CJP Protest: ভারতে প্রতিবাদের অধিকার কোথা থেকে আসে, সংবিধানে কী বলা আছে?
গত ২০শে জুলাই অভিজিৎ দীপকের 'ককরোচ জনতা পার্টি' কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে পুলিশের অনুমতি ছাড়াই দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দেয়। এই সময়, ছাত্রদের থামাতে পুলিশ বাহিনী লাঠিচার্জও করে।
CJP Protest: ভারতীয় সংবিধানের ১৯ নং অনুচ্ছেদ নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশ ও সমাবেশের অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়
হাইলাইটস:
- গত সোমবার সিজেপি-র আহ্বানে সাড়া দিয়ে সিজেপি কর্মী ও ছাত্ররা পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিল করে, যার ফলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়
- তাদের এখন একটাই দাবি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ
- আসুন জেনে নেওয়া যাক, প্রতিবাদ করার অধিকার কে প্রদান করে
CJP Protest: ভারতে যেকোনো সরকারি নীতি বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নামা সাধারণ মানুষের জন্য একটি গণতান্ত্রিক উপায়। গত ২০শে জুলাই অভিজিৎ দীপকের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে পুলিশের অনুমতি ছাড়াই দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দেয়। এই সময়, ছাত্রদের থামাতে পুলিশ বাহিনী লাঠিচার্জও করে। এর ফলে, দেশে প্রতিবাদ নথিভুক্ত করার আইনি নিয়ম নিয়ে আলোচনা আবারও তীব্র হয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, দেশে প্রতিবাদের অধিকার কোথা থেকে আসে।
We’re now on WhatsApp – Click to join
21st July – 11:30 AM
Jantar Mantar Is Again Packed!
The more you suppress us, the more we will rise!! pic.twitter.com/51sFHCNDFj
— Cockroach is Back (@Cockroachisback) July 21, 2026
প্রতিবাদের অধিকার এবং সংবিধানে এর সীমাবদ্ধতা
ভারতীয় সংবিধানের ১৯ নং অনুচ্ছেদ নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশ ও সমাবেশের অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। অনুচ্ছেদ ১৯(১)(ক) চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়, অন্যদিকে অনুচ্ছেদ ১৯(১)(খ) যেকোনো প্রকাশ্য স্থানে নিরস্ত্র অবস্থায় সমাবেশের অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। সুপ্রিম কোর্ট একাধিক মামলায় রায় দিয়েছে যে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতন্ত্রের একটি অপরিহার্য অংশ। তবে, এই অধিকার সম্পূর্ণরূপে সীমাহীন নয়। সরকার জনশান্তি, জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলার ক্ষতি রোধ করতে এই অধিকারের উপর যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে।
প্রতিবাদের জন্য কার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে?
দেশে আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্ব রাজ্যগুলোর, তাই বিক্ষোভ আয়োজনের নিয়মকানুন রাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। যেকোনো জনসমাগমস্থলে সমাবেশ বা মিছিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানা বা ডিসিপি কার্যালয় থেকে এনওসি প্রয়োজন। বিক্ষোভটি যদি একাধিক থানার আওতাধীন হয়, তবে কমিশনারেট স্তর থেকে অনুমোদন নিতে হবে। পুলিশ প্রশাসন জননিরাপত্তা, যান চলাচল ব্যবস্থাপনা এবং জনসুবিধার কথা মাথায় রেখে যেকোনো বড় বিক্ষোভের জন্য লিখিত অনুমতি প্রদান করে।
এনওসি আবেদনের জন্য কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন?
পুলিশের অনুমতি পেতে হলে আয়োজকদের একটি আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র জমা দিতে হবে, যাতে তাদের নাম, ঠিকানা এবং ফোন নম্বর উল্লেখ থাকবে। এছাড়াও তাদের প্রতিবাদের মূল কারণ, সময়, প্রত্যাশিত জনসমাগম, লাউডস্পিকারের ব্যবহার এবং তাঁবুর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য প্রদান করতে হবে। যদি কোনো মিছিল বা পদযাত্রার পরিকল্পনা করা হয়, তবে তার সম্পূর্ণ পথ পুলিশকে আগে থেকেই জানাতে হবে। আবেদনপত্রের সাথে পরিচয়পত্র, বাসস্থানের শংসাপত্র এবং ছবি সংযুক্ত করতে হবে। পুলিশ জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, পানীয় জল, শৌচাগার এবং জরুরি অবস্থার প্রস্তুতি সংক্রান্ত হলফনামাও চাইতে পারে।
Read more:- যন্তর মন্তরে তীব্র বিক্ষোভ, আহত বহুজন, পড়ুয়াদের দাবি কি জেনে নিন?
পুলিশ কি কোনো বিক্ষোভের অনুমতি বাতিল করতে পারে?
যদি পুলিশ মনে করে যে জননিরাপত্তা ও শান্তির জন্য হুমকি রয়েছে, তবে তাদের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করার আইনগত অধিকার আছে। যদি তারা মনে করে যে প্রতিবাদটি স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে গুরুতরভাবে ব্যাহত করবে, সহিংসতা উস্কে দেবে বা যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটাবে, তাহলেও তারা এনওসি দিতে অস্বীকার করতে পারে।
এই রকম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।







