Bangla News

Cyclone Murasu: অর্ণবের পর বঙ্গোপসাগরের বুকে আরও একটি ঘূর্ণিঝড়, এই কতটা বিপজ্জনক জেনে নিন

এই নতুন ঝড়টি দ্রুত অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে এগিয়ে আসছে এবং মঙ্গলবারের মধ্যে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। এই সম্ভাব্য বিপদের পরিপ্রেক্ষিতে, উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের কঠোরভাবে সতর্ক থাকতে এবং সম্পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Cyclone Murasu: ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ আগের ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এমতো বিধ্বংসী হবে না বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস

হাইলাইটস:

  • ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর পর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ‘মুরাসু’ নামক আরও একটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে
  • সম্ভবত এটি অন্ধ্রপ্রদেশে আঘাত হানবে, যার ফলে অনেক রাজ্যে প্রবল বাতাসসহ মুষলধারে বৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে
  • ভারত এই নতুন ঘূর্ণিঝড়টির নাম দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে

Cyclone Murasu: বঙ্গোপসাগরে আবারও প্রকৃতির রোষ দেখা যাচ্ছে, যেখানে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব-এর পর নতুন করে আবহাওয়া সংকট ঘনিয়ে আসছে। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছে যে, সাগরের গভীর নিম্নচাপটি শীঘ্রই তীব্র হয়ে ‘মুরাসু’র মতো একটি ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে চলেছে। এই নতুন ঝড়টি দ্রুত অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে এগিয়ে আসছে এবং মঙ্গলবারের মধ্যে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। এই সম্ভাব্য বিপদের পরিপ্রেক্ষিতে, উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের কঠোরভাবে সতর্ক থাকতে এবং সম্পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

We’re now on WhatsApp – Click to join

‘মুরাসু’ নামের আকর্ষণীয় ইতিহাস

সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-র নামটি ভারত প্রস্তাব করেছিল এবং এর গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে। শব্দটি মূলত তামিল ভাষা থেকে উদ্ভূত, যার আক্ষরিক অর্থ ‘ঢোল’ বা একটি প্রাচীন তালবাদ্য। প্রাচীনকালে, রাজা ও সম্রাটদের শাসনকালে, এই স্বতন্ত্র ঢোলটি জনসাধারণকে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা জানাতে, রাজকীয় বার্তা পৌঁছে দিতে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সংকটের সময় মানুষকে সতর্ক করতে ব্যবহৃত হত। এই ঐতিহাসিক সতর্কবার্তা মাথায় রেখে ভারত এই নতুন ঘূর্ণিঝড়টির নাম দিয়েছে ‘মুরাসু’।

‘মুরাসু’ কতটা বিপজ্জনক?

আবহাওয়া দপ্তরের মতে, এই পুরো আবহাওয়া ব্যবস্থাটি উপকূলীয় অঞ্চলে ঘণ্টায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে একটানা বাতাস বয়ে আনবে। এছাড়াও, ঘূর্ণিঝড়টি অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তবে, মনে করা হচ্ছে যে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ আগের ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এমতো বিধ্বংসী হবে না, যেটি ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার বেগের বাতাস নিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল।

আবহাওয়া বিভাগের সতর্কতা এবং প্রভাবিত এলাকা

ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় আবহাওয়া দপ্তর বেশ কয়েকটি রাজ্যের জন্য বিস্তারিত সতর্কতা জারি করেছে। আগামী দুই থেকে তিন দিন ধরে উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ ও রায়লসীমার বিভিন্ন অংশে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি, কারাইকাল, কেরালার উপকূলীয় এলাকাতেও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন যে এই সময়ে উঁচু ঢেউ এবং উত্তাল সমুদ্র বিরাজ করবে, তাই জেলেদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ধ্বংসাত্মক ঝড় ও ভারী বৃষ্টি

যদিও ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র বাতাসের গতিবেগের দিক থেকে এর পূর্বসূরি ‘অর্ণব’-এর চেয়ে কিছুটা কম শক্তিশালী, তবুও একে দুর্বল ঝড় বলে ভুল করা যাবে না। এই ঘূর্ণিঝড়ের আসল হুমকি এর প্রবল বাতাসের চেয়ে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেই বেশি নিহিত। এর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা এবং তেলেঙ্গানার বেশ কিছু এলাকায় ২০০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই ধরনের ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে নিচু এলাকাগুলোতে মারাত্মক বন্যা, রাস্তাঘাট প্লাবিত হওয়া এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে।

Read more:- আর কিছুক্ষণের মধ্যেই অন্ধ্রের মাটি ছোঁবে অর্ণবের ‘চোখ’, ইতিমধ্যেই চলছে ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া

উপকূলীয় পরিস্থিতি এবং রাজ্যগুলির উপর এর প্রভাব

স্থলভাগে আঘাত হানার সময় অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা, গুন্টুর, বাপাতলা, প্রকাশম এবং নেল্লোর জেলাগুলিতে পরিস্থিতি সবচেয়ে সংবেদনশীল থাকবে, যে কারণে প্রশাসন এই এলাকাগুলিতে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করার পর ঘূর্ণিঝড়টি তেলেঙ্গানা এবং দক্ষিণ ওড়িশার দিকে অগ্রসর হবে। এছাড়াও, এই ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব উত্তর ভারতের কিছু অংশে অনুভূত হবে, যার ফলে উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডে আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং বৃষ্টিপাত হবে।

এই রকম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।

Back to top button