Asha Bhosle: উত্তম কুমারের সুরে গেয়েছিলেন গান, বাংলা জগতে প্লেব্যাকে আসা কীভাবে আশা ভোঁসলের?
সেই প্রথমবার বাংলা ছবিতে পা রাখেন হেলেন। আর এর জন্যই তৈরি হল এক জমকালো নাচের দৃশ্য। এই গানের সুর দিয়েছিলেন ভি বালসারা। কথার জাদু বুনে ছিলেন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়।
Asha Bhosle: কেমন ছিল আশা ভোঁসলের বাংলা জগতে সুরেলা শুরুর সফর?
হাইলাইটস:
- ইহলোক ছেড়ে পরলোক গমন করেছেন সুরের দেবী আশা ভোঁসলে
- কীভাবে এলেন তিনি হিন্দি জগৎ থেকে বাংলা প্লেব্যাকে?
- আজই স্মরণ করুন আশা ভোঁসলের বাংলা গানে আসার গল্প
Asha Bhosle: সালটা ছিল ১৯৫৯। বাংলা ছবির জগৎ তখন অন্য এক ছন্দে। ঠিক সেই সময়ে মুক্তি পায়, ‘রাতের অন্ধকারে’। ছবিটির অন্তরালে লুকিয়ে এক দারুণ গল্প। এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন ছবি বিশ্বাস, চন্দ্রাবতী দেবী, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, রাজলক্ষ্মী দেবী। কিন্তু সব আলো কেড়ে নিলেন এক অতিথি শিল্পী। বম্বে থেকে আসেন হেলেন।
We’re now on WhatsApp- Click to join
সেই প্রথমবার বাংলা ছবিতে পা রাখেন হেলেন। আর এর জন্যই তৈরি হল এক জমকালো নাচের দৃশ্য। এই গানের সুর দিয়েছিলেন ভি বালসারা। কথার জাদু বুনে ছিলেন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়। বহুভাষিক গান ‘সিন আই দ্য/ উ আই নি/ চিনে ভাষা জানো কী?/ শোনো তবে ইংরেজিতে তোমায় বলছি/ ও মাই ডার্লিং আই লাভ দি’। এবার প্রশ্ন, এই গান গাইবেন কে? ভি বালসারা হঠাৎ বললেন, “আশা ভোঁসলে হলে কেমন হয়?”
We’re now on Telegram- Click to join
নামটা শুনে সবাই থমকে যায়। বাংলা ছবিতে আশা ভোঁসলে! তখন তো সে হিন্দি গানের তারকা। তিনিই উদ্যোগ নিয়ে কলকাতায় নিয়ে আসেন আশাকে। বাংলা ভাষা তখন তাঁর কাছে একেবারেই অচেনা। শব্দে শব্দে, লাইনে লাইনে, ধৈর্য ধরে ভি বালসারা ও পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে গান শেখাতে লাগলেন। এই ছবিতেই আশা ভোঁসলে গাইলেন প্রথম বাংলা গান, ‘এ হাওয়ায় এ হাওয়ায় কী সুরভি ঝরে’।

পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, পরিচালক তরুণ মজুমদার, কিশোর কুমার, গুলজার, হেমন্ত কুমার এবং আশা ভোঁসলে রাহগির চলচ্চিত্রের রেকর্ডিং সেশনে।
আসলে নাড়াটা বাঁধা হয় সেখান থেকেই। ‘কাল তুমি আলেয়া’য় উত্তমকুমার হলেন সঙ্গীত পরিচালক। কিন্তু এই ওর প্রথম সঙ্গীত পরিচালকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া। দেবেশ ঘোষের আর্জিতে সম্মতি দিলেও চট করে সে ভূমিকাটি মেনে নেয়নি উত্তম কুমার। দেবেশ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “কবে মিউজিক সিটিং করবে?” উত্তম কুমার হেসে বললেন, “আমি তোমায় খবর দেব।” সেই উত্তম কুমারই পরে বলেন, “লতাজি দারুণ গান করেন। কিন্তু ‘কাল তুমি আলেয়া’র এই ধরনের ‘টিপিক্যাল’ মেয়ের গান দুটো আশা ভোসলে ছাড়া আর কাউকে আমি ভাবতে পারছি না।
Read More– প্রয়াত হলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়, দিঘার তালসারিতে তলিয়ে গেলেন নায়ক
এরপর আলোচনা হয় গান নিয়ে। দু’টো গানই ভালো। তবে কোনটা নেওয়া হবে, তা নিয়ে ভাবনা চলে। এরপর
উত্তম কুমার বলেন, “আশাজিকে একটু বুঝিয়ে বলো। সারাদিন নাচ এবং শুটিং নিয়ে এত ব্যস্ত থাকি যে, গান শেখার সময়ই পাইনা। উনি রাতে যদি একটু সময় দেন, তাহলে সুবিধা হয়।”
এর পরদিন সকালে সবাই মিলে পেডার রোডের ‘প্রভুকুঞ্জ’-এ। সেখানেই দুই বোন পাশাপাশি ফ্ল্যাটে থাকতেন – লতা মঙ্গেশকর এবং আশা ভোঁসলে। আশাজিকে বলা হল, উত্তম কুমারের সুরে গান। উত্তম কুমার বড় ভক্ত তিনি, তাই এক কথায় তিনি রাজি হয়ে গেলেন। ঠিক হয় যে, রাতে উত্তম কুমার এসে গান তোলাবে, আর সেই রাতেই হবে রেকর্ডিং। শেষ অবধি ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কাল তুমি আলেয়া’য় আশা ভোঁসলে গেয়েছিলেন ‘মনের মানুষ ফিরল ঘরে’ আর ‘পাতা কেটে চুল বেঁধে’। এমন গল্প চলতে থাকবে। কারণ বিষয়ের নাম হচ্ছে আশা ভোঁসলে নাম এক মহাসমুদ্র। ইতিমধ্যেই সুরলোক ছেড়ে এবার পরলোকে চলে গেলেও গানের মধ্যে বাঁচবেন আশা ভোঁসলে।
এইরকম আরও গুরুত্বপূর্ণ বিনোদন জগতের প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।







