওপরের তলায় সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখার পাশাপাশি তাঁরা বেশ কয়েক দিন ধরে ওই নিরাপদ স্থানে আটকে পড়ে থাকেন।
নৌকা ব্যবহার করে ODRAF-এর উদ্ধারকাজ
পরিস্থিতি খারাপের দিকে মোড় নিলে ওড়িশা ডিজাস্টার র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (ODRAF) একটি দলকে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। উদ্ধারকারী দলটি নৌকা ব্যবহার করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৫ সদস্যের ODRAF দলটিকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল এবং তিনটি নৌকা ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ চালানো হয়। পরবর্তীতে প্রশাসন পাঁচটি পাওয়ার বোট বা ইঞ্জিনচালিত নৌকার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও করে; জানা গেছে, প্রতিটি নৌকায় প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে বহন করার সক্ষমতা ছিল।
ছাত্রছাত্রীরা চার দিন ধরে বন্যার জলেতে আটকে পড়েছিল
স্কুলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা প্রায় চার দিন ধরে বন্যার জলের মধ্যে আটকে পড়েছিল। নদীর জলের দ্রুত বৃদ্ধি এবং তীব্র স্রোতের কারণে শুরুতে প্রশাসন তাৎক্ষণিক উদ্ধারকাজ চালাতে পারেনি। বুধবার নদীর জলের স্তর আরও বেড়ে গেলে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ODRAF-এর একটি দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। উদ্ধারকাজের আগে একটি মেডিকেল দল স্কুল পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে; এর ফলে প্রশাসন নিশ্চিত হতে পারে যে, দীর্ঘ সময় ধরে জলের মধ্যে আটকে পড়ে থাকা সত্ত্বেও তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ছিল।
ODISHA FLOOD CRISIS
Around 400 students stranded at a residential school in Kendrapara after floodwater entered the campus.
150 girls evacuated by boats
Girls shifted to safety in Aul
Brahmani River above danger markRescue teams remain on high alert. pic.twitter.com/CXfoMdpKOS
— Smriti Sharmaa (@SmritiSharma_) August 17, 2026
ছয়টি জেলায় লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত
বন্যার প্রভাব কেবল স্কুল বা কয়েকটি গ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; রাজ্যের ছয়টি জেলার বিপুল সংখ্যক মানুষ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসন নিচু এলাকা থেকে মানুষদের ক্রমাগত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওড়িশায় বন্যার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে সাড়ে ৩ লক্ষেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বহু গ্রাম ও পঞ্চায়েত এলাকায় বন্যার জল ঢুকে পড়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রাপাড়া ছাড়াও ভদ্রক জেলার বেশ কয়েকটি ব্লক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; ধামনগর, ভাণ্ডারিপোখারি, চাঁদবালি ও তিহিদি এলাকায় এখনো জলমগ্ন পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, শুধুমাত্র ধামনগর ব্লকেই প্রায় ২০ থেকে ২২টি পঞ্চায়েত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ত্রাণ শিবিরগুলোতে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে
প্রশাসন বন্যাদুর্গত মানুষদের ত্রাণসামগ্রী প্রদান করছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে শুকনো খাবার এবং বিনামূল্যে গণ-রান্নাঘরের (কমিউনিটি কিচেন) ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। যেসব এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, সেখানে নৌকা ও অন্যান্য উপায়ে ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। বন্যার মধ্যেও পানীয় জল, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশাসন সজাগ রয়েছে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তদারকি জোরদার করল প্রশাসন
বন্যা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ওড়িশা সরকার ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সতর্কাবস্থায় রেখেছে। মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝিও বন্যাদুর্গত এলাকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। এর আগে তিনি জাজপুর ও ভদ্রকের মতো ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো আকাশপথে পরিদর্শন করেছিলেন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের দ্রুত ত্রাণ সহায়তা প্রদান এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করার জন্য সরকার জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে।
বিপদ এখনও কাটেনি
বন্যাদুর্গত এলাকায় বিপদ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। বেশ কয়েকটি নদীর জলস্তর বিপদসীমার কাছাকাছি বা তার ওপর দিয়ে বইছে। উজানের এলাকা থেকে ক্রমাগত জল নেমে আসায় নিচু এলাকাগুলোতে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ফলে প্রশাসনের সামনে কেবল মানুষকে উদ্ধার করাই একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয়; বন্যার জল নেমে যাওয়ার পর স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ, সড়ক যোগাযোগ ও পানীয় জলের মতো জরুরি পরিষেবাগুলো পুনরুদ্ধার করাও একটি বড় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়াবে।
Read More- হরমুজ প্রণালীতে জট, ধ্বংস এনার্জি প্ল্যান্ট! ভারতে এবার কতটা বাড়ছে জ্বালানি সঙ্কট?
শিক্ষার্থীদের নিরাপদে উদ্ধার—বড় স্বস্তি
ওড়িশায় বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে কেন্দ্রপাড়ার একটি আবাসিক স্কুল থেকে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে নিরাপদে উদ্ধার করাটা বড় স্বস্তির বিষয় হয়ে এসেছে। বেশ কয়েক দিন ধরে বন্যার জলে আটকে থাকার পর নৌকা ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়। তবে রাজ্যের ছয়টি জেলায় পরিস্থিতি এখনও সংকটপূর্ণ। প্রশাসন ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রয়েছে এবং মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে নদীর জলস্তর ও আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি হবে।
এইরকম আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।







