Mamata Banerjee: একসময় কংগ্রেসকে গুরুত্ব দিতেন না, এখন সোনিয়া গান্ধীকে ‘আমার নেত্রী’ বলছেন! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সমীকরণ কেন হঠাৎ পাল্টে গেল?
একটা সময় ছিল যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় স্তরে কংগ্রেস দলকে পুরোপুরি গুরুত্ব দেওয়া এড়িয়ে চলতেন এবং তাঁর আঞ্চলিক শক্তির ওপর নির্ভর করতেন। তবে, দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে 'ভোট চুরির' বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটের বিশাল জনসভায় তাঁর পরিবর্তিত এবং উল্লেখযোগ্যভাবে নরম মনোভাব রাজনৈতিক মহলে আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।
Mamata Banerjee: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পর কংগ্রেস দলের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা জাতীয় স্তরে বিরোধী ঐক্য শক্তিশালী হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ
হাইলাইটস:
- তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান এখন বদলে গেছে
- একসময় কংগ্রেস দল থেকে দূরে থাকা মমতা দিল্লিতে ইন্ডিয়া অ্যালায়েন্সের সমাবেশে “আমার নেত্রী সোনিয়া জি-কে আমার নমস্কার” বলে সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন
- তিনি রাহুল গান্ধীকে একজন তরুণ নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বামপন্থী নেতা এম. এ. বেবির কথাও উল্লেখ করেছেন
Mamata Banerjee: ভারতীয় রাজনীতিতে কখন মোড় ঘুরবে তা ভবিষ্যদ্বাণী করা সবসময়ই কঠিন। পশ্চিমবঙ্গে একতরফা ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে খ্যাতি অর্জনকারী তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। একটা সময় ছিল যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় স্তরে কংগ্রেস দলকে পুরোপুরি গুরুত্ব দেওয়া এড়িয়ে চলতেন এবং তাঁর আঞ্চলিক শক্তির ওপর নির্ভর করতেন। তবে, দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে ‘ভোট চুরির’ বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটের বিশাল জনসভায় তাঁর পরিবর্তিত এবং উল্লেখযোগ্যভাবে নরম মনোভাব রাজনৈতিক মহলে আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।
We’re now on WhatsApp – Click to join
এদিনের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভঙ্গি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছিল। তিনি তাঁর ভাষণ শুরু করেন এই স্পষ্ট কথা দিয়ে, “আমার নেত্রী সোনিয়া জি-কে আমার নমস্কার।” সোনিয়া গান্ধীর ঠিক পাশেই তাঁর উপস্থিতি এবং তাঁর প্রতি দেখানো সম্মান স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে, মমতা এখন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছেন। এছাড়াও, তিনি কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে একজন “লড়াকু তরুণ নেতা” বলে অভিহিত করেন এবং মঞ্চ থেকে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক এম. এ. বেবির নাম উল্লেখ করে সবাইকে অবাক করে দেন। তাছাড়া, মল্লিকার্জুন খাড়গে, অখিলেশ যাদব এবং তেজস্বী যাদবের মতো নেতাদের নাম উল্লেখ করে তিনি শক্তিশালী বিরোধী ঐক্যের বার্তা দেন।
Imagine destroying a party brick by brick in Bengal, abusing its top leaders, and calling them failures.
Then, within six months of losing power, attending the same party’s rally and starting your speech with, “My leader, Sonia ji.”
Presenting Mamata Banerjee. pic.twitter.com/BnqGFAamt4
— Himadri (@onlineGhosh) November 1, 2026
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৌশল কেন বদলে গেল?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কৌশলগত বাধ্যবাধকতাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর কংগ্রেস এবং তার শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি এই উদার মনোভাব হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। একটা সময় ছিল যখন বাংলায় কংগ্রেসের চিরাচরিত ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত করার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হতো। জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব এবং আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও সুবিদিত ছিল।
তবে, পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের পর যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রকাশ্যে তাঁর সমর্থনে এগিয়ে আসেন। এরপর দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সোনিয়া গান্ধীর মধ্যে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকগুলো দুই দলের মধ্যকার বরফ গলাতে সাহায্য করে।
বিরোধী ঐক্য এবং জাতীয় রাজনীতির জন্য এর অর্থ কী?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অবস্থান পরিবর্তন স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, বর্তমান জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি আঞ্চলিক আগ্রাসনের চেয়ে ব্যাপক বিরোধী ঐক্যকে বেশি অগ্রাধিকার দেন। বিজেপির বিরুদ্ধে আসন্ন বড় লড়াইয়ের প্রস্তুতি এবং তাঁর জাতীয় কৌশলের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর কংগ্রেসকে কোণঠাসা করার ঝুঁকি নিতে চান না। তাঁর এই পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গি শুধু বিরোধী শিবিরকেই পুনরুজ্জীবিত করে না, বরং এটিও প্রমাণ করে যে রাজনীতিতে কোনো স্থায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী নেই; সময় ও প্রয়োজন অনুযায়ী সমীকরণ স্বাভাবিকভাবেই বদলে যায়।
এই রকম রাজনৈতিক প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।





