Virat Kohli Fitness: মাঠে ফিট থাকতে ঠিক কতটা পরিশ্রম করেন কিং কোহলি? তাঁর খাদ্যতালিকা সম্পর্কে জেনে নিন
একটা সময় ছিল যখন বিরাট কোহলি বেশ ভোজনরসিক ছিলেন। তবে সময়ের সাথে সাথে তিনি তাঁর অভ্যাস পরিবর্তন করেছেন। এখন তাঁর খাদ্যতালিকা বেশ ভারসাম্যপূর্ণ এবং নিয়ন্ত্রিত। তিনি কী পরিমাণ খাবার খাচ্ছেন, পুষ্টি এবং তাঁর শরীরের চাহিদার দিকে বিশেষ মনোযোগ দেন।
Virat Kohli Fitness: বিরাট কোহলির ফিটনেস যাত্রা শুধু জিমে যাওয়ার মাধ্যমেই শুরু হয়নি, তিনি প্রথমে তাঁর খাদ্যাভ্যাসের দিকে মনোযোগ দেন
হাইলাইটস:
- বিরাট কোহলির ফিটনেসের রহস্য কী?
- তাঁর ডায়েট, ওয়ার্কআউট, খাদ্যাভ্যাস, ঘুম এবং রিকভারি সম্পর্কে জানুন
- তাঁর জন্মদিনে জানুন, কীভাবে তিনি নিজের জীবনধারা বদলে ফেলেছেন
Virat Kohli Fitness: বিরাট কোহলির নাম শুনলেই সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অসাধারণ ফিটনেস, বলিষ্ঠ শারীরিক গঠন এবং মাঠের ক্ষিপ্রতার ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। বিরাট কোহলি, যিনি ৫ই নভেম্বর তাঁর জন্মদিন পালন করেন, তিনি শুধু তাঁর খেলা দিয়েই নয়, বরং তাঁর ফিটনেস এবং জীবনযাত্রা দিয়েও লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করেছেন। তাঁর ফিটনেসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি হল, এটি কোনো জাদুকরী ডায়েট বা ব্যায়ামের ফল নয়, বরং বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের ফসল।
We’re now on WhatsApp – Click to join
একটা সময় ছিল যখন বিরাট কোহলি বেশ ভোজনরসিক ছিলেন। তবে সময়ের সাথে সাথে তিনি তাঁর অভ্যাস পরিবর্তন করেছেন। এখন তাঁর খাদ্যতালিকা বেশ ভারসাম্যপূর্ণ এবং নিয়ন্ত্রিত। তিনি কী পরিমাণ খাবার খাচ্ছেন, পুষ্টি এবং তাঁর শরীরের চাহিদার দিকে বিশেষ মনোযোগ দেন। তাঁর জন্মদিনে, চলুন জেনে নেওয়া যাক নিজেকে ফিট রাখতে বিরাট কোহলি কতটা পরিশ্রম করেন এবং তাঁর খাদ্যতালিকায় কী কী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
5️⃣6️⃣6️⃣ Intl. Matches & Counting 🫡
2️⃣8️⃣6️⃣0️⃣1️⃣ Intl. Runs & Counting 👏
8️⃣6️⃣ Intl. Centuries & Counting 👑Winner of ICC Men's ODI World Cup 2011, ICC Champions Trophy 2013 & 2025, and ICC Men's T20 World Cup 2024 🏆
Happy Birthday to one of the finest to ever grace the game,… pic.twitter.com/trAaZrw9LY
— BCCI (@BCCI) November 5, 2026
এভাবেই ফিটনেসের গল্প শুরু হয়েছিল
বিরাট কোহলির ফিটনেস যাত্রা শুধু জিমে যাওয়ার মাধ্যমেই শুরু হয়নি। তিনি প্রথমে তাঁর খাদ্যাভ্যাসের দিকে মনোযোগ দেন। একসময় তিনি ভাজা খাবার, আমিষ খাবার এবং মশলাদার খাবার পছন্দ করতেন। তবে, ফিটনেসকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি তাঁর খাদ্যাভ্যাসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনেন।
২০২৬ সালের জুলাই মাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন শেফ অরুণ চৌহান জানান যে, বিরাট একসময় ভোজনরসিক ছিলেন এবং তৈলাক্ত খাবার পছন্দ করতেন। পরে তিনি তাঁর ফিটনেসের দিকে মনোযোগ দিতে শুরু করেন। এখন তাঁর খাদ্যতালিকায় টোফু, স্যালাড, অঙ্কুরিত শস্য এবং ডালের মতো খাবার রয়েছে।
বিরাট নিজে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে ফিট থাকার জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত জরুরি। তাঁর মতে, শুধু জিমে কঠোর পরিশ্রম করলেই ফিটনেস অর্জন করা যায় না; খাদ্যাভ্যাসের উন্নতি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিরাট কোহলির খাদ্যাভ্যাসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল তিনি অতিরিক্ত তেলযুক্ত বা মশলাদার খাবার পছন্দ করেন না। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান যে, তার প্রায় ৯০ শতাংশ খাবারই স্টিম বা সেদ্ধ করা হয়ে থাকে।
তিনি খাবারে অতিরিক্ত মশলা দেন না। তিনি স্বাদ বাড়ানোর জন্য লবণ, গোলমরিচ এবং লেবু ব্যবহার করেন। তিনি স্যালাডও পছন্দ করেন। কড়াইতে ভাজা খাবারও তাঁর খাদ্যতালিকার একটি অংশ। বিরাট উল্লেখ করেছেন যে তিনি রাজমার মতো জিনিসও খান। পাঞ্জাবি হওয়ায় তিনি তাঁর খাদ্যতালিকা থেকে এই জিনিসগুলো পুরোপুরি বাদ দেন না। তাঁর খাদ্যাভ্যাসের মূল উদ্দেশ্য হল শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করা এবং অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি এড়ানো।
নিরামিষ খাবার, প্রোটিন ও সবজির উপর বিশেষ গুরুত্ব
২০১৮ সালের দিকে বিরাট কোহলি তাঁর খাদ্যাভ্যাসে একটি বড় পরিবর্তন আনেন এবং নিরামিষ খাবারকে প্রাধান্য দিতে শুরু করেন। ২০২১ সালে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেন যে তিনি নিরামিষাশী, ভেগান নন। ভেগান খাদ্যাভ্যাসে দুধ, দই, পনির এবং ডিমের মতো সমস্ত প্রাণীজ খাবার বর্জন করা হয়। নিজের খাদ্যাভ্যাসের বর্ণনা দিতে গিয়ে বিরাট শাকসবজি, কিছু ডিম, ডাল, কুইনোয়া এবং পালং শাকের কথা উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান যে তিনি দুই কাপ কফি পান করেন এবং ধোসা খেতে ভালোবাসেন। তবে, তিনি এই সমস্ত খাবারই সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করেন।
প্রোটিন তাদের খাদ্যের একটি প্রধান উপাদান। নিরামিষ খাবার থেকেও পর্যাপ্ত প্রোটিন পাওয়া সম্ভব। মসুর ডাল, সয়াবিন, টোফু, রাজমা, কালো মটর, শিম এবং অন্যান্য প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার ভালো বিকল্প।
বিরাট ছয় মাস ধরে একই খাবার খেতে পারে
বিরাট কোহলির ফিটনেসের একটি প্রধান রহস্য হল তাঁর খাদ্যাভ্যাসে ধারাবাহিকতা। তিনি একবার এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, তিনি কোনো সমস্যা ছাড়াই টানা ছয় মাস দিনে তিনবার একই খাবার খেতে পারেন। তাঁর মতে, তাঁর ফিটনেস যাত্রার সবচেয়ে কঠিন অংশ হলো খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা। জিমে যাওয়া এবং ব্যায়াম করা অনেকের জন্য সহজ হতে পারে, কিন্তু নিজের স্বাদ নিয়ন্ত্রণ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং।
তবে, এর মানে এই নয় যে তিনি তাঁর পছন্দের খাবার খান না। বিরাট এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে তিনি ছোলে ভাটুরে খুব ভালোবাসেন। সুযোগ পেলেই তিনি এটি উপভোগ করেন, কিন্তু এই ধরনের খাবার তাঁর দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অংশ নয়।
বিরাট কোহলি জিমে কতটা কঠোর পরিশ্রম করেন?
বিরাটের ফিটনেস শুধু তার খাদ্যাভ্যাসের উপরই নির্ভরশীল নয়। তিনি ব্যায়াম এবং অনুশীলনকেও তাঁর দৈনন্দিন রুটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন। তাঁর প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে শক্তি প্রশিক্ষণ, কার্ডিও, ক্ষিপ্রতার ব্যায়াম এবং সহনশীলতা বাড়ানোর ব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শক্তি প্রশিক্ষণ: শরীরের পেশীগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য ভারোত্তোলন এবং অন্যান্য শক্তি-বর্ধক ব্যায়াম করা হয়। এর ফলে শক্তি ও সহনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
কার্ডিও ব্যায়াম: দৌড়ানো এবং অন্যান্য অ্যারোবিক কার্যকলাপ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।
ক্ষিপ্রতার ব্যায়াম: লাফানো, এক পায়ে ঝাঁপানো এবং ক্ষিপ্রতা বাড়ানোর অনুশীলনের মতো ব্যায়াম শরীরের ভারসাম্য, সমন্বয় এবং গতি উন্নত করে।
পুনরুদ্ধারমূলক ব্যায়াম: কঠোর প্রশিক্ষণের পর শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া অপরিহার্য। এর মধ্যে স্ট্রেচিং, গতিশীলতা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের ওপর মনোযোগ দেওয়া অন্তর্ভুক্ত।
Read more:- লন্ডনের রাস্তায় দেখা মিলল বিরাট ও অনুষ্কার, ছেলে অকায়কে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তারকা জুটি
ঘুম এবং পুনরুদ্ধারকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়
ভালো ফিটনেসের জন্য শুধু খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়ামই যথেষ্ট নয়। পর্যাপ্ত বিশ্রামও অপরিহার্য। বিরাট কোহলি এই বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখেন। তিনি বলেন যে, কঠোর প্রশিক্ষণের পর শরীরকে সেরে ওঠার জন্য সময় দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম পেশিগুলোকে সেরে উঠতে এবং শরীরকে শক্তি ফিরে পেতে সাহায্য করে। বিরাট সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে তিনি কখনোই নিজের ঘুম এবং শরীরের চাহিদাকে অবহেলা করেন না। তিনি তাঁর দৈনন্দিন রুটিনে ধ্যান এবং মননশীলতার মতো কার্যকলাপও অন্তর্ভুক্ত করেন।
এই রকম ফিটনেস সম্পর্কিত প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।







