TMC Mamata Banerjee: ২৮ বছর পর ‘নিজের’ প্রতীক নিয়েই আর লড়তে পারবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
হাইলাইটস:
- উপনির্বাচনে আর নিজের জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে লড়তে পারবেন না মমতা
- এদিন এই প্রতীক এবং দলের নাম ফ্রিজ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন
- যে প্রতীককে নিজে হাতে এঁকেছিলেন সেই প্রতীকই এখন হাত ছাড়া মমতার
TMC Mamata Banerjee: রাজনৈতিক দল ২৮ বছরের, আর ১৫ বছরের সরকার। ২০২৬-এ রাজ্য সরকার বদলের এখনও ৫ মাসও হয়নি, তার আগেই ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ফ্রিজ! ২৮ বছর আগে যে প্রতীককে নিজে হাতে এঁকেছিলেন বলে দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই দলের নাম এবং প্রতীক নিয়ে এবার আর কোনও নির্বাচনে লড়তে পারবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই উপনির্বাচনের জন্য তা পেল না ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও।
We’re now on Telegram- Click to join
সালটা ছিল ১৯৯৮, ওই বছরই কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস দল গঠন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বছর ছিল লোকসভা নির্বাচন। সেই বারই বাংলা থেকে ৭টি আসন পায় মমতার এই নতুন দল। সেই সময়ই বাইরে থেকে সমর্থন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়া তখন বিজেপি বিভিন্ন দলের সমর্থন নিয়ে কোনও ক্রমে সরকার গঠন করে। অটল বিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী হন।
We’re now on WhatsApp- Click to join
জয়ললিতার এআইএডিএমকে সমর্থন তুলে নিতেই দিল্লির সরকার পড়ে যায়। ফলে আবার লোকসভা নির্বাচন হয় ১৯৯৯ সালে। তখন এনডিএ-র সাথে জোটে ছিল তৃণমূল। সেবারই পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূলের আসন বেড়ে হয়েছিল ৮। ২০০১ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভায় রেলমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বাজপেয়ী সরকারের মন্ত্রীর বিরুদ্ধেই আওয়াজ তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজের বিরুদ্ধে কফিন কেনা নিয়ে তোলেন দুর্নীতির অভিযোগ। মন্ত্রীর ইস্তফার দাবিও জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেক চাপান-উতোরের পরই পদত্যাগ করেন জর্জ ফার্নান্ডেজ। তারপরও থেমে থাকেননি মমতা। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ত্যাগ করেন এনডিএ জোট। ২০০১-এ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই জোট ছাড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশর দাবি, এরপর এনডিএ-তে ফেরা ছাড়া আর কোনও বিকল্প উপায় ছিল না মমতার কাছে। চাপ থাকা সত্ত্বেও মমতাকে ফেরান বাজপেয়ী। বেশ কিছুদিন দফতর বিহীন মন্ত্রী থাকার পর ২০০৪-এর লোকসভা নির্বাচনের ঠিক কয়েক মাস আগে কয়লা মন্ত্রকের দায়িত্ব পান মমতা।
Order by @ECISVEEP
MAMATA BANDOPADHYAY LOSES TMC SYMBOL!
TMC SYMBOL STANDS FROZEN FOR NOW! pic.twitter.com/YFKwn4lz7q
— 𝐑𝐢𝐣𝐮 𝐃𝐮𝐭𝐭𝐚 (@RijuDutta_84) September 17, 2026
২০০৪ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন UPA সরকার ক্ষমতায় আসে। কিন্তু বাইরে বা ভিতরে কোথাও ছিলেন না মমতা। রাজ্যে সিপিআইএম-এর বিরুদ্ধে লড়াই জারি ছিল মমতার। এ সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পরিচালিত সিঙ্গুর (২০০৬) এবং নন্দীগ্রাম (২০০৭) আন্দোলন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বামফ্রন্ট সরকারের পতনের মূল ভিত্তি তৈরি করে। যখন ২০০৯ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন UPA সরকার ফের ক্ষমতায় ফিরল, তখন সেই জোটের হাত ধরেন মমতা। তৃণমূল ১৯ জন সাংসদ দিয়েছিল। ফের রেল মন্ত্রক দায়িত্ব পান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
Read More- ‘মূল্যবোধ দীর্ঘজীবী হোক…’, জোড়া ফুল ‘ফ্রিজ’ হতেই মধ্যরাতে পোস্ট ঋতব্রতর
২০১১ সালে বাংলায় প্রথমবার সরকারের ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। ৩৪ বছরের বাম সরকারকে হারিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বাভাবিকভাবেই রেল মন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেন। তার ঠিক মাস কয়েক পরই কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হয় মমতার। ২০১২ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর ইউপিএ সরকারেরও হাত ছাড়েন মমতা। এদিকে কংগ্রেসকে সাথে নিয়েই রাজ্যে সরকার গঠন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
জোড়াফুল চিহ্নে ১৫ বছর বাংলায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নামে ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর সরকার চালিয়েছেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর কাছেই ২৮ বছর পর আর থাকল না নিজের দলের নাম এবং প্রতীক। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পরই ভেঙে যায় মমতার তৃণমূল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৈরি হয় নব তৃণমূল। তবে ঋতব্রতরাও পায়নি এই প্রতীক।
এইরকম আরও রাজনৈতিক প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।






