Non-Veg During Durga Puja In Bengal: বাংলায় দুর্গাপুজোর সময়ে কেন আমিষ খাওয়া হয়, এ বিষয়ে হিন্দুধর্মে কী বলা রয়েছে?
সম্প্রতি, হাওড়ায় একটি অনুষ্ঠানে বাগেশ্বর বাবা, যিনি ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী নামেও পরিচিত, দুর্গাপুজোয় মাংস বর্জনের আবেদন জানালে বিষয়টি আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
Non-Veg During Durga Puja In Bengal: বাংলায় শাক্ত দর্শন এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দুর্গাপুজো মাতৃদেবীর প্রত্যাবর্তন উৎসব হিসেবে পালিত হয়, তাই নৈবেদ্য হিসেবে আমিষ খাবার নিবেদন করা হয়
হাইলাইটস:
- উত্তর ভারতে যেখানে নবরাত্রি মানে নয় দিনের উপবাস
- তবে পশ্চিমবঙ্গের ছবিটা বেশ আলাদা, এখানে দুর্গাপুজোর সময় আমিষ খাওয়ার চল রয়েছে
- বাংলায় নবরাত্রি অথবা দুর্গাপুজোর সময়ে আমিষ খাবার খাওয়ার ঐতিহ্য কেন রয়েছে জানুন
Non-Veg During Durga Puja In Bengal: উত্তর ভারতে যেখানে নবরাত্রি মানে নয় দিনের উপবাস, পেঁয়াজ ও রসুন বর্জন এবং সাত্ত্বিক খাদ্যাভ্যাস, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের ছবিটা বেশ আলাদা। দুর্গাপুজোর সময় বাংলার সর্বত্র প্যান্ডেল এবং বাড়ির রান্নাঘর থেকে ইলিশ মাছ, কষা মাংস এবং মটন বিরিয়ানির সুগন্ধ ভেসে আসে। এই সাংস্কৃতিক পার্থক্য সম্পর্কে বোঝাপড়ার অভাব প্রায়শই এই বিতর্কের জন্ম দেয় যে বাঙালিরা দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার খায় কি না। সম্প্রতি, হাওড়ায় একটি অনুষ্ঠানে বাগেশ্বর বাবা, যিনি ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী নামেও পরিচিত, দুর্গাপুজোয় মাংস বর্জনের আবেদন জানালে বিষয়টি আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। আসুন জেনে নেওয়া যাক, বাংলায় নবরাত্রি অথবা দুর্গাপুজোর সময়ে আমিষ খাবার খাওয়ার ঐতিহ্য কেন রয়েছে এবং এ বিষয়ে হিন্দুধর্ম কী বলে।
Totally disagree with you Doc. This Dhirendra Sastri is not greater than Swami Vivekananda or Thakur Sri Sri Ramkrishna Paramhansa. Rest is upto you……
Btw Alcohol & Laundiyabazi is done by a particular class in all States. All Bengalis don't do that. pic.twitter.com/VxTQFn242S
— Sobhan (@slb_cool) September 9, 2026
বাংলায় মা দুর্গাকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন পদ প্রস্তুত করা হয়
উত্তর ভারতের জন্য নবরাত্রি হল সংযম, আত্মসংযম এবং পবিত্রতার উৎসব, যেখানে ভক্তরা দেবীর আরাধনা করার জন্য উপবাস পালন করেন। অন্যদিকে, বাঙালি সমাজের জন্য দুর্গাপুজো উপবাসের চেয়েও বেশি জাঁকজমকপূর্ণ উদযাপন এবং আনন্দের প্রতীক। বিশ্বাস করা হয় যে দেবী দুর্গা এই পাঁচ দিন তাঁর বাপের বাড়ি আসেন। যখন মেয়ে ঘরে আসে, তখন তাঁকে সেরা এবং সবচেয়ে পছন্দের খাবার দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। তাই, বাঙালি পরিবারগুলিতে খাবারের মাধ্যমে দেবীর প্রতি তাঁদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করার একটি ঐতিহ্য রয়েছে।
We’re now on WhatsApp – Click to join
শাক্ত ও বৈষ্ণব ঐতিহ্যের মধ্যে প্রধান পার্থক্য
ধর্ম ও বিশ্বাসের দৃষ্টিকোণ থেকে, উত্তর ভারতে বৈষ্ণব ঐতিহ্যের প্রভাবই প্রধান। এই ঐতিহ্য অহিংসা, পবিত্রতা এবং সাত্ত্বিক খাবারকে ভক্তির সর্বোত্তম উপায় বলে মনে করে। অন্যদিকে, বাংলার শাক্ত ঐতিহ্যের শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত, যা সরাসরি দেবী শক্তির আরাধনার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। শাক্ত দর্শন অনুসারে, সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডই দেবীর প্রকাশ। এই প্রেক্ষাপটে, সাত্ত্বিক, রাজসিক বা তামসিক—সব ধরনের খাবারকেই দেবীর প্রতি ভক্তির অংশ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে, কারণ তিনি এই সমস্ত গুণের ঊর্ধ্বে।
মা কালী ও পশু বলির ইতিহাস
বাংলায় দেবী কালী ও দুর্গার উগ্র ও শক্তিশালী রূপের পুজো করা হয়। তান্ত্রিক ও শাক্ত বিশ্বাসে দেবীর উদ্দেশ্যে পশু বলি দেওয়ার প্রথা একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। আজও শক্তিপীঠ এবং অনেক বিশিষ্ট কালী মন্দিরে পাঁঠা বলি দেওয়া হয়। প্রাচীনকালে এই প্রথাটি কেবল খাদ্যের সঙ্গেই যুক্ত ছিল না, বরং এটি মানুষের ভেতরের অশুভ শক্তির আত্মসমর্পণের প্রতীক ছিল। বিশ্বাস করা হতো যে, পাঁঠাটি অহংকার, ক্রোধ এবং লোভের মতো অশুভ প্রবৃত্তির প্রতিনিধিত্ব করে, যা দেবীর চরণে সমর্পিত হয়।
প্রতীকী বলিদানের পদ্ধতির পরিবর্তন
কালক্রমে, এই বলিদান প্রথা নিয়ে সমাজ ও ধর্মীয় পণ্ডিতদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মতামতের উদ্ভব হয়েছে। যেখানে কেউ কেউ এটিকে বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের অংশ বলে মনে করেন, সেখানে পশু অধিকার কর্মীরা যুক্তি দেন যে পূজার নামে পশু হত্যা করা ঠিক নয়। ফলস্বরূপ, বাংলার অনেক মন্দির ও পরিবার একটি নতুন পন্থা অবলম্বন করেছে। পশুর পরিবর্তে কুমড়ো, আখ বা নারকেল কেটে প্রতীকী বলিদান করা হয়। তবে, এটি লক্ষণীয় যে এই বলিদান প্রথা বাংলার প্রতিটি মন্দিরে প্রচলিত নয়, বরং এটি কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থান ও পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
পশ্চিমবঙ্গের থালিতে মাছ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
যেকোনো স্থানের রন্ধনপ্রণালী তার জলবায়ু, নদী এবং ভূ-প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। বাংলা নদী ও সমুদ্র দ্বারা পরিবেষ্টিত একটি ভূমি, যেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভাত ও মাছ প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বাঙালি সংস্কৃতিতে মাছকে শুধু খাদ্য হিসেবেই নয়, বরং শুভ, উন্নতি এবং উর্বরতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই কারণেই বিবাহ থেকে শুরু করে অন্যান্য সকল শুভ অনুষ্ঠানে মাছের উপস্থিতি অপরিহার্য বলে মনে করা হয়। যেহেতু মাছ জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই দেবীকে এটি নিবেদন করা পবিত্র ও স্বাভাবিক বলে গণ্য করা হয়।
Read more:- সুস্বাদু খাবার দেখলে কেন আপনার জিভে জল আসে? এর পেছনের বিজ্ঞানটি জেনে নিন
বাংলায় পুজোর সময় প্রদত্ত বিভিন্ন নৈবেদ্য
বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল, পরিবার এবং মন্দিরভেদে পুজোর রীতি ভিন্ন ভিন্ন হয়। কেউ কেউ মা দুর্গাকে খিচুড়ি, লাবড়া, ফল ও মিষ্টির মতো সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক নৈবেদ্য নিবেদন করেন, আবার অন্যরা মাছও নিবেদন করেন। কালীপুজোর সময় বলি দেওয়া পাঁঠার মাংস রান্না করে ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ হিসেবে বিতরণ করা হয়। বাঙালি সমাজের কাছে এই খাবার কেবল পেট ভরানোর মাধ্যম নয়, বরং দেবীর আশীর্বাদ এবং তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি অংশ।
এই রকম জীবনধারা প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।







