health

Dengue Virus: মহামারীর রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু! দেশে একই সাথে চারটি স্ট্রেইনই সক্রিয় হয়ে উঠেছে

এই গবেষণায় দেখা গেছে যে, ডেঙ্গুর চারটি স্ট্রেইন—DENV-1, DENV-2, DENV-3 এবং DENV-4—একই সাথে দেশে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, DENV-2 সবচেয়ে বেশি প্রচলিত স্ট্রেইন হিসেবে রয়েছে, যদিও অনেক রাজ্যে DENV-3-ও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Dengue Virus: জমে থাকা বৃষ্টির জল মশার বংশবৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে

হাইলাইটস:

  • ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যার দিক থেকে ভারত বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম
  • আইসিএমআর-এর একটি গবেষণায় ভারতে ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি স্ট্রেনই সক্রিয় পাওয়া গেছে
  • কিউডেঙ্গা টিকাটি এই চারটি স্ট্রেনের বিরুদ্ধেই সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে, কিন্তু এর কার্যকারিতা ভিন্ন হতে পারে

Dengue Virus: বর্ষা যেমন আনন্দ নিয়ে আসে, তেমনি এই ঋতুতে মশার উপদ্রবও দ্রুত বেড়ে যায়, যার ফলে দেশজুড়ে ডেঙ্গুর মতো মারাত্মক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। তথ্য থেকে দেখা যায় যে, গত কয়েক বছরে ডেঙ্গুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন, আইসিএমআর (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ)-এর একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় এক আশ্চর্যজনক তথ্য উঠে এসেছে।

We’re now on WhatsApp – Click to join

এই গবেষণায় দেখা গেছে যে, ডেঙ্গুর চারটি স্ট্রেইন—DENV-1, DENV-2, DENV-3 এবং DENV-4—একই সাথে দেশে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, DENV-2 সবচেয়ে বেশি প্রচলিত স্ট্রেইন হিসেবে রয়েছে, যদিও অনেক রাজ্যে DENV-3-ও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও, বেশ কিছু রোগী একই সাথে দুটি স্ট্রেইনে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। চিকিৎসকরা বলছেন যে, যখন এতগুলো স্ট্রেইন একই সাথে সক্রিয় হয়ে ওঠে, তখন রোগটি শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা উভয়ই কঠিন হয়ে পড়ে।

কেন ডেঙ্গু বারবার বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?

এর পেছনের সবচেয়ে বড় কারণ হল বর্ষাকালে জল জমে থাকা। বৃষ্টির জল মশার বংশবৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। এছাড়াও, মানুষের অপরিচ্ছন্নতার অভ্যাস এবং বাড়ির আশেপাশে কুলার, হাঁড়ি ও টায়ারে জল জমে থাকাও মশার বংশবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। এই কারণেই সারাদেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।

বিষয়টি শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়; সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, একটি স্ট্রেইন থেকে সেরে ওঠার পরেও শরীর বাকি তিনটি থেকে সুরক্ষিত থাকে না। এর মানে হল, একজন ব্যক্তি তার সারাজীবনে চারবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন। আরও বিপজ্জনক বিষয় হল, যদি ভিন্ন কোনো স্ট্রেইনের কারণে দ্বিতীয়বার সংক্রমণ হয়, তাহলে অবস্থা আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। এই কারণেই বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতি সম্পর্কে ক্রমাগত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাছাড়া, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যার দিক থেকে ভারত বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই কারণেই এই গবেষণাটি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

Read more:- সব জ্বরই ডেঙ্গু নয়… বর্ষাকালে কীভাবে বুঝবেন কোন জ্বরটি সাধারণ আর কোনটি নয়?

নতুন ডেঙ্গু টিকাটি কোন স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর?

ভারতে ডেঙ্গুর চারটি স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি ‘কিউডেঙ্গা’ নামক ডেঙ্গু ভ্যাকসিনটি অনুমোদন পেয়েছে। সংস্থাটির মতে, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার এক বছর পর এই ভ্যাকসিন ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রায় ৮০ শতাংশ সুরক্ষা দেয় এবং ৯০ শতাংশ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এড়াতে পারেন। তবে, একটি সমস্যা হল, সব স্ট্রেইনের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা সমান নয়। গবেষণা অনুযায়ী, এই ভ্যাকসিনটি DENV-2-এর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি কার্যকর, কারণ এই স্ট্রেইনের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছিল। তাই, এই স্ট্রেইনের ওপর ভিত্তি করেই ভ্যাকসিনটি তৈরি করা হয়েছিল। অপরদিকে, অন্য তিনটি স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে এর কার্যকারিতা শুধুমাত্র তাদের মধ্যেই দেখা যায়, যারা আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

এই রকম স্বাস্থ্য সম্পর্কিত প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।

Back to top button