Abhijeet Dipke: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের আগেই সিজেপি নেতাদের আটক করা হল, বিমানের ভেতর থেকেই আটক করা হল অভিজিৎ দীপকে-কে
বিমান থেকে নামার আগেই পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হলো; জানা গেছে, শনিবার সকালে অভিজিৎ দীপকে ও তাঁর সহযোগীদের বহনকারী বিমানটি দিল্লিতে পৌঁছায়।
Abhijeet Dipke: দিল্লিতে সিজেপি-র বিরুদ্ধে পুলিশের বড় পদক্ষেপ, বিমানের ভেতর তিন নেতাকে আটক করা হয়েছে
হাইলাইটস:
- সিজেপি-র প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তৎপর দিল্লি পুলিশ
- দিল্লি পুলিশের তৎপরতায় বিমানের ভেতর থেকেই আটক সিজেপি-র তিন নেতা
- এবার এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে
Abhijeet Dipke: ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে পুলিশের তৎপরতা জোরদার হয়েছে। শনিবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বিমান থেকেই সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের অন্য দুই নেতা—সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা—কে আটক করা হয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিতেই এই তিন নেতা মুম্বাই থেকে বিমানে করে দিল্লিতে এসেছিলেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে বিমানটি অবতরণের পরপরই পুলিশ কর্মীরা বিমানে উঠে ওই তিন নেতাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রাজধানীজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও জন-বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
We’re now on Telegram- Click to join
বিমান থেকে নামার আগেই পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হলো; জানা গেছে, শনিবার সকালে অভিজিৎ দীপকে ও তাঁর সহযোগীদের বহনকারী বিমানটি দিল্লিতে পৌঁছায়। যাত্রীরা বিমান থেকে নামার আগেই দিল্লি পুলিশের কর্মকর্তারা বিমানে উঠে ওই তিন নেতাকে হেফাজতে নেন। ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে পুলিশ কর্মী ও সিজেপি নেতাদের মধ্যে কথোপকথন বা তর্ক-বিতর্ক দেখা যাচ্ছে। ভিডিওতে অভিজিৎ দীপকেকে পুলিশের কাছে প্রশ্ন করতে শোনা যায়; তিনি উল্লেখ করেন যে, বিমান থেকে নামার পরেও তাঁকে আটক করা যেত। গ্রেপ্তারের ভয় নেই—এমনটা জোর দিয়ে তিনি জানান যে, পুলিশি হেফাজতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েই তিনি দিল্লি এসেছেন। এ সময় বিমানের ভেতরেই সামান্য তর্ক-বিতর্ক ও হট্টগোল হয়। গ্রেপ্তারের বিষয়ে দীপকে অনমনীয় মনোভাব দেখালেও পুলিশ তাঁকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানায়। কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেন যে এটি কোনো আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার ছিল না। তা সত্ত্বেও, বিমান থেকে নামার আগেই ওই তিন নেতাকে আটক করার বিষয়টি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
We’re now on WhatsApp- Click to join
অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা কারা?
অভিজিৎ দীপকে হলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা এবং দলের অন্যতম প্রধান মুখ। সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাও এই সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী হিসেবে উঠে এসেছেন। যন্তর মন্তরে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতেই এই তিন নেতা দিল্লিতে এসেছিলেন। নিজেদের প্রচার অভিযানের মাধ্যমে সিজেপি ভোটার তালিকায় কথিত অনিয়ম এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো তুলে ধরেছে। দলের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর যথাযথ উত্তর পাওয়া প্রয়োজন। এই বিষয়টি নিয়েই সংগঠনটি প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিল এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছিল। তিন নেতাকে আটক করার পর দলটি সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে; তারা একে প্রতিবাদ কর্মসূচি বানচাল করার প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করে এবং নেতাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানায়। তবে, দলের অভিযোগ এবং পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে সরকারি ব্যাখ্যা—উভয়ই তাদের নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত।
Abhijeet Dipke kept claiming he wasn’t afraid of getting arrested and had come to Delhi ready to face the police.
But the moment Delhi Police got hold of him, he was drenched in sweat, visibly panicking and crying like he had completely lost it. 🤣😹
Well done, Delhi Police! ❤️… pic.twitter.com/K22z9R3uBT
— Amit Kumar Sindhi (@AMIT_GUJJU) October 10, 2026
সিজেপি কেন যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করতে চেয়েছিল?
সিজেপি ১০ই অক্টোবর যন্তর মন্তরে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। এই বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানানো। সংগঠনটি ভোটার তালিকা সংশোধন এবং এতে কথিত অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং এ বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা নতুন নাম যুক্ত করার পেছনে বিভিন্ন প্রশাসনিক কারণ থাকতে পারে; তাই সিজেপির উত্থাপিত অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান—উভয়ই আলাদাভাবে বোঝা জরুরি। এই বিতর্কের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক নথিপত্র, সরকারি তথ্য এবং নির্বাচনী বিধিমালা পর্যালোচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিজেপির বক্তব্য অনুযায়ী, জনসমক্ষে এসব প্রশ্ন তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। সংগঠনের নেতাদের আটকের ঘটনাটি এখন এই আন্দোলন—এবং বিক্ষোভের অনুমতির বিষয়টি নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক—কে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
দিল্লি পুলিশ কেন এই বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি?
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে দিল্লি পুলিশ সিজেপি-র প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। কর্মকর্তারা জানান যে, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ আয়োজনের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অনেক আগে থেকেই অনুমতির জন্য আবেদন করা বাধ্যতামূলক। পুলিশের বক্তব্য ছিল, সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে যে বিজ্ঞপ্তি বা বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তা নির্ধারিত বিধিমালার আওতায় অনুমতির জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন হিসেবে গণ্য করা যায় না। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, নিয়ম অনুযায়ী বিক্ষোভের অনুমতির জন্য অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন জমা দেওয়া আবশ্যক। অনুমতি না পাওয়ার পর পুলিশ রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে; যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়া রাস্তাগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের তৎপরতা কেবল বিমানবন্দর এলাকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার চেষ্টার সময় বেশ কয়েকজনকে আটক করার খবরও পাওয়া গেছে।
ধ্রুব রাঠি ও অন্যদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ
সিজেপি-র বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে ধ্রুব রাঠি এবং সিজেপি-র আইনি শাখার প্রধান রত্না সিং—উভয়কেই আটক করা হয়েছিল। এছাড়া, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশ আরও অনেককে আটক করে। তবে আটককৃতের সংখ্যা এবং এই পদক্ষেপ গ্রহণের পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে; তাই এসব ঘটনার ক্ষেত্রে কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণ বা আইনি অবস্থাকে সাধারণ হিসেবে ধরে নেওয়া অনুচিত হবে। আইনি দৃষ্টিতে ‘আটক’ এবং ‘আনুষ্ঠানিক গ্রেপ্তার’—এই দুটি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আলাদা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বর্তমান অবস্থা বা আইনি অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া আনুষ্ঠানিক তথ্য অত্যন্ত জরুরি।
দিল্লিতে নিরাপত্তা ও যান চলাচলের ওপর প্রভাব
সিজেপি-র বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মধ্য নয়াদিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। যন্তর মন্তর, কনট প্লেস এবং সংসদ ভবনের আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোতে পুলিশ নজরদারি বৃদ্ধি করে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসানো হয় এবং ট্রাফিক বা যানবাহন চলাচলের পথ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই বিক্ষোভের জেরে দিল্লিতে অন্তত ৬০০ জনকে আটক করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ বেশ কয়েকটি প্রধান মোড় ও রাস্তায় যান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। প্রস্তাবিত বিক্ষোভ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার লক্ষ্যেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, দিল্লিতে পৌঁছানোর পর সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে বিমানের ভেতরেই আটক করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে এই তিন নেতা সেখানে গিয়েছিলেন। পুলিশ এই প্রতিবাদের অনুমতি দেয়নি এবং রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। নেতাদের আটকের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সিজেপি তাঁদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে।
এইরকম আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।







