Chandu Champion Review: কেমন হল পদ্মশ্রী মুরলীকান্ত পেটকরের বায়োপিক ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’? দেখে নিন রিভিউ

Chandu Champion Review: হার না মানার গল্প হল ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’

 

হাইলাইটস:

  • প্রথম দিনেই বক্স অফিসে ভালোই ব্যবসা করেছে কার্তিকের নতুন ছবি ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’
  • পদ্মশ্রী মুরলীকান্ত পেটকরের জীবনীই তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে
  • দেখে নিন ছবির রিভিউ

Chandu Champion Review: গতকাল অর্থাৎ ১৪ই জুন সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে মুরলীকান্ত পেটকরের বায়োপিক ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’ (Chandu Champion)। সত্যি বলতে ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’-এর কাহিনিটি বিশ্বাস করা খুব কঠিন। কিন্তু এই কাহিনি সবাইকে জানানোও যে খুব জরুরি, এমনই একটি সংলাপ রয়েছে ছবিতে। আর এই সংলাপই হয়তো ধরে রেখেছে ছবিটিকে। এই ছবি বাস্তবতা অনুপ্রেরণা জোগাতে সাহায্য করবে অজস্র মানুষকে। কারণ এই ছবি তৈরি হয়েছে বাস্তবতার আঙিনায়।

We’re now on WhatsApp – Click to join

‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’ আসলে এমনই এক খেলোয়াড়ের হার না মানার গল্প, যিনি ভারতের প্রথম প্যারালিম্পিকে গোল্ড মেডেলিস্ট, পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রাপকও। হ্যাঁ, আমরা মুরলীকান্ত পেটকরের কথাই বলছি। ছবিটি একটি বাস্তব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি করা হয়েছে। ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’ ছবির পরিচালক কবীর খান (Kabir Khan)। আর এই ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান (Kartik Aaryan)।

মুরলীকান্ত পেটকরের জীবন অবলম্বনে যেভাবে চিত্রনাট্যটি সাজানো হয়েছে তা সত্যি প্রশংসনীয়। কার্তিকও নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন পর্দায় পুরোপুরি হয়ে ‘মুরলীকান্ত’ হয়ে উঠার জন্য। ছবির ১৪৩ মিনিট পর উপলব্ধি করা যাবে, এই ছবিটি সকলকে কতখানি অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে। কার্তিক কিন্তু আবারও নিজের জাত চিনিয়েছেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল তিনি পেয়েছেন একথা বলাই যায়।

ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের আগে মহারাষ্ট্রের সাংলি এলাকার ইসলামপুরে জন্ম হয় মুরলীকান্তের। দামাল ছেলের চোখে একটাই স্বপ্ন ছিল, তা হল অলিম্পিকে খেলে দেশের জন্য পদক আনা। এর জন্যই পালোয়ান হওয়ার চেষ্টা তাঁর। আদর্শ তখন দারা সিং। তবে মুরলীকান্তর এই স্বপ্নই তাঁকে একসময় হাসির খোরাক করেছিল। কার্যত ব্যঙ্গ করেই তাঁর নাম দেওয়া হয়েছিল ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’। কারণ ‘চন্দু’ কথার অর্থ ‘হেরো’।

We’re now on Telegram – Click to join

তবে মুরলীকান্ত এই ‘হেরো’ তকমা মানতে রাজি ছিলেন না। তাই একসময় তিনি চলন্ত ট্রেনে উঠে পড়েছিলেন। জার্নেল সিংয়ের কথামতো যোগও দিয়েছিলেন ভারতীয় সেনায়। শুধুমাত্র খেলোয়াড় হবেন বলে। কিন্তু অত সহজে কি আর সব কিছু পাওয়া যায়? কোচ টাইগারের সতর্কবাণী থাকা সত্ত্বেও মুরলীকান্ত হলেন লক্ষ্যভ্রষ্ট। তারপরই ১৯৬৫ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের সূচনা। যুদ্ধে সময় একের পর এক গুলি ঝাঁজরা করে দেয় মুরলীকান্তর সারা শরীর। প্রায় দু’বছর কোমায় থাকার পর অবশেষে ফিরল জ্ঞান। কিন্তু বুলেট কেড়ে নিয়েছে তাঁর স্বাভাবিকভাবে চলা-ফেরার শক্তিটুকুও।

ভাগ্যের এই পরিহাস মেনে নিতে পারেননি মুরলীকান্ত পেটকর। তবে কীভাবে তিনি ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন? একজন মানুষ যিনি প্রথমে কুস্তিগীর, তারপর বক্সার আর পরিবর্তনের ধাক্কা সামলে কীভাবে সাঁতারু হয়ে উঠে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছলেন? সেই বাস্তব গল্পই বড়পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক কবীর খান। মুরলীকান্তের চরিত্রে অভিনয় করার জন্য নিজের চেহারায় আমূল পরিবর্তন এনেছেন অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান। এমনকি নিজের প্রিয় মিষ্টিও ত্যাগ করেছিলেন তিনি।

Read more:- রোমান্স ছেড়ে সিরিয়াস চরিত্রে কার্তিক! ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’-এ চকোলেট বয়কে দেখা যাবে একটি চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে

অবশ্য ছবিতে কার্তিক ছাড়াও যার অভিনয় সকলের নজর কেড়েছে, তিনি হলেন কোচ টাইগার ওরফে বিজয় রাজ। কার্তিকের কেরিয়ারেরও সেরা ছবি হতে চলেছে এটি। সবমিলিয়ে বলা যায়, পরিচালক কবীর খানের ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’ সত্যিই যেন এক চ্যাম্পিয়নের গল্প। তবে এখানে শুধুমাত্র মুরলীকান্ত পেটকরের সুইমিংয়ের বিষয়টিই বেশি হাইলাইট করা হয়েছে। তাঁর জ্যাভলিনে পার্টিসিপেট করা, টেবিল টেনিস খেলার বিষয় এবং ব্যক্তিগত জীবনও কম প্রাধান্য পেয়েছে।

এইরকম বিনোদন জগতের প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।

Sanjana Chakraborty

Professional Content Writer