Nipah Virus: নিপা ভাইরাস কতটা বিপজ্জনক, কখন জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে?
পশ্চিমবঙ্গে দুই নার্সের ভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। নিপা ভাইরাস কোনও সাধারণ রোগ নয়। এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে মারাত্মকও হতে পারে।
Nipah Virus: নিপা ভাইরাস কোনও সাধারণ রোগ নয়, এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে মারাত্মকও হতে পারে
হাইলাইটস:
- দেশে আবারও একটি বিপজ্জনক ভাইরাস জনসাধারণের উদ্বেগ বাড়িয়েছে
- পশ্চিমবঙ্গে দুই নার্সের ভাইরাসের লক্ষণ সামনে এসেছে
- নিপা ভাইরাস কতটা বিপজ্জনক এবং কখন জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে জানুন
Nipah Virus: দেশে আবারও একটি বিপজ্জনক ভাইরাস জনসাধারণের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। সন্দেহভাজন নিপা ভাইরাস আক্রান্তের খবর পাওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে দুই নার্সের ভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। নিপা ভাইরাস কোনও সাধারণ রোগ নয়। এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে মারাত্মকও হতে পারে।
We’re now on WhatsApp – Click to join
এই কারণেই, যখনই নিপার ঘটনা রিপোর্ট করা হয়, তখনই আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করে। এই ভাইরাসের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এর কোনও সুনির্দিষ্ট প্রতিকার বা টিকা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। তাই, প্রতিরোধকেই সর্বোত্তম সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাহলে, আসুন জেনে নেওয়া যাক নিপা ভাইরাস কতটা বিপজ্জনক এবং কখন জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।
নিপা ভাইরাস কী?
নিপা ভাইরাস একটি জুনোটিক ভাইরাস, অর্থাৎ এটি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাসের প্রাথমিক উৎস হল বাদুড়। এই ভাইরাসটি প্রথম ১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়ায় আবিষ্কৃত হয়েছিল। সেই সময়ে, এটি বাদুড় থেকে শূকরে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে শূকরের সংস্পর্শে আসা মানুষকে সংক্রামিত করে। সেই প্রাদুর্ভাবে শত শত মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং অনেকেই মারা যায়। পরবর্তী সময়ে ভারত এবং বাংলাদেশে সময়ে সময়ে এই রোগের খবর পাওয়া গেছে।
নিপা ভাইরাস কতটা বিপজ্জনক?
নিপা ভাইরাসকে বিপজ্জনক বলে মনে করা হয় কারণ এর মৃত্যুর হার বেশি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাইরাস ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ রোগীর মৃত্যু ঘটাতে পারে। এই ভাইরাস সরাসরি মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে এবং মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) সৃষ্টি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা এত দ্রুত খারাপ হয়ে যায় যে ডাক্তারদের সাড়া দেওয়ার সুযোগও থাকে না। এই কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নিপা ভাইরাসকে সবচেয়ে বিপজ্জনক রোগের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
Symptoms of Nipah Virus in humans can range from fever and headache to respiratory distress and neurological complications.
Early recognition of these symptoms and timely medical care are critical to reducing severity and preventing complications.#NipahVirus #HealthAwareness… pic.twitter.com/ZlftFT2xVb— Ministry of Health (@MoHFW_INDIA) January 15, 2026
নিপা ভাইরাসের লক্ষণগুলি কী কী?
নিপা ভাইরাসের লক্ষণগুলি সাধারণত সংক্রমণের ৪ থেকে ১৪ দিন পরে দেখা দেয়। কিছু ক্ষেত্রে, লক্ষণগুলি দেখা দিতে ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। প্রাথমিক লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা, গলা ব্যথা, কাশি, বমি এবং দুর্বলতা। গুরুতর লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি, চরম তন্দ্রাচ্ছন্নতা, শ্বাস নিতে অসুবিধা এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। গুরুতর ক্ষেত্রে, রোগীর মস্তিষ্ক ফুলে যেতে পারে এবং তারা ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে কোমায় চলে যেতে পারে।
কখন জীবন বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে?
রোগীর সময়মতো চিকিৎসা না হলে, সংক্রমণ মস্তিষ্কে পৌঁছালে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়লে, অথবা হাসপাতালের ভেতরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে নিপা ভাইরাস থেকে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে, হাসপাতালের ভেতরেও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে যত্নশীলরাও ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এটি স্পষ্টভাবে এই রোগটি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা প্রদর্শন করে।
নিপা ভাইরাস কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?
নিপা ভাইরাসের কোনও টিকা বা নিশ্চিত প্রতিকার নেই, তাই সতর্কতাই সর্বোত্তম চিকিৎসা। এটি প্রতিরোধ করতে, সাবান ও জল দিয়ে ঘন ঘন হাত ধোয়া, বাদুড় এবং শূকর থেকে দূরত্ব বজায় রাখা, পড়ে থাকা বা অর্ধেক কাটা ফল খাওয়া এড়িয়ে চলা, কাঁচা খেজুরের রস পান করা এড়িয়ে চলা, সংক্রামিত বা সন্দেহভাজন রোগীদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত।
স্বাস্থ্য এবং জীবনধারা সংক্রান্ত আরও প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।







