lifestyleTech

Amazon Layoffs: নতুন ডিভাইস বাজারে আনার পরই বড় সিদ্ধান্ত নিল অ্যামাজন, চাকরি হারালেন ২৫০জন কর্মী

বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যামাজনের ‘ডিভাইসেস অ্যান্ড সার্ভিসেস’ বিভাগ থেকে প্রায় ২৫০টি পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে। এই ছাঁটাইয়ের ফলে মূলত সফটওয়্যার উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

Amazon Layoffs: অ্যামাজনে কর্মী ছাঁটাইয়ের ধারা কী অব্যাহত? কোম্পানির ডিভাইস ইউনিটের ২৫০ জন কর্মী ছাঁটাই

 

হাইলাইটস:

  • বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ই-কমার্স ও প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যামাজন
  • ফের কর্মী ছাঁটাইয়ের জন্য খবরের শিরোনামে হয়েছে অ্যামাজন
  • সম্প্রতি, প্রায় ২৫০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে অ্যামাজন

Amazon Layoffs: বিশ্বের অন্যতম প্রধান ই-কমার্স ও প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যামাজন কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। কোম্পানিটি তাদের ‘ডিভাইসেস অ্যান্ড সার্ভিসেস’ বিভাগ থেকে প্রায় ২৫০টি পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো যখন কোম্পানিটি কিন্ডল ই-রিডার ও ট্যাবলেটের মতো নতুন পণ্য বাজারে এনেছে। এমনকি যেদিন কর্মী ছাঁটাইয়ের খবরটি সামনে আসে, ঠিক সেদিনই অ্যামাজন অ্যালেক্সা-চালিত নতুন কিছু ডিভাইসেরও ঘোষণা দেয়। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের অনুসন্ধানের প্রেক্ষিতে ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে অ্যামাজন এই বিষয়টি নিশ্চিত করে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, কার্যক্রমের দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং ভবিষ্যতের পণ্য পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মী সংখ্যা পুনর্নির্ধারণ করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে।

We’re now on Telegram- Click to join

অ্যামাজন প্রায় ২৫০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে

বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যামাজনের ‘ডিভাইসেস অ্যান্ড সার্ভিসেস’ বিভাগ থেকে প্রায় ২৫০টি পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে। এই ছাঁটাইয়ের ফলে মূলত সফটওয়্যার উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে, কোম্পানিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের তালিকা বা সুনির্দিষ্ট পদগুলোর কোনো বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেনি। অ্যামাজনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, কিছু পদ বিলুপ্ত করার মতো একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপটি কোম্পানিকে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে এবং তাদের পণ্য পরিকল্পনার সঙ্গে আরও ভালোভাবে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে। বর্তমানে, কোম্পানিটি এই ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট পণ্য বা দলকে দায়ী করেনি।

We’re now on WhatsApp- Click to join

সকালবেলা ইমেইল ও টেক্সট বার্তার মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি

বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার সকালে ইমেইল ও টেক্সট বার্তার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের ছাঁটাইয়ের বিষয়টি জানানো হয়েছে। ‘ডিভাইসেস অ্যান্ড সার্ভিসেস’ ইউনিটের মানবসম্পদ বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট চেরি রবিনসনের পাঠানো একটি বার্তায় সাংগঠনিক কাঠামোর সামগ্রিক পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই আকস্মিক বিজ্ঞপ্তিটি প্রযুক্তি শিল্পে চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তবে, প্রাপ্ত প্রতিবেদনগুলোতে ক্ষতিপূরণ, নোটিশ পিরিয়ড বা ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের অন্য কোনো দলে স্থানান্তরের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

নতুন পণ্য বাজারে আনার পাশাপাশি কর্মী ছাঁটাই কেন ঘটল?

অ্যামাজনের এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে কৌতূহল উদ্দীপক দিকটি হলো, নতুন পণ্য বাজারে আনা এবং কর্মী ছাঁটাই—এই দুটি ঘটনা প্রায় একই সময়ে ঘটেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কোম্পানিটি নতুন কিন্ডল ই-রিডার ও ট্যাবলেট কম্পিউটার বাজারে এনেছে। এরপর ২৮শে অক্টোবর তারা অ্যালেক্সা-চালিত অ্যালার্ম ঘড়ি এবং ফটো ফ্রেম আনার ঘোষণাও দিয়েছে। এটি স্পষ্ট যে, কোম্পানিটির ডিভাইস বিভাগ একদিকে যেমন নতুন পণ্য নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে তারা তাদের সাংগঠনিক কাঠামোও পর্যালোচনা করছে। এটি বোঝা জরুরি যে, নতুন পণ্য বাজারে আনার অর্থ এই নয় যে প্রতিটি বিভাগে কর্মীর সংখ্যা বাড়াতেই হবে। একটি কোম্পানি নতুন পণ্য উন্নয়নের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু পদ বিলুপ্ত বা পুনর্গঠনও করতে পারে। অ্যামাজন জানিয়েছে, এই কর্মী ছাঁটাইয়ের উদ্দেশ্য হলো কার্যক্রমের দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কর্মীবাহিনীর কাঠামো সাজানো। নতুন কিন্ডল বা ট্যাবলেট বাজারে আনাই যে এই কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণ—এমন কোনো ইঙ্গিত কোম্পানিটি দেয়নি।

এই মাসে অ্যামাজনে দ্বিতীয় দফায় কর্মী ছাঁটাই

অক্টোবর মাসে অ্যামাজনে কর্মী ছাঁটাইয়ের এটি দ্বিতীয় বড় ঘটনা। এর আগে, কোম্পানিটি তাদের মূল খুচরা বিক্রয় বিভাগে—যা তাদের প্রধান অনলাইন কেনাকাটার ব্যবসার সাথে যুক্ত—প্রায় ১,০০০টি পদ বিলুপ্ত করেছিল। এখন, ‘ডিভাইসেস অ্যান্ড সার্ভিসেস’ বিভাগে প্রায় ২৫০টি পদ ছাঁটাইয়ের খবর পাওয়া গেছে। পরপর দুবার কর্মী ছাঁটাইয়ের এই ঘটনা কোম্পানিটির সাংগঠনিক অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে, যেহেতু উভয় বিভাগে কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের দায়িত্ব ভিন্ন হতে পারে, তাই এই দুটি সিদ্ধান্তকে একই মূল কারণের ফল হিসেবে গণ্য করা সঠিক হবে না।

এই বিভাগটি কিন্ডল (Kindle), অ্যালেক্সা (Alexa) এবং অন্যান্য ডিভাইস তৈরি করে। অ্যামাজনের ‘ডিভাইসেস অ্যান্ড সার্ভিসেস’ বিভাগটি কোম্পানির অনেক জনপ্রিয় ভোক্তা পণ্যের জন্য দায়ী; যার মধ্যে রয়েছে কিন্ডল ই-রিডার, অ্যালেক্সা-চালিত ডিভাইস এবং অন্যান্য বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য। কিন্ডলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ডিজিটাল বই পড়তে পারেন, আর অ্যালেক্সা ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের সাহায্যে স্মার্ট ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ, অ্যালার্ম সেট করা বা তথ্য খোঁজার মতো কাজগুলো করা যায়। কোম্পানিটি নিয়মিতভাবে এই খাতে নতুন পণ্য ও ফিচার নিয়ে আসে; সাম্প্রতিক সংযোজনগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন কিন্ডল মডেল, ট্যাবলেট এবং অ্যালেক্সা-চালিত ডিভাইস। সুতরাং, এই বিভাগে কর্মী সংখ্যা কমানোর অর্থ এই নয় যে অ্যামাজন তাদের ডিভাইস ব্যবসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটি এমন কোনো ঘোষণা দেয়নি।

প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোতে ছাঁটাইয়ের ঝড়

অ্যামাজনে সাম্প্রতিক এই ছাঁটাই এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন কোম্পানি তাদের ব্যয়, কর্মীসংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা এবং ভবিষ্যতের ব্যবসায়িক পরিকল্পনাগুলো পুনর্বিবেচনা করছে। বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কিছু বিভাগ সম্প্রসারিত হলেও, অন্যান্য ক্ষেত্রের পদগুলোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে অথবা সেগুলো বিলুপ্ত করা হচ্ছে। অনেক কোম্পানি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং উদীয়মান প্রযুক্তিতে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে, অ্যামাজনের পক্ষ থেকে এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যে, এই ছাঁটাইয়ের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তাদের বিনিয়োগের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে। কর্মীদের জন্য এ ধরনের খবর চাকরির নিরাপত্তা, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে সাংগঠনিক পরিবর্তনের প্রভাব কেবল ব্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি দলের দায়িত্বাবলি এবং পণ্য উন্নয়নের গতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

Read More- সবচেয়ে বড় সেল শুরু হওয়ার আগেই ৩,০০০ টাকার নিচে সেরা পুমা, অ্যাডিডাস এবং স্কেচার্স জুতো কিনে ফেলুন

এরপর কী হবে?

অ্যামাজনের ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল ২৯শে অক্টোবর, মার্কিন বাজার বন্ধ হওয়ার পর প্রকাশ করার কথা ছিল। এই ফলাফলগুলো কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম, ব্যয় এবং আর্থিক পারফরম্যান্স সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দিতে পারে। তবে, কেবল কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর দেখে কোম্পানির সামগ্রিক আর্থিক অবস্থা বা কোনো নির্দিষ্ট পণ্যের সাফল্য সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। অ্যামাজনের ‘ডিভাইসেস অ্যান্ড সার্ভিসেস’ বিভাগ থেকে প্রায় ২৫০টি পদ বিলুপ্ত করার বিষয়টি তাদের সাংগঠনিক পর্যালোচনারই একটি অংশ। নতুন কিন্ডল ও ট্যাবলেট মডেল বাজারে আনার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো; একই সময়ে আলেক্সা-চালিত নতুন ডিভাইসের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে পণ্যের রোডম্যাপের সাথে আরও ভালোভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে অ্যামাজন তাদের ডিভাইস ব্যবসা এবং কর্মীবাহিনীর কাঠামোতে আর কী কী পরিবর্তন আনে, তা দেখার বিষয় হবে।

এইরকম আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।

Back to top button