Bangla News

Jamia Student Union Election: শুরু হতে যাচ্ছে ২০০৬ সাল থেকে স্থগিত থাকা নির্বাচন পুনরায়, বিক্ষোভের মুখে বড় ঘোষণা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক আনুষ্ঠানিক আদেশে জানিয়েছে যে, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (জেএমআইএসইউ)-এর সংবিধান অনুমোদন ও কার্যকর করার প্রক্রিয়া ২০২৭ সালের ১৫ই মে-র মধ্যে সম্পন্ন হবে।

Jamia Student Union Election: ১৮ দিনের প্রতিবাদ ও অনশন সফল, জামিয়ায় ছাত্র সংসদ নির্বাচন পুনর্বহালের বিষয়ে ঐকমত্য

হাইলাইটস:

  • দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮ দিন ধরে চলমান বিক্ষোভ
  • অনশন কর্মসূচির পর অবশেষে শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে
  • ২০২৭ সালের ১৫ই মে-র মধ্যে ছাত্র সংসদের সংবিধান কার্যকর হবে

Jamia Student Union Election: দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮ দিন ধরে চলা বিক্ষোভ ও অনশন কর্মসূচির পর, অবশেষে শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ পুনর্বহাল এবং নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছিল। বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশ জারি হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়। শিক্ষার্থীরা এই ফলাফলকে তাদের দীর্ঘ সংগ্রামের একটি বড় জয় হিসেবে দেখছে।

We’re now on Telegram- Click to join

২০২৭ সালের ১৫ই মে-র মধ্যে কার্যকর হবে ছাত্র সংসদের সংবিধান

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক আনুষ্ঠানিক আদেশে জানিয়েছে যে, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (জেএমআইএসইউ)-এর সংবিধান অনুমোদন ও কার্যকর করার প্রক্রিয়া ২০২৭ সালের ১৫ই মে-র মধ্যে সম্পন্ন হবে। এরপর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ শুরুর ছয় সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ছাত্র নির্বাচন সংক্রান্ত লিংডো কমিটির সুপারিশ ও নির্দেশিকা মেনে পরিচালিত হবে। এই ঘোষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রশাসন প্রথমবারের মতো সংবিধান কার্যকর করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। আগে নির্বাচন আয়োজনের কথা উঠলেও, ছাত্র সংসদের সংবিধান কখন প্রণয়ন ও অনুমোদিত হবে তা অস্পষ্ট ছিল—যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় ছিল। প্রশাসন এখন এই কাজের জন্য ২০২৭ সালের ১৫ই মে পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।

We’re now on WhatsApp- Click to join

কেন ১৮ দিন ধরে চলল শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ?

জামিয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ শুরু হয় ২০২৬ সালের ১২ই অক্টোবর। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, ছাত্র সংসদ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গণতান্ত্রিক মঞ্চ হিসেবে কাজ করে, যার মাধ্যমে তারা প্রশাসনের কাছে নিজেদের উদ্বেগ ও দাবিগুলো তুলে ধরতে পারে। এই ধরনের একটি কাঠামোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়, হোস্টেল সুবিধা, ফি, ​​ক্যাম্পাসের সুযোগ-সুবিধা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারে। জামিয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি; সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০০৫ সালে এবং ২০০৬ সালের পর থেকে কোনো নির্বাচিত ছাত্র সংসদ নেই। ফলে বর্তমান শিক্ষার্থীরা দাবি জানিয়েছেন যে, তাদেরও নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার থাকা উচিত। এই দাবি থেকেই প্রতিবাদের সূত্রপাত হয়, যা পরবর্তীতে দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়।

অনশন কর্মসূচিতে আন্দোলনের চাপ বৃদ্ধি

আন্দোলন চলাকালীন কিছু শিক্ষার্থী অনশন শুরু করেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১২ই অক্টোবর থেকেই কয়েকজন আন্দোলনকারী অনশনে ছিলেন। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, প্রশাসন যেন কেবল অস্পষ্ট আশ্বাস না দিয়ে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে। চলমান অবস্থান কর্মসূচি ও অনশনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনাও হয়। তবে, প্রাথমিক প্রস্তাবে শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট হতে পারেননি, কারণ তাতে সংবিধান অনুমোদনের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ ছিল না। শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা ছিল, সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে যেতে পারে।

প্রথম প্রস্তাবটি কেন ব্যর্থ হলো?

২৬শে অক্টোবর জারি করা একটি প্রাথমিক নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আন্দোলন চলাকালীন দেওয়া কিছু সাময়িক বহিষ্কারাদেশ এবং ‘কারণ দর্শাও’ (শো-কজ) নোটিশ প্রত্যাহার করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা আরও বেশি কিছু চেয়েছিলেন; তাঁরা স্থায়ী বহিষ্কারাদেশ, ক্যাম্পাসে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা এবং আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি জানান। প্রাথমিক প্রস্তাবে একটি শর্তও ছিল যে, আন্দোলনকারীদের জনসমক্ষে ক্ষমা চাইতে হবে এবং প্রশাসন কর্তৃক আপত্তিকর বলে বিবেচিত সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা বিবৃতিগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে। শিক্ষার্থীরা এর বিরোধিতা করে যুক্তি দেন যে, শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি উত্থাপনের জন্য তাঁদের ক্ষমা চাইতে বলাটা অযৌক্তিক। এছাড়া, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় আন্দোলন অব্যাহত থাকে।

শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত

২৯শে অক্টোবর জারি করা এক নতুন নির্দেশনায় প্রশাসন আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগুলো প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শো-কজ) বাতিল, শাস্তিমূলক কার্যক্রম প্রত্যাহার, বহিষ্কারাদেশ ও সাময়িক বরখাস্তের আদেশ তুলে নেওয়া এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা। এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি, প্রশাসন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে তাদের আন্দোলন ও অনশন কর্মসূচি শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, কারণ আন্দোলনের সময় অনেকের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল; প্রশাসনের এই নতুন নির্দেশনার ফলে এখন সেই ব্যবস্থাগুলো প্রত্যাহার করার পথ তৈরি হলো। নতুন এই নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের দুটি দাবিই পূরণ করা হয়েছে—নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার।

Read More- মাঝরাতেই গ্রেফতার সিজেপি নেতা আশুতোষ, সৌরভ, অজিঙ্কে! মধ্যরাতে পোস্ট করে জানাল সিজেপি-র প্রধান

২রা নভেম্বর থেকে সশরীরে (অফলাইন) ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু

প্রতিবাদের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল এবং এতদিন ক্লাসগুলো অনলাইনে পরিচালিত হচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন ঘোষণা করেছে যে, ২০২৬ সালের ২রা নভেম্বর থেকে সমস্ত প্রোগ্রামের ক্লাস সশরীরে (অফলাইন পদ্ধতিতে) পুনরায় শুরু হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ক্লাসগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও অনুষদ কর্তৃক নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলবে। এছাড়া, মিড-সেমিস্টার, এন্ড-সেমিস্টার এবং অন্যান্য নির্ধারিত পরীক্ষাও সশরীরে (অফলাইন পদ্ধতিতে) অনুষ্ঠিত হবে। প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কর্মকর্তাদের এই ক্লাস ও পরীক্ষাগুলো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।

এইরকম আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।

Back to top button