Waqf Bill: এই ওয়াকফ আসলে কী? কেন করা হচ্ছে এই সংশোধন? জেনে নিন বিস্তারিত তথ্য
সোজা সাপ্টা ভাষায় বলতে গেলে, ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা ধর্মপ্রচার ও সমাজের উন্নতির লক্ষ্যে যে সম্পত্তি দান করেন সেটাই বিবেচিত হয় ওয়াকফ হিসেবে। এই সম্পত্তি বিক্রি করা যায় না কিংবা ব্যবসায়িক স্বার্থেও করা যায় না ব্যবহারও। এর কারণ, ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা এরূপ বিশ্বাস করেন যে, ওয়াকফ হল মূলত ঈশ্বরেরই সম্পত্তি।

Waqf Bill: এই ওয়াকফ বিলে কীভাবে মিলবে লাভ জানেন কী? এখানে রইল সম্পূর্ণ
হাইলাইটস:
- বর্তমান সময়ে রীতিমতো বেশ নজর কেড়েছে এই ওয়াকফ সংশোধনী আইন
- এখন বেশিরভাগ সময়েই পেশ করা হচ্ছে ওয়াকফ বিল
- এই ওয়াকফ বিল আসলে কী জানেন? এখানে জেনে নিন
Waqf Bill: বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে ওয়াকফ সংশোধনী আইন। কেবল তাই নয়, এই আইন তীব্র বিতর্কের মাঝে সংসদে পেশ করা হয়েছে। এমন অবস্থায়, সবকিছু ঠিকমত থাকলে এই বিলটি (Waqf Bill) পাস হতে হয়তো আর বেশি বেগ পেতে হবে না কেন্দ্রকে। তবে আসুন, তার আগে জেনে নেওয়া যাক এই ওয়াকফ এর সম্পর্কে!
We’re now on WhatsApp- Click to join
ওয়াকফ বিল কী?
সোজা সাপ্টা ভাষায় বলতে গেলে, ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা ধর্মপ্রচার ও সমাজের উন্নতির লক্ষ্যে যে সম্পত্তি দান করেন সেটাই বিবেচিত হয় ওয়াকফ হিসেবে। এই সম্পত্তি বিক্রি করা যায় না কিংবা ব্যবসায়িক স্বার্থেও করা যায় না ব্যবহারও। এর কারণ, ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা এরূপ বিশ্বাস করেন যে, ওয়াকফ হল মূলত ঈশ্বরেরই সম্পত্তি। প্রসঙ্গত, বর্তমানে ওয়াকফ বোর্ডের কাছে দেশ জুড়ে ৮.৭ লাখের বেশি সম্পত্তি রয়েছে, এবং যা বিস্তৃত আছে ৯.৪ লক্ষ একর জুড়ে। এমন অবস্থায়, সামগ্রিক বিষয়টিতে অব্যবস্থাপনা, ও তদারকির অভাব এবং আইনি ফাঁকফোকর সামনে আসার কারণেই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে সংশোধনীর।
We’re now on Telegram- Click to join
এদিকে, এই সংশোধনের মাধ্যমে সেন্ট্রালাইজড ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সহ সরকারি তত্ত্বাবধান, কঠোর আইনি সুরক্ষা এবং বিশ্বব্যাপী ভারতের তুলনার বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করা যাবে। কারণ, এখনও ওয়াকফ আইনের অভাব রয়েছে অনেক মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে। কেবল তাই নয়, বিক্ষিপ্ত নিয়মকানুনগুলির ওপর নির্ভর করেন সেই দেশগুলির জনগণ। এমতাবস্থায়, আধুনিক শাসনের জন্য একটি বিশ্বব্যাপী মানদণ্ড স্থাপন করতে সক্ষম হবে ভারতের নতুন কাঠামো।
এখানে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য একটি বিষয় হল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মত দেশগুলির পথে না হেঁটে ভারত ওয়াকফের ক্ষেত্রে সুনিশ্চিত করবে মহিলাদের প্রতিনিধিত্বকে। এছাড়াও, বৈচিত্র্যের জন্য শিয়া, বোহরা, সুন্নি, আঘাখানি এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের ঘটানো হবে অন্তর্ভুক্তি। এই বিলের অন্যতম বিষয় হচ্ছে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা, নারীদের জন্য শক্তিশালী উত্তরাধিকার অধিকার, ওয়াকফ সম্পত্তিতে ন্যায্য প্রবেশাধিকার এবং ওয়াকফের ডিজিটাল রূপান্তর।
এছাড়াও, এই প্রথমবারের মতো, এক্ষেত্রে একাধিক বিষয়ের প্রবর্তন করছে ভারত। যার মধ্যে রয়েছে, রিয়েল টাইম সরকারি পর্যবেক্ষণ, সেন্ট্রালাইজড ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন, দখল এবং জালিয়াতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা। এবং মূলত, কয়েক দশক ধরে ওয়াকফ সম্পদে বিরাট দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনা সামনে আসায় তৈরি করা হয়েছে এই বিল। এর মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে, আধুনিক সর্বোত্তম বিষয়ের সাথে ওয়াকফ শাসনকে সামঞ্জস্য করা, ধর্মীয় সম্পদের অপব্যবহার বন্ধ করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা।
কেন করা হচ্ছে এই সংশোধনী?
ইতিমধ্যেই, এই বিষয়ে সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে যে আইনটি কার্যকর আছে সেক্ষেত্রে ওয়াকফের দখল করা জমি অথবা সম্পত্তিতে কিছুতেই পর্যালোচনা করার মিলছে না সুযোগ। এমতাবস্থায়, কারোর আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ওয়াকফ বোর্ড জমি অথবা সম্পত্তি দখল করে রাখছে। তাই, বিজেপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট দাবি করা হচ্ছে যে ওয়াকফ সম্পত্তির সুবিধা ভোগ করছে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী। যার ফলে প্রত্যক্ষভাবে সাধারণ মুসলিমরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই এই নতুন আইন কার্যকর হলে উপকৃত হবেন তাঁরা।
এইরকম আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।