Amit Shah: ‘তোষণনীতির খাতিরেই বন্দে মাতরমকে ভাগ করা হয়েছিল’ — কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযোগ আনলেন অমিত শাহ
অমিত শাহ বলেছিলেন যে, কংগ্রেস ‘বন্দে মাতরম’-এর মাত্র দুটি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন যে, কংগ্রেসের এই অবস্থানের সাথে ১৯৩৭ সালের একটি সিদ্ধান্তের যোগসূত্র রয়েছে
Amit Shah: ‘বন্দে মাতরম’-এর কেবল প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন অমিত শাহ
হাইলাইটস:
- জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে
- কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়েছে
- কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন অমিত শাহ
Amit Shah: জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-কে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছে। দলীয় অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর কেবল প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার বিষয়ে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (CWC) সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। ২০শে আগস্ট, তামিলনাড়ুর চেঙ্গলপাট্টুতে আয়োজিত ‘সাউদার্ন জোনাল কাউন্সিল’-এর বৈঠকে শাহ এই সিদ্ধান্তকে ‘দেশবিরোধী’ বলে অভিহিত করেন এবং অভিযোগ করেন যে, দলটি আবারও তোষণ-নীতির পথে ফিরে যাচ্ছে।
We’re now on Telegram- Click to join
অমিত শাহ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ এনেছিলেন?
অমিত শাহ বলেছিলেন যে, কংগ্রেস ‘বন্দে মাতরম’-এর মাত্র দুটি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন যে, কংগ্রেসের এই অবস্থানের সাথে ১৯৩৭ সালের একটি সিদ্ধান্তের যোগসূত্র রয়েছে, যখন দলটি ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে পরিবর্তন এনেছিল। শাহ দাবি করেন, ১৯৩৭ সালে মুসলমানদের তুষ্ট করার লক্ষ্যে কংগ্রেস ‘বন্দে মাতরম’-কে দুটি ভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং এই পদক্ষেপটি দেশভাগের পথ প্রশস্তকারী পরিস্থিতিকে আরও জোরদার করেছিল। তাঁর মতে, এই সময়েই ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ জোরদার হয়ে ওঠে, যা শেষ পর্যন্ত দেশভাগের দিকে নিয়ে যায়। তবে এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, কংগ্রেসের ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্ত এবং ভারত বিভাগের মধ্যে সরাসরি কার্য-কারণ সম্পর্ক স্থাপন করাটা অমিত শাহের একটি রাজনৈতিক দাবি; এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিও রয়েছে।
We’re now on WhatsApp- Click to join
১৯৩৭ সালে কী ঘটেছিল?
‘বন্দে মাতরম’ গানটি মূলত বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচনা করেছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় এই গানটি জাতীয়তাবাদী চেতনার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকে পরিণত হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে কংগ্রেসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এটি নিয়মিত গাওয়া হতো। ১৯৩৭ সালে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ‘বন্দে মাতরম’-এর নির্দিষ্ট কিছু অংশ নিয়ে আলোচনা হয়। সে সময় দলটি মূলত গানটির প্রথম দুটি স্তবক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়; ধর্মীয় অনুভূতি এবং সব সম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে চলার প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি একটি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিজেপি বিষয়টিকে কংগ্রেসের ‘তোষণ নীতি’র সাথে যুক্ত করে দেখে, অন্যদিকে কংগ্রেসের দাবি হলো, তারা কেবল তাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটিই মেনে চলছে।
মোদী সরকারও বিষয়টি উত্থাপন করেছে
অমিত শাহ বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার ‘বন্দে মাতরম’ সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের পরিস্থিতি সংশোধনের প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ সংস্করণকে যথাযথ সম্মান জানানোর এবং এর পূর্ণাঙ্গ পরিবেশনাকে উৎসাহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শাহ কংগ্রেস দলের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করার অভিযোগ আনেন। তাঁর মতে, ‘বন্দে মাতরম’ কেবল একটি গান নয়, বরং এটি স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি প্রতীক। তিনি সেই সব স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কথাও স্মরণ করেন, যাঁরা স্বাধীনতার লড়াইয়ের সময় ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগান দিয়েছিলেন এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছিলেন।
রাহুল গান্ধীর কংগ্রেসকে নিশানা
নিজের বক্তব্যে অমিত শাহ কংগ্রেস দলের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস আবারও তোষণ-নীতির পথে হাঁটছে। বিজেপির মতে, জাতীয় গানের সম্পূর্ণ সংস্করণের পরিবর্তে কেবল দুটি স্তবককে প্রাধান্য দেওয়াটা জাতীয় আবেগের সঙ্গে জড়িত একটি বিষয়ে রাজনৈতিক আপস করার শামিল। বিজেপির আরও কয়েকজন নেতাও এই বিষয়ে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (CWC) গৃহীত প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন।
कांग्रेस कार्यसमिति ने 'वंदे मातरम्' के पूर्ण गान की जगह केवल दो अंतरे गाने का जो फैसला लिया है, वह न केवल देशविरोधी है, बल्कि संसद के बनाए कानून की खुली अवहेलना भी है।
1937 में तुष्टीकरण के लिए कांग्रेस ने ही 'वंदे मातरम्' के दो टुकड़े किए। वहीं से दो-राष्ट्र सिद्धांत को ताकत… pic.twitter.com/VCGhnro8Wc
— Amit Shah (@AmitShah) August 20, 2026
বিজেপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করল কংগ্রেস
এদিকে, কংগ্রেস বিজেপির অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। দলটির দাবি, ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে তাদের অবস্থান একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া এবং একে ‘তোষণ-রাজনীতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা ভুল। কংগ্রেস নেতাদের যুক্তি অনুযায়ী, ১৯৩৭ সালে মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু এবং সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মতো নেতাদের মধ্যে ‘বন্দে মাতরম’-এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। দলটির বক্তব্য হলো, তারা কেবল সেই ঐতিহাসিক ব্যবস্থাই বজায় রেখেছে। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা ‘বন্দে মাতরম’ ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিজেপিকে রাজনীতিকরণের অভিযোগও করেছেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় বিভিন্ন নেতার মতামতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, দেশপ্রেম কোনো একক রাজনৈতিক দলের একচ্ছত্র সম্পত্তি নয়।
গোয়ার বৈঠককে কেন্দ্র করে বিতর্ক
‘বন্দে মাতরম’ সংক্রান্ত বিতর্কটি কেবল কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (CWC) সিদ্ধান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সম্প্রতি গোয়ায় আয়োজিত কংগ্রেসের একটি বৈঠকের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপি দলটিকে নিশানা করেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, ওই বৈঠকে—যেখানে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন—সেখানে ‘বন্দে মাতরম’-এর কেবল প্রথম দুটি স্তবক গাওয়া হয়েছিল। বিজেপি বিষয়টিকে কংগ্রেসের মানসিকতার নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরেছে। এদিকে, গোয়া কংগ্রেসের বিধায়ক এলটন ডি’কোস্টা মন্তব্য করেছেন যে, কারও কাছে নিজেদের দেশপ্রেমের প্রমাণ দেওয়ার প্রয়োজন কংগ্রেসের নেই।
১৫ই আগস্টের পর বিতর্ক আরও তীব্র
স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অভিযোগ ও পাল্টা-অভিযোগের জেরে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে চলমান বিতর্ক আরও জোরালো হয়ে ওঠে। ১৫ই আগস্ট কংগ্রেস সদর দপ্তরে পতাকা উত্তোলনের পর ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে কিছু দাবি খারিজ করে কংগ্রেস জানায় যে, দলীয় সদর দপ্তরে জাতীয় গানটির সম্পূর্ণ অংশই গাওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে গোয়ায় আয়োজিত একটি বৈঠক এবং কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (CWC) অবস্থান এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ককে পুনরায় উসকে দেয়।
বিজেপির দাবি: তোষণ-রাজনীতি আর বরদাস্ত করা হবে না
বিজেপি নেতাদের মতে, ‘বন্দে মাতরম’ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এর প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়ে কোনো আপস করা উচিত নয়। দলের নেতারা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘ভোট-ব্যাংক’ রাজনীতির অভিযোগ তুলেছেন। অমিত শাহ আরও ঘোষণা করেছেন যে, দেশে তোষণ-রাজনীতি আর চলবে না। কংগ্রেসের সমালোচনা করে তিনি দলটির এই সিদ্ধান্তকে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের প্রেক্ষাপটে বিচার করার আহ্বান জানান এবং এই বিষয়ে কংগ্রেসের অবস্থানের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার কথা বলেন।
Read More- জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’কে অসম্মান সোনিয়া গান্ধীর? কংগ্রেস নেত্রীর বিরুদ্ধে এবার অভিযোগ দায়ের বিজেপির
এই বিষয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা
‘বন্দে মাতরম’ সংক্রান্ত বিষয়টি এখন আর কেবল গানটি গাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি কংগ্রেসের ১৯৩৭ সালের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, স্বাধীনতা আন্দোলন, ধর্মীয় অনুভূতি, জাতীয়তাবাদ এবং তোষণ-রাজনীতির মতো বিভিন্ন বিষয়ের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। বিজেপি যেখানে কংগ্রেসের বর্তমান সিদ্ধান্তের সাথে তাদের অতীতের অবস্থানের তুলনা টেনে আক্রমণ শানাচ্ছে, সেখানে কংগ্রেস বিষয়টিকে ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও সর্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে তুলে ধরছে। ফলে, আগামী দিনগুলোতে সংসদ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মঞ্চে এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এইরকম আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।







