healthlifestyle

Night Heatwave: তাপপ্রবাহ শুধু দিনেই নয়, এখন রাতেও চলছে! এটি শিশু ও নারীদের জন্য বিপদ ডেকে আনছে

তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনেক এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের না হওয়ার জন্য জনগণকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দফতর ও চিকিৎসকরা বলছেন, এই সময়েই তাপপ্রবাহ সবচেয়ে তীব্র হয়।

Night Heatwave: মধ্যপ্রদেশে প্রথমবারের মতো ‘রাতের তাপপ্রবাহ’ এর সতর্কতা জারি করা হয়েছে

হাইলাইটস:

  • দিনের বেলার গরমের পাশাপাশি রাতের ক্রমবর্ধমান গরমও মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে
  • রাতের তাপপ্রবাহ একটি বড় হুমকি হয়ে উঠছে, বিশেষ করে শিশু, নারী এবং বয়স্কদের জন্য
  • রাতের গরম বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বেশ কষ্টকর হতে পারে

Night Heatwave: এই বছরের তাপপ্রবাহ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। আগে দিনের বেলায় কেবল তীব্র রোদ আর গরম বাতাসেই মানুষের ভোগান্তি হত, কিন্তু এখন রাতেও গরম কমছে না। অনেক রাজ্যে রাতের তাপমাত্রা এতটাই বেড়ে গেছে যে মানুষের ঘুমাতেই কষ্ট হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, মধ্যপ্রদেশে প্রথমবারের মতো ‘রাতের তাপপ্রবাহ’ এর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের মতে, যখন রাতেও তাপমাত্রা অত্যধিক থাকে এবং শরীর ঠান্ডা হতে পারে না, তখন তাকে ‘গরম রাত’ বলা হয়।

We’re now on WhatsApp – Click to join

তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনেক এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের না হওয়ার জন্য জনগণকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দফতর ও চিকিৎসকরা বলছেন, এই সময়েই তাপপ্রবাহ সবচেয়ে তীব্র হয়। শিশু, বয়স্ক এবং নারীদের বিশেষভাবে বাড়ির ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাংলায় এখন প্রতিটি স্কুল, কলেজে গরমের ছুটি চলছে, তাই স্কুলগামী শিশুদেরও সরাসরি সূর্যের আলোতে খেলাধুলা করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

সাধারণত মানুষ তাপপ্রবাহ বলতে দিনের বেলার তীব্র গরম বাতাসকেই বোঝে, কিন্তু রাতের তাপপ্রবাহ কিছুটা ভিন্ন। বাতাস যে সবসময় গরম থাকে তা নয়, বরং রাতের তাপমাত্রা এতটাই বেশি থাকে যে দেওয়াল, মেঝে, এমনকি ঘরগুলোও গরমই থাকে। পাখা এবং কুলারও প্রায়শই স্বস্তি দিতে ব্যর্থ হয়। দিনের গরমে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং রাতে বিশ্রাম পায় না। এ কারণেই ডাক্তাররা এটিকে আরও বিপজ্জনক বলে মনে করেন। একটানা গরম রাত শরীরকে দুর্বল করে দেয়, যার ফলে একজন ব্যক্তি ক্লান্ত বোধ করে।

প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের শরীর দ্রুত গরম হয়ে যায়। তারা বেশিক্ষণ গরম সহ্য করতে পারে না। রাতে ঠিকমতো ঘুম না হলে তারা খিটখিটে হয়ে যায়, দুর্বল বোধ করে এবং কখনও কখনও জ্বর বা বমির মতো সমস্যাও দেখা দেয়। ছোট শিশুরা নিজেরাও খুব বেশি জল পান করে না, যার ফলে তাদের শরীরে জলের অভাব দেখা দেয়। ডাক্তাররা পরামর্শ দেন যে, রাতে শিশুদের হালকা পোশাক পরানো উচিত এবং মাঝে মাঝে তাদের জল বা ঠান্ডা ঘরোয়া পানীয় দেওয়া উচিত।

রাতের গরম বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বেশ কষ্টকর হতে পারে। অতিরিক্ত গরমে শরীরে জলশূন্যতা দেখা দিতে পারে, যার ফলে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা এবং মাথাব্যথা হতে পারে। যে মহিলারা সারাদিন বাড়িতে কাজ করেন, তাদের জন্য রাতে বিশ্রাম নেওয়া প্রায়শই কঠিন হয়ে পড়ে। ক্রমাগত ঘামের কারণে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। গর্ভবতী মহিলাদের অতিরিক্ত গরম শিশুর স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই, ডাক্তাররা মহিলাদের সারাদিন জল পান করতে এবং কঠোর পরিশ্রমের কাজ এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দেন।

আবহাওয়া দফতর দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। যদি একান্তই বাইরে যেতে হয়, তবে মাথা ঢেকে রাখুন এবং সঙ্গে জল রাখুন। বাড়িতে লেবুর শরবত, ঘোল এবং ডাবের জল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জলশূন্যতা এড়াতে রাতে প্রচুর পরিমাণে জল পান করাও জরুরি। শিশু ও বয়স্কদের একা না রাখার এবং ঘর যতটা সম্ভব ঠান্ডা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Read more:- গ্রীষ্মকালে শিশুদের এই ৮টি জিনিস একদমই খাওয়াবেন না, অসুস্থ বোধ করতে পারে

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দিনগুলিতে উত্তর ও মধ্য ভারতের অনেক অংশে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হতে পারে। বৃষ্টি না হলে রাতের গরমের প্রভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল, মানুষ দিনের বেলার গরম বোঝে ঠিকই, কিন্তু রাতের গরমকে প্রায়শই হালকাভাবে নেয়। এখানেই আসল বিপদ। তাই, জনগণকে সতর্ক থাকা এবং শিশু, নারী ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি।

এই রকম স্বাস্থ্য এবং জীবনধারা বিষয়ক প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।

Back to top button