Bangla News

International Mother Language Day 2026: ইতিহাসের পাতায় গর্ব ও আত্মত্যাগের স্মৃতি! আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জেনে নিন ভাষা আন্দোলনের এই অজানা ইতিহাস সম্পর্কে

এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মাতৃভাষা আমাদের অহংকার এবং আমাদের গর্ব। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ঘোষণা করে "আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস" হিসেবে।

International Mother Language Day 2026: ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে বাঙালির গর্ব ও অহংকারের সাথে, আজ এই উপলক্ষে জানুন ভাষা আন্দোলনের নৈপথ্যের রক্তাক্ত ইতিহাস

হাইলাইটস:

  • আজ ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
  • ভাষার জন্য রয়েছে আত্মত্যাগের এক অনন্য ইতিহাস
  • সারা বিশ্বে জুড়ে এই দিনটি সাড়ম্বরে উদযাপিত হয়

International Mother Language Day 2026: নিজেকে প্রকাশের মাধ্যম হল ভাষা। সেই ভাষাই যদি জন্মের পরবর্তী সময় থেকে শিখে আসা হয়, আমাদের পালনকারী মায়ের মুখের ভাষা, তবে তার গুরুত্ব আলাদাই। সেই ভাষাই হল আমাদের মাতৃভাষা। প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারি পালিত হয় এই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। যার ইতিহাসে জড়িয়ে রয়েছে বাঙালির গর্ব এবং বাঙালির অহংকার।

We’re now on WhatsApp- Click to join

এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মাতৃভাষা আমাদের অহংকার এবং আমাদের গর্ব। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ঘোষণা করে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” হিসেবে। ২০০০ সাল থেকে এই দিনটি “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” হিসাবে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে।

We’re now on Telegram- Click to join

আজ ২১শে ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এই ভাষার জন্য এই দিনটি আত্মত্যাগের এক অনন্য ইতিহাস বহন করে, যা বাঙালির গর্ব, বাঙালির অহংকারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি জাতির পরিচয়, সংস্কৃতি এবং আত্মমর্যাদার প্রতীক। সেই মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার লড়াই থেকেই এই বিশেষ দিবস জন্ম নিয়েছে। ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর প্যারিসে UNESCO-র সাধারণ অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই প্রস্তাব সমর্থন করে ১৮৮টি দেশ। এরপর বিশ্বজুড়ে দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়ে আসছে এই দিনটি। এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ অধিবেশনেও আরও দৃঢ় হয় এই স্বীকৃতি।

ভাষা আন্দোলনের নৈপথ্যে রক্তাক্ত ইতিহাস

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শিকড় নিহিত রয়েছে। দেশভাগের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশে) উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে আপামোর বাঙালি সরব হয়। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্ররা মিছিলে নামলে গুলি চালায় পুলিশ। শহিদ হন আবদুল জব্বার, আবুল বরকত, আবদুস সালাম-সহ আরও অনেকেই। এই আত্মবলিদানই চূড়ান্ত রূপ দেয় ভাষা আন্দোলনকে। ক্রমবর্ধমান গণআন্দোলনের চাপে ১৯৫৬ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় সরকার। পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে ‘বাংলা ভাষা প্রচলন বিল’ পাশ হয় ১৯৮৭ সালে, যা বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে।

Read More- প্রাগনারায়ণ মুক বধির বিদ্যালয়ে অত্যন্ত উৎসাহের সাথে উদযাপন করা হয়েছে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পেছনের বিশেষ উদ্যোগ

কানাডা প্রবাসী দুই বাঙালি রফিকুল ইসলাম এবং আবদুস সালাম ১৯৯৮ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবিতে আবেদন জানানরাষ্ট্রসংঘের কাছে। তাঁদের উদ্যোগ এবং বিভিন্ন দেশের সমর্থনের ফলেই এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। পরে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদেও সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয় বিষয়টি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ভাষা শুধুমাত্র শব্দের সমষ্টি নয়, এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়ও। ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগ হল চিরস্মরণীয়, আর সেই ইতিহাসই আজ গোটা বিশ্বমঞ্চে বাঙালির গর্বের প্রতীক।

এইরকম আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।

Back to top button