Bangla NewsPolitics

Mukul Roy Death News: চলে গেলেন বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য! দীর্ঘ অসুস্থতাই কেড়ে নিল মুকুল রায়ের প্রাণ

মুকুল রায়কে বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য বলা হত। এক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড তিনিই ছিলেন। তারপর একে একে রাজ্যসভার সাংসদ, দেশের রেলমন্ত্রী এবং জাহাজমন্ত্রীর দায়িত্বভারও সামলেছেন৷

Mukul Roy Death News: প্রয়াত মুকুল রায়! হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু, মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল মাত্র ৭৩ বছর

হাইলাইটস:

  • প্রয়াত হয়েছেন বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য মুকুল রায়
  • রাজনৈতিক জীবনে একাধিক উত্থান পতনের সাক্ষী
  • তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত গোটা বঙ্গের রাজনৈতিক মহল

Mukul Roy Death News: প্রয়াত হলেন বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য মুকুল রায়৷ বাংলা রাজনীতির যেন একটা যুগ শেষ হয়ে গেল৷ গত কয়েক মাস ধরে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন মুকুল রায়৷ ২৩শে ফেব্রুয়ারি রাত দেড়টা নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন মুকুল রায়। তাঁর মৃত্যুতে বাংলার রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া৷

We’re now on WhatsApp- Click to join

মুকুল রায়কে বঙ্গ রাজনীতির চাণক্য বলা হত। এক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড তিনিই ছিলেন। তারপর একে একে রাজ্যসভার সাংসদ, দেশের রেলমন্ত্রী এবং জাহাজমন্ত্রীর দায়িত্বভারও সামলেছেন৷ তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক অধ্যায়ে তৃণমূল কংগ্রেসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরই তাঁর কথাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তৃণমূলের সংগঠন তৈরি থেকে জমি আন্দোলন, পরিবর্তনের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক সৈনিক ছিলেন মুকুল রায়। ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী। তাঁকে ভাইফোঁটাও দিতেন মুখ্যমন্ত্রী।

We’re now on Telegram- Click to join

কিন্তু ২০১৫ সালের পর থেকেই বদলাতে শুরু করে তাঁর জীবনের সমীকরণ৷ মুকুল রায়ের সাথে দূরত্ব তৈরি হয় তৃণমূলের। এরপরই তৎকালীন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি ও বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সাথে বৈঠক করায় মুকুল রায়কে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করে তৃণমূল। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে ২০১৭ সালের ১১ই অক্টোবর রাজ্যসভার সদস্য পদ ছাড়েন প্রাক্তন রেলমন্ত্রী।

এরপরে মুকুল রায় ৩রা নভেম্বর ২০১৭-এ তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে বিজেপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত এবং ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে মুকুল রায় গেরুয়া শিবিরের হয়ে বড় ভূমিকা নিলেও তাঁকে কোনও পদ দেয়নি বিজেপি। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রায় ৩ বছর পরে ২০২০ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর তাঁকে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির পদ দেওয়া হয়। ২০২০ সালের ১৯শে ডিসেম্বর শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই কিছুটা পিছন সারিতে চলে যান মুকুল রায়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কৃষ্ণনগর উত্তর আসন থেকে জয়ী হন তিনি৷

ভোটপর্ব মেটার পরই করোনা আক্রান্ত হন মুকুল এবং সঙ্গে স্ত্রী কৃষ্ণাও। ২রা জুন কৃষ্ণা রায়কে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধরণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুরু হয় তাঁদের অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতালে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কৃষ্ণা রায়কে দেখতে যান দিলীপ ঘোষও। পরদিন মুকুল রায়কে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

একুশের বিধানসভা ভোটের পর, ১১ই জুন, ২০২১, তপসিয়া তৃণমূল ভবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে ফিরে আসেন তাঁর পুরানো দল তৃণমূলে। ২৫শে জুন ২০২১-এ, তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার দ্বারা PAC- এর সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে ১৪ই জুলাই ২০২১-এ PAC-এর চেয়ারম্যান হন। অসুস্থতার কারণে ২৭শে জুন ২০২২ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা জমা দেন মুকুল রায়। কিন্তু, তাঁর বিধায়ক পদ থেকে খারিজ মামলা দীর্ঘদিন ধরে চলে আদালতে৷ বিধানসভায় মুকুল রায়ের দলত্যাগ মামলা নিয়ে মোট শুনানি হয়েছিল ১২টি। সেই দীর্ঘ শুনানি পর্বের পরই স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, দলত্যাগ করেননি মুকুল রায়। তিনি বিজেপিতেই রয়েছেন।

Read More- প্রয়াত বাম জমানার শেষ মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮০

পরবর্তীতে বিধানসভার অধ্যক্ষের এই রায়ের বিরুদ্ধেই শীর্ষ আদালতে যান বিজেপি বিধায়করা। আদালতের পক্ষ থেকে বিধানসভার অধ্যক্ষকে বলা হয়, প্রয়োজনে বিষয়টি নিয়ে ফের পুনর্বিবেচনা করার জন্য। বিজেপির দাবি ছিল, তাঁদের কাছে রয়েছে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ। সমাজ মাধ্যম থেকে বেশ কিছু ছবি এবং নথিপত্রও জমা দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু ২০২২ সালের ৮ই জুন, দলত্যাগের সেই অভিযোগ ফের খারিজ করে দেন বিধানসভার অধ্যক্ষ। হাইকোর্ট ১৩ই নভেম্বর ২০২৫ সালে খারিজ করে মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ৷

সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে অবশ্য তাঁর অসুস্থতার কথা মাথায় রেখেই কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দিয়েই তাঁর বিধায়ক পদ রেখে দেওয়ার এহেন নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

এইরকম আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।

Back to top button