Nepal Flash Flood: হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপাল! লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, কেন এই ভয়ঙ্কর ধ্বংসলীলার কবলে পড়ল নেপাল?
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে একাধিক সেতু ধ্বংস হয়েছে, বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজও ব্যাহত হয়েছে। জানা যাচ্ছে, এখনও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
Nepal Flash Flood: হড়পা বানে নেপালের একাধিক জেলা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, নিখোঁজ শতাধিক
হাইলাইটস:
- নেপাল এবং চিনের তিব্বত অঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা বিধ্বংসী হড়পা বান ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত হওয়ার ভয়াবহ পরিচিতি দেখা দিয়েছে নেপালে
- ভোটেকোশী নদীর হড়পা বানে ইতিমধ্যেই ১৬০ জনেরও বেশি মৃত্যুর খবর জানিয়েছে কাঠমান্ডু প্রশাসন
- ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় মৃত নিখোঁজের তালিকা দীর্ঘতর হতে পারে
Nepal Flash Flood: আবার হড়পা বান-বিপর্যয় হিমালয়ে। বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোটেকোশী নদীতে হঠাৎই হড়পা বান নামে। তিব্বতের সীমান্ত লাগোয়া এই এলাকায় তার আগে হয় ভূমিকম্প এবং তুষারধস। গতকাল নেপাল এবং চিনের তিব্বত অঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা বিধ্বংসী হড়পা বান ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত হওয়ার পর অন্তত ১৬০ জনেরও বেশি মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে একাধিক সেতু ধ্বংস হয়েছে, বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজও ব্যাহত হয়েছে। জানা যাচ্ছে, এখনও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
We’re now on WhatsApp – Click to join
নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পর নেপালের ভোটেকোশি নদীতে হড়পা বান নেমে আসে। নেপালের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্প হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই বন্যার খবর পাওয়া যায়। এর ফলে কোনও হিমবাহ-উৎপন্ন আকস্মিক জলস্রোত এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত করে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভূ-বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, পাথর ও বরফের স্তূপে নদীর গতিপথ অবরুদ্ধ হওয়ার ফলেই ঘটেছে এই ভয়াবহ বিপর্যয়।
🇳🇵 Deeply saddened by the devastating tragic floods in Nepal. 🙏🏻
The massive flash floods have caused widespread destruction, affecting communities, homes and infrastructure and leaving many families in distress.
My thoughts and prayers are with everyone affected in this… pic.twitter.com/sD38Z1GSqM
— Sonal Goel IAS 🇮🇳 (@sonalgoelias) August 26, 2026
ভোটেকোশী নদীর হড়পা বানে ইতিমধ্যেই ১৬০ জনেরও বেশি মৃত্যুর খবর জানিয়েছে কাঠমান্ডু প্রশাসন। এছাড়াও ২৯১ বিদেশি-সহ অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটকের কোনও খোঁজ মিলছে না। তাদের মধ্যে প্রায় ১৩৩ জন ভারতীয়। তাদের খোজে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। জানা যাচ্ছে, সকলেই কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনের জন্য যাচ্ছিলেন। হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের নুয়াকোট এবং ধারিং জেলাও। এদিকে কাদামাটির প্রবল স্রোতে বিপর্যয় ও প্রাণহানির খবর এসেছে নেপাল সীমান্ত লাগোয়া তিব্বতের স্থলবন্দর জিরঙেও। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় মৃত নিখোঁজের তালিকা দীর্ঘতর হতে পারে।
সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর থেকে নেপাল-সহ হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহগুলিতে বরফ ক্ষয়ের হার দ্বিগুণ হয়েছে। এর ফলে হিমবাহগুলির নীচের দিকে বসবাসকারী প্রায় ২০ লক্ষ মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। গত বছর নেপালের এই অঞ্চলে একটি অনুরূপ বন্যার উৎস ছিল প্রতিবেশী তিব্বতে একটি হিমবাহ-উৎপন্ন হ্রদের আকস্মিক বিস্ফোরণ। তবে এই বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে এমন কোনও আকস্মিক জলস্রোত আদৌ কোনও ভূমিকা পালন করেছে তা জানা যাচ্ছে না।
Read more:- নেপালের বন্যায় নিহত ৭ জন, চীন সীমান্তের কাছে মোতায়েন থাকা ৯ জন সেনাও নিখোঁজ
সাম্প্রতিক আবহাওয়ার পরিস্থিতিও সম্ভবত নেপালের এই বন্যা বিপর্যয়ে বড় কোনও ভূমিকা পালন করেনি। শুধু তাই নয়, গত এক সপ্তাহে ওই এলাকার আশপাশে ব্যাপক ও তীব্র বৃষ্টিপাতের কোনও ঘটনা লক্ষ্য করা যায়নি। তবে বর্ষার কারণে সৃষ্ট ঝড়বৃষ্টির জন্য এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালই বছরের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়। জানা যাচ্ছে, গত এক সপ্তাহে এমন ঝড়বৃষ্টি হয়েছে ওই এলাকায়। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে হওয়া এই মরশুমি বৃষ্টি এবং তুষার গলা জলের সম্মিলিত প্রভাবে আশেপাশের নদীগুলিতে জলের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই রকম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।







