Kalipotka Review: নারীকেন্দ্রিক গল্পই একমাত্র উপজীব্য নয় সিরিজের, এই সব কারণেই দেখে নিন ‘কালীপটকা’
একদল জানতে চেয়েছিল যে, 'কালীপটকা'য় যে ভাষায় কথা বলা হচ্ছে সেটা কি সত্যিই এগজিস্ট করে কিনা! হয়তো আসলে জানতে চেয়েছিল মেয়েরা কি এইভাবে আদৌ কথা বলে? তার ভদ্রতা এইভাবে বলিয়েছিল তাঁকে দিয়ে।
Kalipotka Review: রুক্ষ সব শব্দের আড়ালেই চার নারীর জীবনের লড়াইয়ের গল্পই তুলে ধরে ‘কালীপটকা’
হাইলাইটস:
- প্রতিদিনের অপমান, নিরাপত্তাহীনতা এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজের চাপে জীবন এগিয়ে চলে
- সবটাই আসলে একটা অদৃশ্য, অলিখিত শৃঙ্খল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বলেই যেন মনে হয়
- শালীনতা ছাড়িয়ে আগে মেয়েদের স্বাধীনতা, নারীদের লড়াইয়ের কাহিনী নিয়েই ‘কালীপটকা’
Kalipotka Review: অভিরূপ ঘোষ পরিচালিত ‘কালীপটকা’ ওয়েব সিরিজের ট্রেলার প্রকাশ্যে আসতেই মনে হয়েছিল বেশ ঝড় তুলতে চলেছে এটি। তবে যে ধাঁচে গল্প বলা হয়েছে, কার্যত এই ধরনের গল্পের প্রোটাগোনিস্ট হয় পুরুষ। তবে সেখানে চার মহিলাকে গল্পের কেন্দ্রে টেনে এটি একটা অন্য পথে হেঁটেছেন অভিরূপ ঘোষ (গল্প, চিত্রনাট্য, পরিচালক) এবং তার টিম অরিত্র বন্দ্যোপাধ্যায় (চিত্রনাট্য) আর সৌমিত দেব (সংলাপ)!
We’re now on WhatsApp- Click to join
একদল জানতে চেয়েছিল যে, ‘কালীপটকা’য় যে ভাষায় কথা বলা হচ্ছে সেটা কি সত্যিই এগজিস্ট করে কিনা! হয়তো আসলে জানতে চেয়েছিল মেয়েরা কি এইভাবে আদৌ কথা বলে? তার ভদ্রতা এইভাবে বলিয়েছিল তাঁকে দিয়ে। তারা হোক না একবারে নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে আসা মেয়েদল! তবে সিরিজটা দেখে বোঝা গিয়েছে, এ আমাদের ভদ্র মগজের মধ্যে তৈরি হওয়া একটা সোশ্যাল কনস্ট্রাক্ট, যে মেয়েরা কোমলতর। হাঁটা চলা, ব্যবহার, কথা বলা, আবেগপ্রকাশে সবকিছুতেই।
We’re now on Telegram- Click to join
সিরিজে একটা সংলাপ আছে, যেখানে অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় বলছেন, “ভদ্রলোকেরা ওয়াক থু করবে।” তবে শুনতে শুনতে মনে হল এই সিরিজটা দেখলে সত্যি হয়তো তাই করবে। এবং উল্ল্যেখযোগ্য যেটা মনে হল সেটা হল প্রথমত, যে এই ভদ্র সমাজ কেন ওয়াক থু করবে? এবং দ্বিতীয়ত তা সত্ত্বেও শ্রীমা (স্বস্তিকা), রানি (শ্রুতি), মিনতি (শ্রেয়া) এবং রিংকুদের (হিমিকা) কিচ্ছু এসে যায় না। তাঁরা তাদের জীবন সংগ্রাম কোনও কিছুতেই তোয়াক্কা না করতেই শেখায়।
ওয়েব সিরিজ ‘কালীপটকা’ মেনস্ট্রিম হয়েও যেসব স্টিরিওটাইপ ভেঙে দেয় সেটা হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়নকে নারীর ঈশ্বরীকরণ না মনে করা। বেশিরভাগ মূলধারার কাজে নারীকেন্দ্রীক ছবি মানেই শেষে অসুরবধ দুর্গা অবতার হয়েই! মেয়েদের মনের খোঁজ নিলে জানতেই পারবেন কেউই দেবী হয়ে দারুণ সহ্যশক্তি নিয়ে জন্মাইনি। এবং এত সহ্য ক্ষমতার আমাদের প্রয়োজন নেই। আমরা রাগলে, রাগ দেখাতে চাই। পেছনে ঠেলে দিলে ‘রিঅ্যাক্ট’ করতে চাই। আমাদের অস্তিত্ব মুছে দিতে চাইলে আমরা মাথা তুলতে চাই। ‘শ্রীমা’, ‘রানি’, ‘মিনতি’, ‘রিংকু’ও তাই। এরা হচ্ছে প্রত্যেকেই লোভী। সকলেরই চাহিদা রয়েছে। নিজেদের পাপের খাতায় চারজনেই সচেতন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সকলেই নিজের জীবনের, কর্মের দায় স্বীকার করে সোচ্চারে। এই গল্পে ভিলেনকে কে হারিয়ে বিজয়মুকুট কেউ একা পরে নিল সেটাও দেখানো হয় না। একে অপরকে ঠকালেও একজোট হয় বৃহত্তর স্বার্থে এই চারজন নারী। নারীর দমনের ইতিহাস বদলে দিতে হলে একজোট না হয়ে মেয়েদের উপায় যে নেই তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় এই ‘কালীপটকা’-রা।
Read More- পারিবারিক গল্প-ফ্যান্টাসি-রোম্যান্স-র ককটেলে কেমন হয়েছে অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলার ‘নারী চরিত্র বেজায় জটিল’?
এই স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়কে আশা করা হয় যে দর্শকরা আগে কোনওদিন দেখেননি। তিনি ‘কালীপটকা’র যেন বারুদ। সিরিজের সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ‘মিনতি’র বিভিন্ন স্তর দারুণ তুলে ধরেছেন শ্রেয়া ভট্টাচার্য। শ্রুতি দাস অভিনীত ‘রানি’ আর ‘কাজল’ ‘কালীপটকা’র চকমকি মোড়ক! ‘হিমিকা’ ছটফটে, অধৈর্য ‘রিংকু’র চরিত্রও বেশ চমৎকার! অনির্বাণ চক্রবর্তী ভুলিয়ে দিচ্ছেন ক্রমশ ‘একেনে’র স্মৃতি।
এইরকম আরও বিনোদন জগতের প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।







