Bangla News

Flydubai Captain Attack: আকাশে মৃত্যুর মুখোমুখি এক পাইলট—এরপর এগিয়ে এলেন এক ইসরায়েলি দন্তচিকিৎসক, বাঁচালেন স্মিত মাচ্ছারের জীবন, কি হয়েছিল?

দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশ্যে বিমানটি রওনা হয়েছিল। যাত্রাপথে ককপিটের ভেতর দুই পাইলটের মধ্যে হঠাৎই বিবাদ ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমানের বাসিন্দা এক কো-পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর চড়াও হন।

Flydubai Captain Attack: ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ আরেক পাইলটের, তড়িঘড়ি করে প্রাণ বাঁচালেন এক ইসরায়েলি দন্তচিকিৎসক

হাইলাইটস:

  • এদিন এক বিমানের ককপিটের ভেতরে দুই পাইলটের মধ্যে তীব্র হাতাহাতি হয়
  • পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান আরেক পাইলট
  • এরপর একজন ইসরায়েলি দন্তচিকিৎসক এসে পাইলট ক্যাপ্টেনের প্রাণ বাঁচান

Flydubai Captain Attack: ২০২৬ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ (FZ1073)-এ ঘটে যাওয়া ঘটনাটি যাত্রীদের আতঙ্কিত করে তোলে। প্রায় ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে বিমানটি আকাশে ওড়ার সময় ককপিটের ভেতরে দুই পাইলটের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, কো-পাইলট ভারতীয় বংশোদ্ভূত পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান। এই হামলায় স্মিত গুরুতর আহত হন এবং তাঁর মাথা ও হাত থেকে প্রচুর রক্তপাত হতে থাকে। তা সত্ত্বেও, তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সহায়তা করেন, যার ফলে যাত্রীরা এবং বিমানে থাকা অন্য পাইলটরা (যারা তখন দায়িত্বে ছিলেন না) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে ইসরায়েলি দন্তচিকিৎসক ডা. শোতা মুসায়েভ আহত ক্যাপ্টেনের সহায়তায় এগিয়ে আসেন এবং তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।

We’re now on Telegram- Click to join

আকাশপথে আকস্মিক সংকট

দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশ্যে বিমানটি রওনা হয়েছিল। যাত্রাপথে ককপিটের ভেতর দুই পাইলটের মধ্যে হঠাৎই বিবাদ ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমানের বাসিন্দা এক কো-পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর চড়াও হন। এই ধস্তাধস্তির সময় বিমানটি দ্রুতগতিতে নিচের দিকে নামতে শুরু করে। কোনো কোনো তথ্যে বলা হয়েছে যে বিমানটি প্রায় ১৪,০০০ ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল; আবার অন্য তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে এটি প্রায় ১৭,০০০ ফুট নিচে পড়ে গিয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে পড়েছিল যে যাত্রীরা আশঙ্কা করেছিলেন বিমানটি বুঝি বিধ্বস্ত হতে চলেছে। ঘটনার সময় গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার কোনোভাবে ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন যাত্রী দ্রুত ককপিটের দিকে ছুটে যান এবং আক্রমণকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। বিমানে থাকা অন্য দুজন পাইলট—যারা তখন দায়িত্বে ছিলেন না—তাঁরাও সহায়তার জন্য এগিয়ে আসেন এবং শেষ পর্যন্ত বিমানটিকে নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।

We’re now on WhatsApp- Click to join

ককপিটের দিকে ছুটে যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন ইসরায়েলি দন্তচিকিৎসক ডা. শোতা মুসায়েভ। তিনি জানান, হট্টগোল ও চিৎকার শুনেই তিনি দ্রুত বিমানের সামনের অংশের দিকে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তিনি ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় দেখতে পান; মাথায় আঘাতের কারণে ক্যাপ্টেনের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল এবং তিনি আরও বেশ কিছু আঘাত পেয়েছিলেন। বিমানে একমাত্র চিকিৎসক হিসেবে মুসায়েভ তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। তিনি রক্তপাত বন্ধ করার এবং ক্যাপ্টেনের রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেন; তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, বিমানে সীমিত সুযোগ-সুবিধা থাকায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন। পরবর্তীতে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জরুরি ভিত্তিতে দেওয়া সেই চিকিৎসা ক্যাপ্টেনের জীবন রক্ষায় ভূমিকা রেখেছিল।

ঘটনার সময় কেবল ডা. মুসায়েভই সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি; আক্রমণকারীকে কাবু করতে যাত্রীরা সম্মিলিতভাবে কাজ করেছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়ানিভ হায়ুনসহ কয়েকজন যাত্রী ককপিটে পৌঁছে আক্রমণকারীকে নিবৃত্ত করতে সহায়তা করেন। এরপর বিমানে থাকা অন্য পাইলটরা (যারা তখন দায়িত্বে ছিলেন না) বিমানটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন। যাত্রীদের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টার পর বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে। যাত্রীরা সেই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন; বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাচ্ছিল এবং ককপিটের ভেতরে আহত পাইলট ও আক্রমণকারীর মধ্যে ধস্তাধস্তি চলছিল। যাত্রীরা ককপিটে পৌঁছে আক্রমণকারীকে পাইলটের কাছ থেকে সরিয়ে আনতে সক্ষম হন; এরপর বিমানটিকে স্থিতিশীল করা এবং নিরাপদে অবতরণ করানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার কে?

ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার ভারতীয় বংশোদ্ভূত একজন অভিজ্ঞ বাণিজ্যিক পাইলট। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ে (Flydubai) যোগ দেওয়ার আগে তিনি দীর্ঘ সময় স্পাইসজেটে (SpiceJet) কর্মরত ছিলেন। ফ্লাইদুবাইয়ে তিনি বোয়িং ৭৩৭ (Boeing 737) বিমানবহরের ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর প্রোফাইল থেকে জানা যায় যে, তাঁর হাজার হাজার ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। হামলার ঘটনার পর তাঁকে সৌদি আরবের তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভারতীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, তাঁরা তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখছেন এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। প্রাথমিক তথ্যে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হলেও, তিনি গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।

Read More- বিমান সংস্থার খরচ বাড়ায় এটিএফ-এর দাম বাড়ছে—ব্রেন্ট ক্রুড, ডব্লিউটিআই ক্রুড এবং ভারতীয় তেলের প্রবণতার মধ্যে কি বিমান ভাড়া আরও বাড়বে?

১৭৪ জন যাত্রীর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

ঘটনা-পরবর্তী সময়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ভূমিকা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও প্রকাশ্যে তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও মাচ্ছার পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং ককপিটের দরজা খুলতে সহায়তা করেন, যার ফলে যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা আক্রমণকারীর নাগাল পেতে সক্ষম হন। তবে এই হামলার পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে। যদিও প্রাথমিক খবরে বিমান ছিনতাই বা বিমানটি বিধ্বস্ত করার ষড়যন্ত্রের সন্দেহের কথা উঠে এসেছিল, তবুও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছেন কর্মকর্তারা। বিমানটি তাবুকে নিরাপদে অবতরণের পর যাত্রীদের কিছু সময় সৌদি আরবে অবস্থান করতে হয় এবং পরবর্তীতে অন্য একটি বিমানে করে তাঁদের ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনাটি কেবল ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতাকেই তুলে ধরেনি, বরং সংকটময় পরিস্থিতি সামাল দিতে যাত্রী এবং ড. শোতা মুসায়েভের মতো ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও সামনে নিয়ে এসেছে। পেশায় দন্তচিকিৎসক মুসায়েভ জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের জন্য এগিয়ে আসেন এবং আহত পাইলটকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন; একই সময়ে অন্য যাত্রীরা ককপিটের ভেতরে আক্রমণকারীকে কাবু করতে সহায়তা করেন।

এইরকম আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।

Back to top button