Katrina Kaif Mother: ক্যাটরিনা কাইফের মা বেছে নিয়েছেন এক সাধারণ জীবন, লন্ডন ছেড়ে মাদুরাইতে বসবাস শুরুর পেছনে রয়েছে এক বিশেষ কারণ
সুজান টারকোটের এই যাত্রার সূচনা হয় ২০০৮ সালে। সে সময় তিনি লন্ডনে বসবাস করছিলেন, কিন্তু সেখানকার আরামদায়ক জীবন ছেড়ে তামিলনাড়ুতে চলে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
Katrina Kaif Mother: মাদুরাইতে শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে লন্ডন ছাড়লেন ক্যাটরিনা কাইফের মা
হাইলাইটস:
- অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফের মা হলেন সুজান টারকোট
- যিনি নিজের জীবনের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথ বেছে নিয়েছেন
- ক্যাটরিনা কাইফের মায়ের সিদ্ধান্তের নৈপথ্যে কি কারণ?
Katrina Kaif Mother: বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ তাঁর চলচ্চিত্র, জমকালো জীবনযাপন এবং বিপুল সম্পদের জন্য পরিচিত হলেও, তাঁর মা সুজান টারকোট নিজের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথ বেছে নিয়েছেন। ক্যাটরিনার জীবন যেখানে মুম্বাই ও চলচ্চিত্র জগতের চাকচিক্য ও গ্ল্যামারের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, সেখানে তাঁর মা তামিলনাড়ুর মাদুরাইয়ের কাছে এক গ্রামীণ এলাকায় অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করছেন। সেখানে তাঁকে প্রায়ই বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ইন্টারনেট সংযোগের সমস্যা এবং তীব্র গরমের মতো প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়। তা সত্ত্বেও, সেই এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পরিবর্তে তিনি সেখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও সমাজসেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।
We’re now on Telegram- Click to join
সুজান টারকোটের এই যাত্রার সূচনা হয় ২০০৮ সালে। সে সময় তিনি লন্ডনে বসবাস করছিলেন, কিন্তু সেখানকার আরামদায়ক জীবন ছেড়ে তামিলনাড়ুতে চলে আসার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর উদ্দেশ্য বিলাসিতা থেকে দূরে সরে যাওয়া ছিল না, বরং গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মাঝে কাজ করাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি প্রথমে সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে সান্ধ্যকালীন পাঠদানের মাধ্যমে তাঁর কার্যক্রম শুরু করেন। ধীরে ধীরে এই উদ্যোগটি আরও ব্যাপক পরিসরের সমাজসেবামূলক কাজে রূপান্তরিত হয়। ‘রিলিফ প্রজেক্টস ইন্ডিয়া’ নামক একটি সংস্থার মাধ্যমে সুজান শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু সুরক্ষা এবং গ্রামীণ জনপদ উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেন। তিনি বিশেষ করে এমন শিশুদের ওপর মনোযোগ দেন যাদের মানসম্মত শিক্ষা-সুবিধা পাওয়ার সুযোগ সীমিত ছিল। আজও তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে গ্রামীণ শিশুদের ভবিষ্যৎ উন্নত করার লক্ষ্যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
We’re now on WhatsApp- Click to join
কেন এমন একটি সাধারণ জীবন বেছে নিলেন?
সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো: লন্ডনের আরামদায়ক জীবন ছেড়ে সুজান কেন মাদুরাইয়ের একটি গ্রামীণ এলাকাকে বেছে নিলেন? এর উত্তর লুকিয়ে আছে সমাজসেবার প্রতি তাঁর নিষ্ঠার মধ্যে। ক্যাটরিনা নিজেও প্রায়শই তাঁর মায়ের দাতব্য কার্যক্রম এবং আর্তমানবতার সেবায় তাঁর আগ্রহের কথা উল্লেখ করেছেন। ক্যাটরিনার মতে, অন্যের সহায়তা করা তাঁর মায়ের জন্য কোনো নতুন বিষয় নয়; বরং এটি দীর্ঘকাল ধরেই তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে। আর তাই, বিলাস-ব্যসনে ভরা জীবনের পরিবর্তে তিনি এমন একটি স্থান বেছে নিয়েছেন, যেখানে তিনি সরাসরি শিশু ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করতে পারেন।
সুজান যে গ্রামীণ এলাকায় থাকেন, সেখানে জীবনযাপন সহজ নয়। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে প্রায়ই দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে এবং ইন্টারনেট সংযোগও সীমিত। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে ক্যাটরিনা জানিয়েছিলেন যে, এমন সময়ও গেছে যখন তিনি তাঁর মায়ের সঙ্গে ভিডিও কল করতে পারতেন না; বিদ্যুৎ বা ইন্টারনেট না থাকলে তাঁরা সাধারণ ফোন কলের মাধ্যমেই যোগাযোগ করতেন। গ্রীষ্মকালে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার (এসি) মতো সুযোগ-সুবিধা নেই। তা সত্ত্বেও, সুজান এই জীবনযাত্রাকেই আপন করে নিয়েছেন। ক্যাটরিনার মতে, মানুষের সহায়তা করার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তাঁর মা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মাউন্টেন ভিউ স্কুলের যাত্রা শুরু
মাউন্টেন ভিউ স্কুল সুজানের সমাজসেবামূলক কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ২০১৫ সালে এই স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যে এটি একটি ছোট নার্সারি স্কুল হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। সময়ের সাথে সাথে এর পরিধি বৃদ্ধি পায় এবং শত শত শিশু এখানে শিক্ষা গ্রহণ করতে শুরু করে। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে এই স্কুলে ৩০০-রও বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। সুজানের দীর্ঘদিনের সমাজসেবামূলক কাজের ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানটি একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
ক্যাটরিনা কাইফ তাঁর মায়ের কাজকেও অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি একাধিকবার তাঁর মায়ের সমাজসেবামূলক কাজের কথা বলেছেন এবং জানিয়েছেন যে, ছোটবেলা থেকেই তিনি তাঁর মাকে অভাবী মানুষের সহায়তা করতে দেখেছেন—এমন এক পরিবেশই তাঁর নিজস্ব মানসিকতা গঠনে ভূমিকা রেখেছে। ক্যাটরিনা আরও উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর শৈশব খুব একটা বিলাসবহুল ছিল না; কারণ সন্তানদের বড় করে তোলার পাশাপাশি তাঁর মা সমাজসেবাকেই অগ্রাধিকার দিতেন। এই অভিনেত্রীর মতে, তাঁর মায়ের জনহিতকর কাজ ও আশীর্বাদ তাঁর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি আটজন সন্তানকেও বড় করে তুলেছেন। সুজানের জীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তাঁর আট সন্তানকে বড় করে তোলা; তাঁর জীবনে পরিবার ও সমাজসেবা—উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এমনকি ক্যাটরিনা কাইফসহ সন্তানদের বড় করার পাশাপাশি তিনি তাঁর সমাজসেবামূলক কাজও চালিয়ে গেছেন। এ কারণেই ক্যাটরিনা তাঁর মায়ের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর জন্য গর্ববোধ করেন: একদিকে মেয়ে যখন বলিউডে নিজের জন্য এক স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলেছেন, অন্যদিকে মা—ক্যামেরা ও গ্ল্যামারের জগত থেকে দূরে থেকে—গ্রামীণ শিশুদের শিক্ষাদানকে নিজের ব্রত হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
Read More- বিগ বসের ঘরে ঘোড়ার ওপর ক্যাপ্টেন হওয়ার লড়াইয়ে নন্দিনীর ধাক্কায় রক্তাক্ত সৃজলা!
মেয়ের সাফল্যের জগত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা মায়ের জগত
আজকের দিনে ক্যাটরিনা কাইফ চলচ্চিত্র জগতের এক অত্যন্ত পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। সিনেমার পাশাপাশি তিনি ব্যবসায়িক জগতেও সক্রিয়। অথচ এর ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যায় তাঁর মায়ের জীবনে; তিনি অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপন করেন। প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং নিজের অধিকাংশ সময় সন্তান ও সমাজসেবামূলক কাজে ব্যয় করেন। এই কাহিনীটি বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করে কারণ মা ও মেয়ের জীবনধারা একে অপরের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা—একদিকে রয়েছে মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্র জগতের চাকচিক্য ও গ্ল্যামার, আর অন্যদিকে রয়েছে সুজানের জগত, যিনি মাদুরাইয়ের এক গ্রামীণ এলাকায় সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিশুদের শিক্ষার প্রসারে কাজ করে চলেছেন।
এইরকম আরও বিনোদন জগতের প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।







