Bangla News

Digital Payment Network: UPI-এর আদলে কি তৈরি হচ্ছে ‘ব্রিকস পে’? জেনে নিন ভারত ও আরও কয়েকটি দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা কীভাবে বদলে যেতে পারে

এমন এক সময়ে এই উদ্যোগটি নেওয়া হচ্ছে যখন ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার এবং আন্তঃসীমান্ত লেনদেনকে আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Digital Payment Network: আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে আসছে ‘ব্রিকস পে’! জেনে নিন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা কীভাবে উপকৃত হবেন

হাইলাইটস:

  • ব্রিকস সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে ‘ব্রিকস পে’ নিয়ে আলোচনা আবারও জোরদার হয়েছে
  • ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা সহজ করার লক্ষ্যেই মূলত এই উদ্যোগ
  • আজ এই প্রতিবেদনে ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জেনে নিন

Digital Payment Network: ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে ‘ব্রিকস পে’ নিয়ে আলোচনা আবারও জোরদার হয়েছে। ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল লেনদেন সহজতর করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই নতুন আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। ‘ব্রিকস পে’-এর লক্ষ্য হলো এমন একটি পেমেন্ট পরিকাঠামো গড়ে তোলা, যার মাধ্যমে সদস্য ও সহযোগী দেশগুলো তাদের বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ পেমেন্ট ব্যবস্থাগুলোকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করতে পারবে এবং স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (RDIF) এবং ‘ব্রিকস পে ইন্ডিয়া’ ভারতে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত লেনদেনের জন্য একটি সম্ভাব্য পাইলট প্রকল্প তৈরির বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

এমন এক সময়ে এই উদ্যোগটি নেওয়া হচ্ছে যখন ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার এবং আন্তঃসীমান্ত লেনদেনকে আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররাও পেমেন্ট ব্যবস্থাগুলোর পারস্পরিক সংযোগ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য প্রসারের পক্ষে মত দিয়েছেন।

We’re now on Telegram- Click to join

সহজ কথায় ‘ব্রিকস পে’-এর বিষয়টি বুঝে নিন

‘ব্রিকস পে’-কে কোনো নতুন মুদ্রা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বর্তমানে এটি এমন একটি কাঠামো যার লক্ষ্য হলো বিভিন্ন দেশের বিদ্যমান ডিজিটাল পেমেন্ট বা অর্থপ্রদান ব্যবস্থাকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করা। অর্থাৎ, এর উদ্দেশ্য প্রতিটি দেশের জন্য নতুন কোনো মুদ্রা তৈরি করা নয়, বরং বিভিন্ন দেশের নিজস্ব পেমেন্ট ব্যবস্থার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা। উদাহরণস্বরূপ, ভারতে যেমন UPI অত্যন্ত জনপ্রিয়, তেমনি রাশিয়ায় ব্যবহৃত হয় ‘ফাস্টার পেমেন্টস সিস্টেম’ (FPS)। ‘ব্রিকস পে’-র মাধ্যমে এ ধরনের অভ্যন্তরীণ পেমেন্ট ব্যবস্থাগুলোকে সংযুক্ত করার কাজ চলছে। এছাড়া ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভারত ও রাশিয়ার পেমেন্ট নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করার পরিকল্পনাও প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে উভয় দেশের ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের জন্য আন্তঃসীমান্ত অর্থ লেনদেন বা পেমেন্ট প্রক্রিয়া সহজতর হতে পারে।

We’re now on WhatsApp- Click to join

UPI এবং ব্রিকস পে-এর মধ্যে সম্পর্ক কী? ভারতের জন্য ‘ব্রিকস পে’ সংক্রান্ত আলোচনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশটির নিজস্ব একটি শক্তিশালী ডিজিটাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক—UPI—রয়েছে। ব্রিকস বিজনেস ফোরামে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল সদস্য দেশগুলোর পেমেন্ট ব্যবস্থাকে একীভূত করার এবং স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। পাশাপাশি, তিনি ভারতের ডিজিটাল সক্ষমতার উদাহরণ হিসেবে UPI-এর বিশ্বব্যাপী বিস্তৃতির বিষয়টিও তুলে ধরেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, UPI তার বর্তমান রূপেই প্রতিটি ব্রিকস দেশে চালু করা হবে। কারণ, বিভিন্ন দেশের ব্যাংকিং বিধিমালা, মুদ্রা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই এই পুরো উদ্যোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ‘ইন্টারঅপারেবিলিটি’ বা আন্তঃকার্যক্ষমতা অর্জন করা—অর্থাৎ এই বৈচিত্র্যময় ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বা মেলবন্ধন গড়ে তোলা।

এটি কীভাবে ডলারের আধিপত্য কমাতে পারে?

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলার দীর্ঘকাল ধরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দুটি দেশের মধ্যে যখন বাণিজ্য হয়, তখন প্রায়শই ডলারের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন করা হয়, যা এই মুদ্রার বৈশ্বিক চাহিদা বজায় রাখে। ব্রিকস দেশগুলো যদি স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য ও লেনদেন পরিচালনার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সফল হয়, তবে নির্দিষ্ট কিছু লেনদেনের ক্ষেত্রে ডলারের প্রয়োজনীয়তা কমে যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যকার বাণিজ্যিক লেনদেন যদি সরাসরি রুপি ও রুবলের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যায়, তবে প্রতিটি লেনদেনের আগে সেগুলোকে ডলারে রূপান্তর করার আবশ্যকতা হ্রাস পেতে পারে। এর ফলে মুদ্রা রূপান্তরজনিত খরচ কমতে পারে এবং লেনদেন প্রক্রিয়াকরণের সময়ও কমে আসতে পারে। ব্রিকসের আর্থিক কর্মকর্তারা আন্তঃসীমান্ত লেনদেনকে আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী, স্বচ্ছ ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে কার্যকর সমাধান খোঁজার ওপর জোর দিয়েছেন; স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য পরিচালনা সেই বৃহত্তর কৌশলেরই একটি অংশ।

‘ব্রিকস পে’ কি মার্কিন ডলারের প্রচলন বন্ধ করে দেবে?

‘ব্রিকস পে’ মার্কিন ডলারকে পুরোপুরি বিলুপ্ত করে দেবে—এমন দাবি করাটা হবে অকালপক্ব বা তাড়াহুড়ো করে নেওয়া সিদ্ধান্ত। প্রকৃতপক্ষে, ব্রিকস-এর বর্তমান আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো বিভিন্ন দেশের পেমেন্ট বা অর্থপ্রদান ব্যবস্থাকে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করা এবং স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন বৃদ্ধি করা; কোনো একক বা অভিন্ন ব্রিকস মুদ্রা চালু করা নয়। ভারতও এ ধরনের কোনো সমন্বিত ব্যবস্থার চেয়ে বরং জাতীয় পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রার (CBDC) মধ্যে সংযোগ স্থাপনের বিষয়টিকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে মনে হয়। রাশিয়াও সম্প্রতি জানিয়েছে যে, তাদের লক্ষ্য আবশ্যিকভাবে ‘ডি-ডলারাইজেশন’ বা ডলারের ব্যবহার বর্জন করা নয় এবং গ্রহণযোগ্য যেকোনো পেমেন্ট পদ্ধতির বিষয়ে তারা ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। সুতরাং, ব্রিকস-এর সব সদস্যই যে একবারে ডলার বর্জনের পক্ষে—এমনটা মনে করা সঠিক হবে না।

সাধারণ মানুষ কীভাবে উপকৃত হতে পারে?

ভবিষ্যতে যদি ব্রিকস দেশগুলোর ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাগুলোকে কার্যকরভাবে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করা হয়, তবে এর সুফল কেবল সরকার বা বড় বড় কর্পোরেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর ফলে অন্যান্য ব্রিকস দেশে ভ্রমণকারী ভারতীয় নাগরিক, সেখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য অর্থ আদান-প্রদান বা পেমেন্ট প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে অন্য কোনো দেশে পেমেন্ট করার ক্ষেত্রে মুদ্রা বিনিময় বা কনভার্সন চার্জ, ব্যাংকিং মধ্যস্থতাকারীর ফি, কার্ড নেটওয়ার্ক ফি এবং অন্যান্য করের মতো বাড়তি খরচ হতে পারে। একটি আন্তঃপরিচালনযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে এই প্রক্রিয়াগুলো সহজতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ‘ব্রিকস পে’-এর সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের জন্য দ্রুততর আন্তঃসীমান্ত পেমেন্ট বা লেনদেনের সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

ভারতের জন্য এই উদ্যোগটি কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

‘ব্রিকস পে’ ভারতের জন্য বিভিন্ন দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একদিকে, এটি UPI-এর মতো ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামোকে আন্তর্জাতিক স্তরে সম্প্রসারিত করার সুযোগ করে দেয়; অন্যদিকে, এটি রাশিয়া-সহ প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের সাথে অর্থ আদান-প্রদান বা পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও সুসংহত করতে পারে। এছাড়া, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ভারত তার আর্থিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি করতে চায়। তবে, এমন কোনো ব্যবস্থাকে সমর্থন করার বিষয়ে ভারত সতর্কতা অবলম্বন করছে—যাকে মার্কিন ডলারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার লক্ষ্যে তৈরি একটি নতুন বৈশ্বিক পেমেন্ট কাঠামো হিসেবে গণ্য করা হতে পারে।

এই প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে

ব্যাপক পরিসরে ‘ব্রিকস পে’ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মুদ্রা, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, মূলধন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, আইনি কাঠামো এবং কারিগরি মানের ক্ষেত্রে একে অপরের চেয়ে ভিন্নতা রয়েছে। এছাড়া ভারত, চীন, রাশিয়া, ব্রাজিল এবং অন্যান্য সদস্য দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য বিদ্যমান। এসব কারণে স্থানীয় মুদ্রায় বড় পরিসরে লেনদেনের কোনো ব্যবস্থা চালু করতে সময় লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে ডলারের যে অবস্থান, তা কেবল পেমেন্ট নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং মার্কিন আর্থিক বাজারের গভীরতা, তারল্য এবং বিশ্বব্যাপী এর ব্যাপক বিস্তৃতিও ডলারের শক্তিকে সুদৃঢ় করে। তাই, নির্দিষ্ট কিছু লেনদেনের ক্ষেত্রে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে ‘ব্রিকস পে’ ভূমিকা রাখতে পারলেও, রাতারাতি বিশ্ব আর্থিক ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা সহজ হবে না।

Read More- ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক আলোচনার আবহে পুতিন, শি জিনপিং ও পেজেশকিয়ানকে আতিথ্য দিল ভারত

আপাতত, ‘ব্রিকস পে’-কে ডলারের সরাসরি বিকল্প হিসেবে না দেখে বরং আন্তঃসীমান্ত পেমেন্ট বা লেনদেন সহজতর করার একটি সম্ভাব্য ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করাই অধিক যুক্তিযুক্ত। ‘ব্রিকস পে’ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ভারতে এর সম্ভাব্য পরীক্ষামূলক পরিষেবা চালুর বিষয়ে সাম্প্রতিক চুক্তিটি এই লক্ষ্যের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আগামী বছরগুলোতে যদি ভারতের UPI, রাশিয়ার FPS এবং অন্যান্য ব্রিকস সদস্য দেশের তাৎক্ষণিক পেমেন্ট ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর আন্তঃসংযোগ স্থাপিত হয়, তবে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক লেনদেন প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া, স্থানীয় মুদ্রা ব্যবহার করে বাণিজ্য বৃদ্ধির ফলে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমে আসতে পারে। তবে ‘ব্রিকস পে’-এর সাফল্য নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলো কতটা কার্যকরভাবে তাদের প্রযুক্তিগত, নিয়ন্ত্রণমূলক ও অর্থনৈতিক মতপার্থক্যগুলো নিরসন করতে পারে তার ওপর।

এইরকম আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।

Back to top button