Nari Choritro Bejay Jotil Review: পারিবারিক গল্প-ফ্যান্টাসি-রোম্যান্স-র ককটেলে কেমন হয়েছে অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলার ‘নারী চরিত্র বেজায় জটিল’?
এই ছবিটিতে কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছেন ‘ঝন্টু’ ওরফে অঙ্কুশ হাজরা। তিনি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা চালায়। বেশ করিতকর্মা একটি ছেলে। পুরনো বাড়িতে মা, বোন, ঠাকুমার সাথে সে থাকে। আর এই বাড়িতেই ভাড়া থাকে ঐন্দ্রিলা সেন ওরফের আঁখি’ নামের একটি মেয়ে।
Nari Choritro Bejay Jotil Review: ছবিতে উপরি পাওনা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতি, এখানে ছবির রিভিউ পড়ুন
হাইলাইটস:
- মির্জার পর অভিনেতা-প্রযোজক অঙ্কুশের এটি দ্বিতীয় প্রয়াস
- এই ছবিটিতে কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছে ঝন্টু এবং আঁখি চরিত্র
- কেমন হল অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলার নারী চরিত্র বেজায় জটিল ছবিটি?
Nari Choritro Bejay Jotil Review: অভিনেতা-প্রযোজক অঙ্কুশের ‘মির্জা’-র পর এবার দ্বিতীয় প্রয়াস ‘নারী চরিত্র বেজায় জটিল’। ছবির প্রথম ঝলক দেখেই পরিষ্কার যে এ ছবি আদ্যন্ত বাণিজ্যিক বিনোদনমূলক ঘরানার। পরিচালক জুটি সুমিত-সাহিলের সাথেও এটা দ্বিতীয় কাজ অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলার। কমেডি জঁর-এর, একইসাথে এটি পারিবারিক ছবিও বটে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ছবিটি মেল গিবসন-হেলেন হান্ট অভিনীত ‘হোয়াট উইমেন ওয়ান্ট’-এর ছায়ায়, তবে চিত্রনাট্যে রয়েছে বাঙালিয়ানাই। বাঙালি আবেগ-নির্ভর শ্রীজীবের চিত্রনাট্য। ন্যান্সি মেয়ার্সের ইংরেজি ছবিটিতে নায়ক একটি দুর্ঘটনার পর মেয়েদের মনের কথা পড়ে ফেলতে পারত। তবে সেই আশ্চর্য শক্তিকে সে কাজে লাগাত শুধু নিজের সুবিধের জন্য। তবে পরে সে বুঝতে পারে মনের কথা জানতে পারা আর উপলব্ধি করার মধ্যে অনেকটাই তফাত রয়েছে বলে। তার জন্য প্রয়োজন মানুষের সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি।
We’re now on WhatsApp- Click to join
এই ছবিটিতে কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছেন ‘ঝন্টু’ ওরফে অঙ্কুশ হাজরা। তিনি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা চালায়। বেশ করিতকর্মা একটি ছেলে। পুরনো বাড়িতে মা, বোন, ঠাকুমার সাথে সে থাকে। আর এই বাড়িতেই ভাড়া থাকে ঐন্দ্রিলা সেন ওরফের আঁখি’ নামের একটি মেয়ে। ঝন্টুর মেয়েদের বেশ ভালো লাগে কিন্তু বয়স বাড়লেও এতগুলো বছরে নারীর মনের গতিবিধি বুঝতেই পারেনি ঝন্টু। মানুষটা মন্দ নয়, তবে স্রেফ চালাকি দিয়েই কাজ হাসিল করতে শিখেছে সে। আঁখির প্রতি রয়েছে তাঁর এক বিশেষ দুর্বলতা, কিন্তু অনুভূতি বোঝার জায়গায় একেবারে জিরো ঝন্টু।
We’re now on Telegram- Click to join
গল্পে কমেডির সাথে মিশেছে ফ্যান্টাসিও। এমনসময়ে ঝন্টুর গালে এসে পড়ে মা কালীর থাপ্পড়! তারপর থেকেই ছেলেটি টের পেতে শুরু করে নারীর অন্তরের কথা। ফলে মেয়েদের মুখের কথা, এবং বাহ্যিক আচরণের দোদুল্যমান সাঁকোটা সে ধরতে পারে একটু একটু করে। নানান ক্যাওস পেরিয়ে এগোয় গল্প। প্রেম, রাগ, অভিমান, হতাশা সবটাই ধীরে ধীরে অনুভব করতে শেখে ঝন্টু।
ছবির গল্প একদম সাদা-সরল, চলনটাও ঠিক তেমন। তবে বেশ কয়েকটা জায়গা রয়েছে অতিনাটকীয়। মাস এন্টারটেনারের ক্ষেত্রে যেমনটি হয়। অঙ্কুশের কমিক টাইমিং বরাবরই খুব ভালো, এই ছবিতেও সেটা প্রমাণিত। নাচের দৃশ্যেও দুরন্ত তিনি। তবে নায়ক অঙ্কুশের বাড়তি মেদ ঝরে গেলে হয়তো তাঁকে আরও স্মার্ট দেখতে লাগত, যা এই চরিত্রের জন্য দাবি। আঁখি-র চরিত্রে চমৎকার ঐন্দ্রিলা। আঁখি এবং ঝন্টুর প্রেম, চিত্রনাট্যে যদিও আরও গুরুত্বের দাবি রাখে। মাপা অভিনয়ে মন জয় করেছেন অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা। ঝন্টুর বন্ধুর চরিত্রে ছিলেন দেবরাজ ভট্টাচার্য, ছবির জোরের জায়গা। স্বল্প পরিসরে ঈপ্সিতা এবং নবনীতাও বেশ সাবলীল। বেশ কিছুদিন পরে এমন বাণিজ্যিক ছবিতে পেলাম সোহাগ সেনকে। তাঁর ছোট ছোট অভিব্যক্তি, প্রতিটি সংলাপ, এতটাই বিশ্বাসযোগ্য মনেই হয় না তিনি অভিনয় করছেন। আটপৌরে চরিত্রেও সোহিনী সেনগুপ্ত অসাধারণ হয়ে উঠতে কীভাবে হয় তা জানেন, এই ছবিই হল তার প্রমাণ। রাজনীতিকের চরিত্রে বেশ মানিয়ে গিয়েছেন কৌশিক চক্রবর্তীও। আর ছবির শুরু থেকে শেষ অবধি যিনি না থেকেও আছেন তিনি হলেন বুম্বাদা (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়)। তাঁর কণ্ঠস্বর এই ছবির এক পৃথক এবং বিশেষ চরিত্র হয়ে উঠেছে।
Read More- অঙ্কুশের ঠোঁটে ঐন্দ্রিলার ঠোঁট, হাড়কাঁপানো শীতে এবার বন্য প্রেমের গল্প বুনলেন অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলা
তবে ছবিটায় কিছু খামতিও নিশ্চয়ই রয়েছে। ছবিটিপ্রেডিক্টেবল। বেশ কিছু সংলাপও বড্ড চটুল। এই ছবির মূল বার্তা ইতিবাচক, নারীকে সম্মান করার কথা বলে, কিন্তু সেইটা করতে গিয়েই গরমিল হয়ে গিয়েছে কিছু বাক্যে। সেইখানে একটু নজর দিলে ভালো হত। গানের কথা বলতেই হয়, শিলাজিতের ‘ডান্ডা ২.০’ শ্রোতা-দর্শকদের মন কেড়েছে। আর সোমলতা-দুর্নিবারের কণ্ঠে ‘শোনো গো দখিন হাওয়া’ গানটি এই ছবির সেরা প্রাপ্তি। দৃশ্যায়নও সুন্দর। কিন্তু এন্ড মুহূর্তের ক্রেডিটের সময় আসে গানটা। সবমিলিয়ে ‘নারী চরিত্র মানেই জটিল’, এমন সরলীকরণ ঠিক নয়। নির্বিশেষে নারী-পুরুষ জটিল হতে পারে। তবে সরলও হতে পারে। মূল কথা হচ্ছে মানুষকে বোঝার মন এবং ধৈর্য দুটোই থাকতে হবে। নারীমনের দিকেই অবশ্য আলো ফেলতে চেয়েছে ছবির শিরোনাম।
এইরকম আরও বিনোদন জগতের প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।







