Bangla News

PM Narendra Modi: জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য এক নতুন যুগ, ৩৭০ ধারা বাতিলের সপ্তম বার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন যে, ২০১৯ সালের ৫ই আগস্ট নেওয়া সিদ্ধান্তটি জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের উন্নয়নের পথে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ছিল।

PM Narendra Modi: ৩৭০ ধারা বাতিলের সপ্তম বার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, বলেছেন, জম্মু ও কাশ্মীর উন্নয়নের এক নয়া অধ্যায় রচনা

হাইলাইটস:

  • জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের ৭ম বার্ষিকী
  • সপ্তম বার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বার্তা
  • কী ঘটেছিল ২০১৯ সালের ৫ই আগস্ট? জানুন

PM Narendra Modi: জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের সাত বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন যে, ২০১৯ সালে নেওয়া সেই সিদ্ধান্ত এই অঞ্চলের জন্য এক “নতুন যুগের” সূচনা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, গত সাত বছরে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চারিত হয়েছে। এদিকে, এই উপলক্ষকে কেন্দ্র করে সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

We’re now on WhatsApp- Click to join

প্রধানমন্ত্রী মোদী কী বলেছেন?

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন যে, ২০১৯ সালের ৫ই আগস্ট নেওয়া সিদ্ধান্তটি জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের উন্নয়নের পথে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত সাত বছরে সড়ক, রেলপথ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন এবং ডিজিটাল সংযোগের মতো ক্ষেত্রগুলিতে দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, জম্মু-কাশ্মীরের জনগণকে সমান সুযোগ, উন্নত পরিকাঠামো এবং উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়াই কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের এই ধারা আগামী বছরগুলিতেও অব্যাহত থাকবে।

We’re now on Telegram- Click to join

২০১৯ সালের ৫ই আগস্ট কী ঘটেছিল?

২০১৯ সালের ৫ই আগস্ট কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিশেষ বিধানগুলি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে ৩৫এ (35A) অনুচ্ছেদটিও অকার্যকর হয়ে পড়ে। এরপর, জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যটিকে পুনর্গঠিত করে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়—

  • জম্মু ও কাশ্মীর
  • লাদাখ

ভারতীয় রাজনীতি ও সাংবিধানিক বিষয়াবলির ইতিহাসে এটিকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের তালিকা

কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, ৩৭০ ধারা বাতিলের পর জম্মু ও কাশ্মীরে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর গতি বেড়েছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে—

  • জাতীয় মহাসড়ক ও সুড়ঙ্গ (টানেল) নির্মাণের কাজ ত্বরান্বিত হয়েছে।
  • রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ঘটেছে।
  • পর্যটন খাতে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটেছে।
  • বিনিয়োগ প্রস্তাবের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • পঞ্চায়েত ও স্থানীয় সংস্থার নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করা হয়েছে।
  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বেশ কিছু নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপগুলো অঞ্চলটির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এক নতুন দিশা দেখিয়েছে।

বিরোধী পক্ষের ভিন্নমত

তবে বিরোধী দলগুলো এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রশ্ন তুলেছে। ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি), পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) এবং কংগ্রেস-সহ বেশ কয়েকটি দলের মতে, ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তটি ব্যাপক রাজনৈতিক ঐকমত্য ছাড়াই নেওয়া হয়েছিল। বিরোধী পক্ষের কয়েকজন নেতা রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহাল এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা

৩৭০ ধারা বাতিলের বার্ষিকী উপলক্ষে জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত জোরদার করা হয়েছিল।

  • শ্রীনগর, জম্মু এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
  • প্রধান বাজার, সরকারি ভবন এবং ধর্মীয় স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়।
  • বিভিন্ন স্থানে যানবাহন তল্লাশির কাজ জোরদার করা হয়।
  • ড্রোন ও সিসিটিভি ব্যবহার করে নজরদারি চালানো হয়।

প্রশাসন জানিয়েছে যে, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

অমরনাথ যাত্রার ওপর প্রভাব

নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রশাসন জম্মু থেকে অমরনাথ যাত্রীদের নতুন একটি দলের যাত্রা একদিনের জন্য স্থগিত রেখেছে। পাশাপাশি, জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় মহাসড়কে নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িবহরের চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে এটি একটি সাময়িক পদক্ষেপ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে, সুপ্রিম কোর্ট ৩৭০ ধারা বাতিলের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রাখে। আদালত এও প্রত্যাশা করেছিল যে, কেন্দ্র জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচন আয়োজন এবং রাজ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে একটি যুক্তিসঙ্গত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পরবর্তীকালে, ওই অঞ্চলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

পর্যটন ও বিনিয়োগের প্রসার

সরকারের দাবি, গত কয়েক বছরে জম্মু ও কাশ্মীরের পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। গুলমার্গ, পহেলগাম, সোনমার্গ এবং ডাল লেকের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বিপুল সংখ্যক পর্যটক ভিড় করেছেন। পাশাপাশি, হোটেল, আতিথেয়তা এবং অবকাঠামো খাতে বেসরকারি বিনিয়োগও বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের মতে, এর ফলে স্থানীয় জনগণের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে।

Read More- ‘কোনও পেপার মাফিয়াকে ছাড়া হবে না’ সংসদে এবার পাস অ্যান্টি-পেপার লিক বিলের কথা জানিয়ে প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

যুবসমাজের জন্য নতুন কর্মসূচি

কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু ও কাশ্মীরে দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ, স্ব-কর্মসংস্থান এবং শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচি সম্প্রসারিত করেছে। সরকারের দাবি, যুবসমাজকে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।

ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী বছরগুলোতে জম্মু ও কাশ্মীরের উন্নয়ন, নিরাপত্তা, বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহাল, স্থানীয় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও শক্তিশালীকরণ এবং বিনিয়োগের প্রসারের মতো বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। ৩৭০ ধারা বাতিলের সাত বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এটিকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের জন্য এক “নতুন যুগের সূচনা” হিসেবে অভিহিত করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকার উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও সুশাসনকে তাদের প্রধান সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও, বিরোধী পক্ষ এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক দিকগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলা অব্যাহত রেখেছে। এদিকে, এই বার্ষিকী উপলক্ষে সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে।

এইরকম আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।

Back to top button