This Independence Day:এই স্বাধীনতা দিবসে কিছু বিশেষ উদ্যোগ!

This Independence Day:এই স্বাধীনতা দিবসে কিছু বিশেষ উদ্যোগ!

হাইলাইটস:

  • জল সংরক্ষণ
  • বৃক্ষরোপণ
  • বিস্তারিত আলোচনা

This Independence Day:এই স্বাধীনতা দিবসে কিছু বিশেষ উদ্যোগ!

স্বাধীনতা দিবস ২০২২ সারা দেশে মহান উদ্দীপনা সাথে পালিত হয়।এটি নিছক একটি দিন বা একটি অনুষ্ঠান ১৩০ কোটিরও বেশি ভারতীয়দের জন্য একটি জাতীয় উৎসব।

ঔপনিবেশিক শক্তির হাত থেকে আমাদের দেশের স্বাধীনতার জন্য যারা লড়াই করেছিলেন তাদের জন্য দিবসটি স্মরণ করা হয়।বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে স্বাধীনতার সাথে বৈচিত্র্য,ভ্রাতৃত্ব এবং ত্রিবর্ণের সৌন্দর্যের জন্য লোকেরা এটি উদযাপন করে।দেশের মানুষকে বন্যায় প্রাণ হারাতে,পানির অভাবে জীবনযাপন করতে,অক্সিজেনের সঙ্গে বিষের শ্বাস নিতে দেখতে মুক্তিযোদ্ধারা জীবন দেননি।

তাঁরা চেয়েছিলেন একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ স্বাধীন ভারত। সত্যি কথা বলতে কি আজ যদি তারা আমাদের সুন্দর পৃথিবীকে কলুষিত করতে দেখে, তাহলে তাঁরা ভাবতে পারে যে তাদের আত্মত্যাগ বৃথা ছিল।যখন আমরা স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্ণ করছি,এটি একটি উদযাপনের মুহূর্ত এবং আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আমরা কী পৃথিবীতে ছেড়ে যাচ্ছি তা স্বীকৃতি দেওয়ার একটি মুহূর্ত।

একটি নতুন মূল্যায়ন অনুসারে,দিল্লি হল বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত মহানগর,যেখানে ২০২০ সালে বায়ুর মানের দিক থেকে ভারত ১০৬ টি দেশের মধ্যে তৃতীয়-নিকৃষ্টতম স্থানে রয়েছে৷সুইস প্রযুক্তি কোম্পানি IQAir দ্বারা প্রকাশিত বিশ্ব বায়ুর গুণমানের প্রতিবেদন অনুসারে ভারতের ২২টি রআজ্য রয়েছে যা বিশ্বের শীর্ষ ৩০টি সবচেয়ে দূষিত শহরের মধ্যে কিছু।এই জন্যই কি আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা জীবন দিয়েছেন?

দেশ বদলানোর সময় এসেছে।২০২২সালের ৭৬ তম স্বাধীনতা দিবসে যখন আমাদের দেশ ১৯৪৭ থেকে অনেক দূর এগিয়েছে,আসুন একটি ভালো আগামীকাল,একটি ভালো ভারতের জন্য একটি অঙ্গীকার করি।পরিবেশ সংরক্ষণে জন্য আমরা কী কী করতে পারি।

১.জল সংরক্ষণ:

যতটা পরিমাণ জল তুমি আজকে সংরক্ষণ করবে ততটা পরিমাণ জল তোমার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বেঁচে থাকবে। পৃথিবীর মাত্র এক শতাংশ জলই খাওয়ার উপযোগ্য সেই জন্য আমাদের সব সময় জলের ব্যবহার ভেবেচিন্তে করা উচিত।ব্রাশ এবং দৈনন্দিন জীবনে নানা কাজে জলের ব্যবহারের পরিমাণ কমানো উচিত কিন্তু শরীরের যতটা পরিমাণ জলের দরকার ততটা জল পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব না হলে শারীরিক অসুস্থতা ঘটতে পারে এবং তাছাড়াও টয়লেট এবং জামাকাপড় ধোঁয়া এই সমস্ত কাজে আমরা জলের ব্যবহার কিছুটা কমাতে পারি প্রয়োজনের অতিরিক্ত জল ব্যবহার না করে।

২. বৃক্ষরোপণ:

এটা বোধগম্য যে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সাথে চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে সেই কারণে অনেক রকম ভাবে বৃক্ষচ্ছেদ হচ্ছে।তবে প্রতিদিন যত গাছ কাটা হয় তার তিনগুণ রোপণ করি তবেই আমরা আমাদের এই ক্ষতি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবো।যদিও আপনি এটি জানেন শুধুমাত্র আপনাকে দোষী বোধ করানোর জন্য আমরা আপনাকে এটা বলব না গাছগুলি কতটা গুরুত্বপূর্ণ আমাদের সকলের জন্য।আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন দরকার এবং গাছ তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।একটি গাছ থেকে বছরে ১১৭ কেজি অক্সিজেন পাওয়া যায়।

বলা হয় যে দুটি গাছ চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য যথেষ্ট অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে। তারা খাদ্য,পরিষ্কার জল এবং বায়ু সরবরাহ করে এবং পাতা দ্বারা বাতাসে জলীয় বাষ্প ছেড়ে তাপমাত্রা পরিষ্কার রাখে।গাছ জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে লড়াই করে, বন্যপ্রাণীদের বাসস্থানে সাহায্য করে,মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং আরও অনেক কিছু।

৩. প্লাস্টিক ব্যবহারে সচেতনতা:

নদীকে দূষণ থেকে রোধ করতে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো খুবই জরুরি।প্লাস্টিকও কৃত্রিম বন্যা সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ।ইন্দোনেশিয়ার হ্যাপি রিভার এতটাই প্লাস্টিকে পরিপূর্ণ যে আপনি জলও দেখতে পারবেন না।আমরা আপনাকে প্লাস্টিকের ব্যাগ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিতে পারি এবং শাকসবজি এবং ফল কেনার সময় পাটের ব্যাগ এবং কাপড়ের ব্যাগ দিয়ে তৈরি পুনঃব্যবহারযোগ্য ব্যাগ ব্যবহার করতে পারি।

৪. বেশি মেশিন চালিত যানবাহনে জায়গায় সাইকেলের ব্যবহার করা:

পেট্রোল ও ডিজেলে চালিত মোটরযান বিষাক্ত বাতাসের অন্যতম কারণ।মোটর গাড়ি পরিবেশে কার্বন ডাই অক্সাইড ছেড়ে দেয় যা বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণ হয়।আমরা আপনাকে কম দূরত্বের জন্য একটি সাইকেল ব্যবহার করার পরামর্শ দিই।এটি কেবল পরিবেশকে সাহায্য করবে না বরং আপনাকে ফিটও রাখবে।অফিসে যাওয়ার সময় কারপুল করার চেষ্টা করুন এবং পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করুন।

৫. নদী নালা সমুদ্র মহাসমুদ্র থেকে নোংরা পরিষ্কার করুন:

আমাদের চারিদিকে প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিকের জিনিস ব্যবহার করা হয় কিন্তু সেই কারণে প্লাস্টিক গুলি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে যেতে পারে না এবং চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে, জলে এবং সমস্ত জায়গায় রাসায়নিক বিক্রিয়া করে দূষিত করছে জল ও বাতাস কে। সেই কারণে আমাদের যথাযথভাবে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে হবে এবং যেখানে প্লাস্টিক বা এরকম নোংরা পদার্থ বেশি আছে সেখান থেকে নোংরা গুলোকে পরিষ্কার করে জলগুলিকে শুদ্ধ করতে হবে। তৎকালীন সময়ে সরকার প্লাস্টিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঠিকই কিন্তু আগেকার সমস্ত প্লাস্টিকের পরিমাণ আমাদের পরিবেশের জন্য এখনো ক্ষতি কর হয়ে রয়েছে।

৬.শক্তি সাশ্রয়ী বাল্ব ব্যবহার করুন:

আমাদের একটি ছোট উদ্যোগ আমাদের জন্য একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে।সেই কারণে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে আমরা বৈদ্যুতিক সাশ্রয় বা পরিবেশ বান্ধব জিনিসের প্রতি বেশি নজর দেওয়া উচিত।যেমন দরকার ছাড়া ইলেকট্রিসিটির ব্যবহার না করা যাতে পরিবেশে ভারসাম্য যথাযথ বজায় থাকবে এলইডি লাইট ব্যবহার করা সিএফএল এর জায়গায় কারণ এতে বৈদ্যুতিক সাশ্রয় ঘটে।এলইডি লাইট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে সাহায্য করে।এগুলি পারদ-মুক্ত,কম তাপ উৎপন্ন করে এবং সিএফএল বাল্বের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হয়।ক্ষতিকারক নির্গমন রোধ করার জন্য সোলার লাইটগুলিও একটি দুর্দান্ত বিকল্প।

৭.কাগজের ব্যবহার কমানো:

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কাগজপত্রের ব্যবহার প্রচুর,কাগজপত্র সাধারণত গাছ থেকে আসে এই জন্য প্রচুর পরিমাণে গাছের ক্ষতি হয় যেখান থেকে আমাদের অক্সিজেনের প্রাপ্তির মাত্রা ও কমে যাচ্ছে সেই জন্য আমাদেরকে খুব দরকার ছাড়া কাগজ নষ্ট করা বন্ধ করতে হবে।

এইরকম নানা পরিবেশ বান্ধব পদগুলিকে আমাদেরকে বেছে নিতে হবে যদি আমরা আমাদের পরিবেশকে সুস্থ সবল রাখতে চাই। এটা একা মিলে সম্ভব হবে না চলুন একত্রিতভাবে আমরা পরিবেশকে রক্ষা করি।

এইরকম বিশেষ তথ্য সম্পর্কিত প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ড নিউজ বাংলায় নজর রাখুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.