Electric Scooter: ইলেকট্রিক স্কুটার চালানোর সময় এই ৭টি ভুল এড়িয়ে চলুন, অন্যথায় এর ব্যাটারি সময়ের আগেই অকেজো হয়ে যেতে পারে
অনেকেই স্কুটারের ব্যাটারির চার্জ ১-২%-এ নেমে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন এবং তারপর তা চার্জ দেন। মাঝেমধ্যে এমনটা করা খুব বড় কোনো সমস্যা না হলেও, নিয়মিতভাবে ব্যাটারির চার্জ এতটা কমিয়ে ফেলা বা 'ডিপ ডিসচার্জ' হতে দেওয়া মোটেও সমীচীন নয়।
Electric Scooter: ব্যাটারি বদলাতে হাজার হাজার টাকা খরচ হতে পারে তাই ইলেকট্রিক স্কুটার ব্যবহারকারীরা এই ভুলগুলো সম্পর্কে সতর্ক থাকুন
হাইলাইটস:
- ইলেকট্রিক স্কুটারের জনপ্রিয়তা ও চাহিদা দিন দিন ক্রমশ বাড়ছে
- পেট্রোলের আকাশছোঁয়া দামের জন্য ই-স্কুটার এক দারুণ বিকল্প
- তবে ই-স্কুটার চালানোর সময় এই ৭টি ভুল এখনই এড়িয়ে চলুন
Electric Scooter: ভারতে ইলেকট্রিক স্কুটারের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়ছে। পেট্রোলের আকাশচুম্বী দামের মাঝে, ই-স্কুটার কম পরিচালন খরচ ও সহজে রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধা প্রদান করে। তবে, ব্যাটারি হলো ইলেকট্রিক স্কুটারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভুল পদ্ধতিতে চার্জ করা, অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শে রাখা, সবসময় দ্রুতগতিতে চালানো এবং ঘনঘন ব্যাটারি পুরোপুরি নিঃশেষ করে ফেলার মতো অভ্যাসগুলো এর কার্যক্ষমতা ও আয়ুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সুজুকি মোটরসাইকেল ইন্ডিয়াও মালিকদের পরামর্শ দিয়েছে যে, ব্যাটারির আয়ু বাড়াতে নিয়মিত চার্জ করা, ব্যাটারি সম্পূর্ণ নিঃশেষ (ডিপ ডিসচার্জ) হওয়া থেকে বিরত থাকা এবং সঠিক চার্জার ব্যবহার করা প্রয়োজন। আপনি যদি চান আপনার ই-স্কুটারের ব্যাটারি দীর্ঘ সময় ধরে ভালো অবস্থায় থাকুক—এবং সময়ের আগেই হাজার হাজার টাকা খরচ করা এড়াতে চান—তবে এই ভুলগুলো থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত জরুরি।
We’re now on Telegram- Click to join
বারবার ব্যাটারি পুরোপুরি নিঃশেষ করা
অনেকেই স্কুটারের ব্যাটারির চার্জ ১-২%-এ নেমে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন এবং তারপর তা চার্জ দেন। মাঝেমধ্যে এমনটা করা খুব বড় কোনো সমস্যা না হলেও, নিয়মিতভাবে ব্যাটারির চার্জ এতটা কমিয়ে ফেলা বা ‘ডিপ ডিসচার্জ’ হতে দেওয়া মোটেও সমীচীন নয়। সুজুকির ব্যাটারি-যত্ন বিষয়ক নির্দেশিকাতেও ঘন ঘন ডিপ ডিসচার্জ এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যারা প্রতিদিন স্কুটার ব্যবহার করেন, তাদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত ব্যাটারি চার্জ দেওয়াই শ্রেয়; তবে এক্ষেত্রে আপনার স্কুটারের নির্দিষ্ট মডেল ও ব্যাটারির ধরন অনুযায়ী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নির্দেশিকাগুলোকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
We’re now on WhatsApp- Click to join
প্রতিবার ১০০% পর্যন্ত চার্জ করা
প্রতিবার ১০০% পর্যন্ত চার্জ করাটা মূলত ভুল কিছু নয়, বিশেষ করে যখন আপনাকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। তবে, প্রতিদিন দীর্ঘ সময়ের জন্য স্কুটারটিকে ১০০% চার্জ অবস্থায় ফেলে রাখলে তা ব্যাটারির আয়ুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বৈদ্যুতিক যানবাহনের (EV) রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী, দৈনন্দিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে চার্জের মাত্রা ২০% থেকে ৮০%-এর মধ্যে রাখলে ব্যাটারির ওপর কম চাপ পড়ে। যদি পরদিন কোনো দীর্ঘ যাত্রার পরিকল্পনা থাকে, তবে প্রস্তুতকারকের পরামর্শ অনুযায়ী ১০০% পর্যন্ত চার্জ করাটা গ্রহণযোগ্য। তাই, কেবল চার্জের শতাংশের সংখ্যার ওপর নির্ভর না করে আপনার স্কুটারের প্রস্তুতকারকের দেওয়া চার্জিং সংক্রান্ত পরামর্শগুলো মেনে চলুন।
গরম অবস্থায় স্কুটার চার্জে বসানো
অতিরিক্ত তাপ ব্যাটারির অন্যতম প্রধান শত্রু হতে পারে। বিশেষ করে ভারতে, গ্রীষ্মকালে দীর্ঘ সময় ধরে দ্রুতগতিতে চালানোর ফলে ব্যাটারি গরম হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে, সাথে সাথে চার্জে না বসিয়ে স্কুটারটিকে কিছুক্ষণ ঠান্ডা হতে দেওয়া ভালো—অবশ্য যদি প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকায় এর অনুমতি থাকে। অত্যধিক তাপমাত্রা ব্যাটারির আয়ু ও কার্যক্ষমতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। গ্রীষ্মকালে স্কুটারটিকে দীর্ঘ সময় ধরে সরাসরি কড়া রোদে পার্ক করা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন।
সস্তা বা জেনেরিক চার্জার ব্যবহার করা
এই ভুলটি কেবল ব্যাটারির জন্যই নয়, বরং নিরাপত্তার দিক থেকেও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিভিন্ন ইলেকট্রিক স্কুটারের ব্যাটারির স্পেসিফিকেশন, ভোল্টেজের প্রয়োজনীয়তা এবং চার্জিং ব্যবস্থা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই সবসময় কোম্পানির দেওয়া বা প্রস্তুতকারকের অনুমোদিত চার্জার ব্যবহার করা উচিত। সুজুকিও তাদের ইলেকট্রিক স্কুটারের জন্য শুধুমাত্র প্রস্তুতকারকের সরবরাহকৃত বা অনুমোদিত চার্জার ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। ভুল চার্জিং সরঞ্জাম ব্যবহার করলে ব্যাটারির ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
অতিরিক্ত গতি এবং হঠাৎ গতি বাড়ানো
অতিরিক্ত গতিতে চালানো এবং ঘন ঘন হঠাৎ গতি বাড়ানোর ফলে মোটরের ওপর শক্তির বাড়তি চাপ পড়ে। এর ফলে ব্যাটারি দ্রুত খরচ হয়ে যেতে পারে এবং একবার চার্জ দিয়ে স্কুটারটি যতটা পথ চলার কথা (রেঞ্জ), তা কমে যেতে পারে। ধীরে গতি বাড়ানো, স্থির গতি বজায় রাখা এবং ট্রাফিক পরিস্থিতি অনুযায়ী গাড়ি চালানোর অভ্যাস শক্তির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এটি ব্যাটারির ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমাতেও সাহায্য করে।
টায়ারের হাওয়া কম রাখা
ব্যাটারির শক্তি সাশ্রয়ের জন্য কেবল চার্জিংয়ের দিকে মনোযোগ দিলেই চলে না; ইলেকট্রিক স্কুটারের রেঞ্জ বা চলার দূরত্বের ওপর টায়ারের হাওয়ার চাপের প্রভাবও রয়েছে। টায়ারে হাওয়ার চাপ কম থাকলে রাস্তায় চলার সময় ‘রোলিং রেজিস্ট্যান্স’ বা ঘর্ষণজনিত বাধা বেড়ে যায়, ফলে স্কুটারটিকে সামনে এগিয়ে নিতে অধিক শক্তির প্রয়োজন হয়। তাই প্রস্তুতকারকের নির্দেশিত হাওয়ার চাপ অনুযায়ী নিয়মিত টায়ার পরীক্ষা করুন। সঠিক মাত্রায় হাওয়াের চাপ বজায় রাখলে স্কুটারের রেঞ্জ ভালো থাকে এবং রাইড বা ভ্রমণটি নিরাপদ হয়।
স্কুটারে অতিরিক্ত ওজন বা ভার চাপানো
ই-স্কুটারের ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি ভার বহন করলে মোটরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। এর ফলে শক্তির ব্যবহার বেড়ে যায় এবং ব্যাটারি দ্রুত খরচ হয়ে যায়। তাই প্রতিদিন অতিরিক্ত ভারী বোঝা বহন করা বা নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ওজন নিয়ে স্কুটার চালানো থেকে বিরত থাকা উচিত। প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা বা ম্যানুয়ালে স্কুটারটির সর্বোচ্চ ভার বহনের ক্ষমতা উল্লেখ করা থাকে; এটি উপেক্ষা করলে কেবল ব্যাটারিই নয়, বরং টায়ার, সাসপেনশন এবং ব্রেকের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বৃষ্টির পরই চার্জ দেওয়া
বর্ষাকালে ইলেকট্রিক স্কুটার ব্যবহারের সময় চার্জিংয়ের বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। ভেজা অবস্থায় চার্জার, চার্জিং পোর্ট বা সংযোগস্থল ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা চার্জিংয়ের সরঞ্জামগুলো বৃষ্টি ও পানি থেকে সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দেন। স্কুটারটি যদি বৃষ্টিতে ভিজে যায়, তবে চার্জ দেওয়ার আগে চার্জিং পোর্ট ও সংশ্লিষ্ট অংশগুলো পুরোপুরি শুকিয়ে নিন এবং প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা মেনে চলুন।
দীর্ঘ সময় ধরে স্কুটার ০% বা ১০০% চার্জে ফেলে রাখা
আপনি যদি বেশ কয়েক দিন বা সপ্তাহ স্কুটার ব্যবহার না করার পরিকল্পনা করেন, তবে এটিকে দীর্ঘ সময় ধরে সম্পূর্ণ চার্জ-শূন্য বা পূর্ণ চার্জ অবস্থায় ফেলে রাখা উচিত নয়। দৈনন্দিন ব্যবহারের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যাটারির চার্জ একটি মাঝারি পর্যায়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। সংরক্ষণের নির্দেশনার জন্য সর্বদা স্কুটারের ম্যানুয়াল বা নির্দেশিকা দেখে নিন, কারণ বিভিন্ন ব্যাটারি সিস্টেমের প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন হতে পারে।
ব্যাটারি নিয়ে নিজে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা মেরামতের চেষ্টা করবেন না
যদি ব্যাটারি ফুলে যায়, অস্বাভাবিকভাবে অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়, তীব্র গন্ধ বের হয়, চার্জিংয়ে সমস্যা দেখা দেয় বা হঠাৎ করে রেঞ্জ (একবার চার্জে চলার দূরত্ব) কমে যায়, তবে স্থানীয় কোনো পদ্ধতিতে এটি খোলার বা মেরামত করার চেষ্টা করবেন না। অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে এটি পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে ভালো।
ছোটখাটো সতর্কতা আপনাকে বড় ধরনের খরচ থেকে বাঁচাতে পারে
ই-স্কুটারের ব্যাটারি চিরকাল স্থায়ী হয় না। সময়ের সাথে সাথে এর কার্যক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসে, তবে সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে অকাল কার্যক্ষমতা হ্রাস রোধ করা সম্ভব। নিয়মিত ও সঠিকভাবে চার্জ দেওয়া, অতিরিক্ত তাপ থেকে সুরক্ষা, সঠিক চার্জার ব্যবহার, টায়ারে সঠিক বায়ুর চাপ বজায় রাখা এবং দায়িত্বশীলভাবে স্কুটার চালানোর মতো অভ্যাসগুলো ব্যাটারির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। তাই, পরের বার যখন ই-স্কুটার চালাবেন, তখন কেবল এর রেঞ্জ বা দূরত্বের দিকেই নয়, বরং ব্যাটারির অবস্থার দিকেও নজর দিন। সামান্য কয়েক মিনিটের যত্ন আপনাকে ভবিষ্যতে ব্যাটারি পরিবর্তন বা বড় ধরনের মেরামতের বিশাল খরচ থেকে বাঁচাতে পারে।
এইরকম আরও যানবাহন সংক্রান্ত প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।







