Badshah Cheating Rumours: বাদশা কি ইশা রিখির সাথে প্রতারণা করেছিলেন? ‘বিগ বস ২০’-তে অভিনেত্রীর মন্তব্যের পর বিতর্ক তুঙ্গে
বিগ বস ২০-এর সাম্প্রতিক একটি পর্বে ইশা রিখি এবং কণিকা মানের মধ্যে সম্পর্ক বিষয়ক একটি আলোচনা হয়েছিল। এই আলোচনার সময় ইশা জানান যে, কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে অন্যরা যা বলে, তিনি তা চট করে বিশ্বাস করেন না।
Badshah Cheating Rumours: বাদশার বিরুদ্ধে প্রতারণার গুঞ্জন, বাদশার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মুখ খুললেন ইশা রিখি!
হাইলাইটস:
- বিয়ের মাত্র কিছু মাসের মধ্যেই বাদশার সঙ্গে ইশার বিচ্ছেদের ঘটনা অবাক করেছিল ভক্তদের
- বর্তমানে ‘বিগ বস ২০’-তে অংশ নিয়েছেন বাদশার প্রাক্তন স্ত্রী ইশা রিখি
- বিগ বসে ইশা রিখির করা মন্তব্য এবার জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে
Badshah Cheating Rumours: বর্তমানে ‘বিগ বস ২০’-তে অংশগ্রহণকারী পাঞ্জাবি অভিনেত্রী ইশা রিখি তাঁর পেশাগত ও ব্যক্তিগত—উভয় জীবনের কারণেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। র্যাপার বাদশার সঙ্গে তাঁর বিয়ে এবং বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁদের বিচ্ছেদের ঘটনাটি ভক্তদের হতবাক করেছিল। সম্প্রতি ‘বিগ বস’-এর ঘরে কণিকা মানের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় ইশা বিশ্বাসভঙ্গ, মানসিক আঘাত এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে কথা বলেছেন; তাঁর এই মন্তব্যগুলো বাদশা ও তাঁর মধ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। তবে এটি উল্লেখ করা জরুরি যে, ওই কথোপকথনের সময় ইশা কোথাও স্পষ্টভাবে বাদশার নাম উল্লেখ করেননি। তাই তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া জল্পনা-কল্পনা এবং নিশ্চিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
We’re now on Telegram- Click to join
বিগ বস ২০-তে ইশা কী বলেছিলেন?
বিগ বস ২০-এর সাম্প্রতিক একটি পর্বে ইশা রিখি এবং কণিকা মানের মধ্যে সম্পর্ক বিষয়ক একটি আলোচনা হয়েছিল। এই আলোচনার সময় ইশা জানান যে, কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে অন্যরা যা বলে, তিনি তা চট করে বিশ্বাস করেন না। তাঁর সঙ্গীর বিষয়ে কেউ কোনো দাবি করলে, নিজের কাছে তার সপক্ষে কোনো প্রমাণ বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা না থাকা পর্যন্ত তিনি তা সত্য বলে মেনে নেন না। এই প্রসঙ্গে ইশা জানান, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর তিনি এমন কিছু বিষয় জানতে পারেন যা থেকে তাঁর মনে হয়েছিল যে তিনি প্রতারিত হয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক—এই তিন স্তরেই প্রতারণার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ইশা আরও ইঙ্গিত দেন যে, সম্পর্কে এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যিনি সম্পর্কের সুবাদে প্রাপ্ত মানসিক সমর্থন ও সুবিধাগুলো পেতে চাইতেন, কিন্তু এর সাথে জড়িত দায়িত্বগুলো নিতে ইচ্ছুক ছিলেন না। তাঁর এই মন্তব্য দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, কারণ বাদশা-র সাথে বিচ্ছেদের ঘোষণার ঠিক পরেই এই কথোপকথনটি হয়েছিল। ফলে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই তাঁর এই মন্তব্যগুলোকে তাঁর প্রাক্তন স্বামীর সাথে মিলিয়ে দেখছেন।
We’re now on WhatsApp- Click to join
ইশা কি বাদশার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন?
পুরো ঘটনাটি ঘিরে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কথোপকথনের সময় ইশা কোথাও বাদশার নাম উল্লেখ করেননি। তিনি একটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজের অভিজ্ঞতা এবং কথিত বিশ্বাসঘাতকতার কথা বলেছিলেন, কিন্তু ঠিক কার কথা বলছেন তা স্পষ্ট করেননি। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে যে, তাঁর বক্তব্যে কারও নাম ছিল না; তবে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের সাম্প্রতিক ঘোষণার কারণে তাঁর কথাগুলোকে বাদশার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্যকে বাদশার সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে প্রশ্ন উঠেছে যে তিনি কি পরোক্ষভাবে তাঁর প্রাক্তন স্বামীর দিকেই ইঙ্গিত করছিলেন। তা সত্ত্বেও, শুধুমাত্র সময় ও প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করে বাদশা তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন—এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়াটা এই মুহূর্তে নিশ্চিত কোনো বিষয় নয়। জনসমক্ষে ইশার এমন কোনো সরাসরি বক্তব্য নেই যেখানে তিনি স্পষ্টভাবে বাদশার নাম নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ করেছেন।
Badshah and Isha Rikhi part ways after five months of marriage.
Badshah’s career has repeatedly courted controversy, with many of his songs objectifying women, sexualising relationships and normalising misogynistic lyrics. pic.twitter.com/qb2vCkjY78— Sapna Madan (@sapnamadan) September 1, 2026
বিয়ের পাঁচ মাস পরেই দম্পতিটি আলাদা হয়ে যান
ইশা রিখি এবং বাদশা দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের সম্পর্কটি গোপন রেখেছিলেন। ২০২৬ সালে ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই তাঁদের বিয়ের খবরটি জানাজানি হয়। এরপর ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে তাঁরা তাঁদের বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁদের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয় যে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মতির ভিত্তিতেই তাঁরা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন; তবে সেই সময় বিচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি। বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই বিচ্ছেদের এই খবর ভক্তদের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কারণ, বিয়ের স্থায়িত্ব এবং তাঁদের মধ্যকার কথিত মতপার্থক্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা জল্পনা-কল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে ইশা নিজেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন যে, কেবল তাঁর নিজের নিশ্চিত করা তথ্যকেই যেন সত্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
তিনি কি এর আগেও ‘বিগ বস’-এ এমন কোনো ইঙ্গিত দিয়েছেন?
বাদশার সাথে বিচ্ছেদের পর থেকে ‘বিগ বস’-এর শো-তে প্রায়শই সম্পর্ক নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন ইশা। এর আগে এক কথোপকথনের সময়, যখন একজন প্রতিযোগীকে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ (সমস্যাপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ আচরণকারী ব্যক্তি) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল, তখন ইশা মন্তব্য করেন যে তিনিও নিজের জীবনে এমন বড় কোনো ‘রেড ফ্ল্যাগ’-এর মুখোমুখি হয়েছেন। যদিও তিনি সরাসরি বাদশার নাম উল্লেখ করেননি, তবুও দর্শকদের একাংশ এই মন্তব্যটিকে তাঁর অতীতের সম্পর্কের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবেই ধরে নিয়েছিলেন। অন্য একটি আলোচনায় ইশা জানান যে, তাঁর জীবনে প্রেমের দরজা বর্তমানে বন্ধ এবং তাতে একাধিক তালা লাগানো রয়েছে। এই মন্তব্যটি থেকে এমন জল্পনা তৈরি হয় যে, তাঁর আগের সম্পর্কটি আবেগীয় দিক থেকে খুব একটা সুখকর ছিল না। তবে এটি একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বিষয় এবং কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো বাস্তব অভিযোগকে এটি প্রমাণ করে না।
ইশার বক্তব্যের পর কেন আলোচনা জোরদার হলো?
আসলে, ইশার এই বক্তব্যটি এমন এক সময়ে এসেছিল যখন বাদশার সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদের খবরটি ছিল অত্যন্ত তাজা। এ কারণেই সম্পর্ক নিয়ে তাঁর করা প্রতিটি মন্তব্যকেই শ্রোতারা বাদশার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন। তাছাড়া, শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক প্রতারণার বিষয়টি যেভাবে তিনি উল্লেখ করেছেন, তা এই জল্পনা-কল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে, জল্পনা আর নিশ্চিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। প্রতারিত হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানালেও, ইশা তাঁর বক্তব্যে ঠিক কার কথা বলছেন, তা স্পষ্ট করেননি। একইভাবে, প্রতারণার এসব অভিযোগের বিষয়ে বাদশার পক্ষ থেকেও কোনো বিস্তারিত নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
Read More- ন্যায়বিচার ও বিবেক নিয়ে কারিনা ও পৃথ্বীরাজের সংঘাত! পড়ুন দায়রা চলচ্চিত্র রিভিউ
এ কারণেই কি তাঁদের বিয়ে ভেঙে গিয়েছিল?
ইশা রিখি ও বাদশার বিয়ে ভাঙার কারণ হিসেবে শুধুমাত্র ‘প্রতারণা’ বা ‘বিশ্বাসঘাতকতা’-কে দায়ী করাটা এখনই সম্ভব নয়। তাঁদের বিচ্ছেদ নিয়ে দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। যদিও ‘বিগ বস ২০’-এর প্রসঙ্গে ইশার বক্তব্য তাঁদের সম্পর্কের কথিত প্রতারণা বা অবিশ্বস্ততা নিয়ে একটি নতুন দিক উন্মোচন করেছে, তবুও বিয়ে ভাঙার চূড়ান্ত কারণ হিসেবে একে চিহ্নিত করাটা তাড়াহুড়ো হবে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ইশা জানিয়েছিলেন যে, সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর তিনি এমন কিছু সত্য জানতে পেরেছিলেন যা তাঁকে প্রতারিত হওয়ার অনুভূতি দিয়েছিল। ইশার এই মন্তব্যটি এখন ‘বিগ বস ২০’-এর দর্শকদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিচ্ছেদের কারণ স্পষ্ট করার সময় ইশা যদি সরাসরি বাদশার নাম উল্লেখ করেন অথবা বাদশা নিজে যদি বিষয়টি নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানান, তবেই তাঁদের বিচ্ছেদের প্রকৃত কারণটি পরিষ্কার হবে।
এইরকম আরও বিনোদন জগতের প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।







