Bangla News

Nepal Floods: খাওয়ার জায়গা নেই, নেই আশ্রয়, নেপালের বন্যায় ঘরছাড়া ৩৩,০০০ পরিবার এখন একটি দাবিতেই অটল

২৬শে আগস্টের বন্যায় রিতার বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। গত ছয় দিন ধরে তিনি তার স্বামী, দুই সন্তান ও শ্বশুর ছেত্রী বাহাদুর মাগারের সঙ্গে গাজুরিতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকছেন। তিনি ও তার শ্বশুর ত্রাণসামগ্রীর জন্য গাজুরি গ্রাম পৌরসভায় গিয়েছিলেন।

Nepal Floods: নেপালে বন্যায় ঘরছাড়া ৩৩,০০০ পরিবার এখন শুধু ত্রাণ নয়, খাদ্য, আশ্রয় ও বস্ত্রের মতো মৌলিক অধিকারও দাবি করছে

হাইলাইটস:

  • নেপালে ৩৩ হাজার বন্যা-আক্রান্ত পরিবার
  • খাদ্য, বাসস্থান ও বস্ত্রকে মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল
  • অস্থায়ী বসতি ও নিরাপদ আবাসনের জরুরি প্রয়োজন

Nepal Floods: বন্যায় বিধ্বস্ত ৩৩,০০০ পরিবার এখন আর শুধু ত্রাণের প্রশ্ন নিয়েই চিন্তিত নয়; তারা তাদের মৌলিক অধিকারের জন্য আওয়াজ তোলার প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করতে শুরু করেছে। ধাদিঙ জেলার গাজুরি গ্রাম পৌরসভার বাঙ্গে গ্রামের বাসিন্দা রিতা মাগার নেপালি ভাষায় এই প্রশ্ন তোলেন, “সংবিধান অনুযায়ী গ্যাস, বাস এবং কাপ আমাদের মৌলিক অধিকার হওয়া উচিত। সরকারের উচিত এটি নিশ্চিত করা।”

We’re now on WhatsApp – Click to join

২৬শে আগস্টের হরপা বানে রিতার বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। গত ছয় দিন ধরে তিনি তার স্বামী, দুই সন্তান ও শ্বশুর ছেত্রী বাহাদুর মাগারের সঙ্গে গাজুরিতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকছেন। তিনি ও তার শ্বশুর ত্রাণসামগ্রীর জন্য গাজুরি গ্রাম পৌরসভায় গিয়েছিলেন। তারা চাল, ডাল, তেল এবং আরও কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পেয়েছেন, কিন্তু তাদের পরিবার কবে অবশেষে মাথার উপর একটি ছাদ পাবে, তা তারা জানেন না।

রিতা বলেন, “আমরা এখন সরকারের কাছে বাড়ি চাইছি না। যদি কিছু বাঁশ আর এক টুকরো প্লাস্টিক পেতাম, আমরা নিজেরাই থাকার জন্য একটা জায়গা বানিয়ে নিতে পারতাম। তাহলে বাচ্চাদের আর খোলা আকাশের নিচে ঘুমাতে হতো না।”

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ত্রিশূলী-ভোটেকোশী বন্যায় ৩৩,০০০ ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ কাঠমান্ডু, রাসুয়া এবং নুয়াকোটের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন, আর অধিকাংশই আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে এবং সরকারি ভবনগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। খাদ্য ও ত্রাণ সরবরাহের ঊর্ধ্বে নিরাপদ বাসস্থানকে অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করার দাবিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হয়ে রিতার কণ্ঠস্বরই যেন কথা বলে।

নুয়াকোটের বেতাবতীর বাসিন্দা বিনোদ তামাং বলেন, “এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল জীবন বিপন্ন। যখন জল এত দ্রুত গতিতে ছুটে আসছিল, তখন সামলে ওঠার কোনো সময় ছিল না। আমি উঁচু জায়গায় পৌঁছাতে এবং নিজের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হয়েছিলাম, কিন্তু চোখের সামনে আমার বাড়ি ধ্বংস হতে দেখাটা ছিল হৃদয়বিদারক।”

রিতু ডাঙ্গোল জানান যে বন্যার পর থেকে তাঁর দুই সন্তান ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারছে না। সুজন রত্ন আচার্য বলেন, “সবকিছু ভেসে গেছে, আর এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো আশ্রয় খুঁজে বের করা। আমরা জানি না কোথায় থাকব বা কোথায় যাব।”

দুর্যোগের প্রথম ৭২ ঘণ্টায় খাদ্য ও ওষুধ অপরিহার্য, কিন্তু এরপর বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয়ই সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায়। যদিও সরকারের মনোযোগ বর্তমানে অনুসন্ধান ও শনাক্তকরণের ওপর, ৩৩,০০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য অস্থায়ী বসতি ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করাও অপরিহার্য। রিতার কণ্ঠস্বর এই প্রয়োজনকে মৌলিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত করছে।

Read more:- ছয়দিন পড়েও কাটেনি আতঙ্ক, নেপাল-তিব্বতে মৃতের সংখ‍্যা ৯৫০ পার, নিখোঁজ প্রায় সাড়ে ৪ হাজার

সন্ধ্যা নামলে রিতা তার সন্তানদের নিয়ে গাজুরি শিবিরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। তার সামনে প্রশ্নটি শুধু রাত কাটানো নিয়ে নয়, বরং সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত একটি অধিকার নিয়ে, যা তার দাবি অনুযায়ী।

দেশ দুনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।

Back to top button