Bangla News

Houthi-Saudi Conflict: হুথিরা কেন সৌদি আরবকে লক্ষ্যবস্তু করছে, এই শত্রুতার আসল কারণ অনেকেই জানেন না

হুথিরা আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার না করার জন্য চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছে। হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির মতে, সৌদি আরবের আকাশসীমা এখন তাদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু, যা দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।

Houthi-Saudi Conflict: সৌদি আরবের জন্য হুথি বিদ্রোহীদের সবচেয়ে বড় হুমকি হল ইরানের সাথে তাদের সম্পর্ক

হাইলাইটস:

  • ইয়েমেনে সৌদি হস্তক্ষেপ, ধর্মীয় বিভেদ এবং ইরান-সমর্থিত হুথি হামলা দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র শত্রুতাকে উস্কে দিয়েছে
  • যা এখন বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে
  • সৌদি আরব এবং হুথিদের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের সূত্রপাত হয় ২০১৪ সালে

Houthi-Saudi Conflict: ইয়েমেনের ভয়াবহ সংঘাত তার ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে দিয়েছে। মাত্র দুই দিনের মধ্যে, হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দুটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিমানবন্দর—রিয়াদের কিং খালিদ ও আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই ভয়াবহ সামরিক হামলায় তিনজন নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বহু বেসামরিক নাগরিক গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।

We’re now on WhatsApp – Click to join

হুথিরা আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার না করার জন্য চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছে। হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির মতে, সৌদি আরবের আকাশসীমা এখন তাদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু, যা দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।

হামলাগুলোর সর্বশেষ কারণ

সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি বড় ঘটনা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হুথি বিদ্রোহীদের হামলা আরও তীব্র করতে ভূমিকা রেখেছে। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে, ইয়েমেনের রাজধানী সানার বিমানবন্দরে ইরান থেকে আসা একটি হুথি প্রতিনিধিদল বহনকারী একটি যাত্রীবাহী বিমানকে অবতরণে বাধা দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি এবং ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সৌদি-সমর্থিত নিরাপত্তা বাহিনীর পরিচালিত অভিযানগুলো হুথিদের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এটিকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখে, হুথিরা প্রতিশোধস্বরূপ সৌদি আরবের অবকাঠামোর ওপর ধারাবাহিক হামলা চালায়।

সামরিক হস্তক্ষেপের প্রেক্ষাপট

সৌদি আরব এবং হুথিদের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের সূত্রপাত হয় ২০১৪ সালে, যখন হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে ক্ষমতা দখল করে। এর মাধ্যমে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নির্বাচিত সরকার উৎখাত হয়। ইয়েমেনের সরকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে এবং হুথিদের দ্রুত অগ্রযাত্রা থামাতে ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি বিশাল বহুজাতিক সামরিক জোট গঠিত হয়। ইয়েমেনে এই জোটের অব্যাহত বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান এই বৈরিতাকে এক অন্তহীন যুদ্ধে পরিণত করেছে।

ধর্মীয় ও আদর্শগত পার্থক্য

এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ আদর্শগত ও ধর্মীয় কারণও কাজ করছে। সৌদি আরব একটি সুন্নি-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবং নিজেদেরকে বিশ্বব্যাপী সুন্নি ইসলামের প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করে। এর বিপরীতে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা শিয়া ইসলামের অত্যন্ত স্বতন্ত্র জায়েদি শাখার অন্তর্ভুক্ত। ধর্মীয় মতবাদ, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং শাসনব্যবস্থার মৌলিক পার্থক্য ঐতিহাসিকভাবে উভয় পক্ষকে একে অপরকে কৌশলগত ও ধর্মীয় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখতে পরিচালিত করেছে।

হুথিদের সাথে ইরানের জোট

সৌদি আরবের জন্য হুথি বিদ্রোহীদের সবচেয়ে বড় হুমকি হল ইরানের সাথে তাদের সম্পর্ক। হুথি গোষ্ঠীটি ইরান থেকে বিপুল পরিমাণে উন্নত অস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, প্রাণঘাতী ড্রোন এবং আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক মানচিত্রে সৌদি আরব এবং ইরান ঐতিহ্যগতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী। রিয়াদের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো মনে করে যে, ইয়েমেনের দক্ষিণ সীমান্তে ইরান-সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি তাদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুতর হুমকি, এবং তারা কোনো অবস্থাতেই এটিকে বিস্তার লাভ করতে দিতে পারে না।

অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্থাপনার ক্ষতি

হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের ওপর শুধু সামরিকভাবেই নয়, অর্থনৈতিকভাবেও ব্যাপক ক্ষতি সাধনের কৌশল অনুসরণ করছে। তারা পর্যায়ক্রমে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার, যেমন আরামকো স্থাপনা, ইয়ানবু বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলাগুলোর লক্ষ্য হল সৌদি আরবের আয়ের প্রধান উৎস তেল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত করা, বিদেশি বিনিয়োগে ব্যাঘাত ঘটানো এবং যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করার জন্য রিয়াদের ওপর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।

Read more:- আমেরিকায় গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ আরও কঠিন হল! যা উইপ্রো, ইনফোসিস, টিসিএস-সহ আটটি আইটি কোম্পানির জন্য দুঃসংবাদ

লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুদ্ধ

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যাবশ্যকীয় বলে বিবেচিত লোহিত সাগর এবং বাব আল-মানদেব প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাও এই সংঘাতের একটি মূল উপাদান। হুথি বিদ্রোহীরা এই কৌশলগত সমুদ্রপথ দিয়ে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজ এবং তেল ট্যাঙ্কারগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকে হুমকির মুখে ফেলে হুথি বিদ্রোহীরা শুধু সৌদি আরবের বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থাকেই ব্যাহত করছে না, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ইয়েমেন সংকটের প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতেও চাইছে।

এই রকম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।

Back to top button