Budget 2026 Scheme for Women: মহিলাদের জন্য বাজেট ২০২৬-এর বিশেষ প্যাকেজ, প্রতিটি প্রকল্পের সুবিধা জেনে নিন
২০১৯ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে টানা নয়টি বাজেট উপস্থাপনকারী সীতারমণ এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। এই বছরের বাজেট কেবল অর্থনৈতিক সংস্কারের বার্তাই দেয় না, বরং নারীদের জন্য অনেক নতুন পরিকল্পনা এবং ক্ষমতায়নের সুযোগও এনেছে।
Budget 2026 Scheme for Women: মহিলাদের জন্য বাজেট ২০২৬ প্রকল্প এবং নতুন প্রকল্প এবং সুবিধার তালিকা
হাইলাইটস:
- কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করে একটি নতুন অধ্যায় যোগ করেছেন
- টানা নবম কেন্দ্রীয় বাজেট উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি ভারতের প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রী হয়েছেন
- মহিলাদের জন্য বাজেট ২০২৬ সালের বাজেটে এবার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
Budget 2026 Scheme for Women: ২০২৬ সালের বাজেট নারীদের জন্য প্রকল্প, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করে ভারতীয় ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় যোগ করেছেন। টানা নবমবারের মতো কেন্দ্রীয় বাজেট উপস্থাপন করে তিনি ভারতের প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রী হয়েছেন। এই কৃতিত্বের মাধ্যমে, তিনি প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি. চিদাম্বরম এবং প্রণব মুখার্জীকে ছাড়িয়ে ভারতীয় ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বাধিক সংখ্যক বাজেট উপস্থাপনকারী মন্ত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
২০১৯ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে টানা নয়টি বাজেট উপস্থাপনকারী সীতারমণ এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। এই বছরের বাজেট কেবল অর্থনৈতিক সংস্কারের বার্তাই দেয় না, বরং নারীদের জন্য অনেক নতুন পরিকল্পনা এবং ক্ষমতায়নের সুযোগও এনেছে।
We’re now on WhatsApp- Click to join
নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন
২০২৬ সালের বাজেটের মাধ্যমে সরকার নারীদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। এতে সঞ্চয়, ঋণ সুবিধা, নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য বেশ কিছু প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রকল্পগুলি কেবল নারীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে না বরং তাদের নেতৃত্ব এবং আত্মনির্ভরশীলতার সুযোগও প্রদান করবে।
We’re now on Telegram- Click to join
মেয়েদের জন্য হোস্টেল: প্রতিটি জেলায় উপলব্ধ
২০২৬ সালের বাজেটে সারা দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে মেয়েদের হোস্টেল স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। মোট ৮০০টি জেলায় মেয়েদের হোস্টেল তৈরি করা হবে, যার ফলে শিক্ষায় তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও, ভেটেরিনারি কলেজ, হাসপাতাল এবং ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরির জন্য ঋণ-সংযুক্ত মূলধন ভর্তুকি প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগটি বিশেষভাবে চিকিৎসা ক্ষেত্রে এবং উচ্চশিক্ষায় মহিলাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য তৈরি করা হয়েছে।
SHE Marts: গ্রামীণ মহিলাদের জন্য একটি নতুন সুযোগ
মহিলাদের জন্য SHE Marts ঘোষণা করা হয়েছে। SHE মানে স্বনির্ভর গোষ্ঠী। এই প্রকল্পের অধীনে, গ্রামীণ মহিলারা জীবিকা নির্বাহ করতে এবং তাদের নিজস্ব প্রকল্পের দায়িত্ব নিতে সক্ষম হবেন। সরকার লক্ষপতি দিদি প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের ঋণ-সংযুক্ত Marts পরিচালনার সুযোগ দিয়েছে। এটি কেবল গ্রামীণ মহিলাদের আর্থিকভাবে শক্তিশালী করবে না বরং নেতৃত্ব এবং ব্যবসায়িক দক্ষতাও বিকাশ করবে।

২০২৬ সালের বাজেটে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
বাজেটে বেশ কিছু অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়েছে। মূল ঘোষণাগুলির মধ্যে রয়েছে:
আয়কর স্ল্যাবে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।
সংশোধিত রিটার্ন এখন ৩১শে ডিসেম্বরের পরিবর্তে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত দাখিল করা যাবে।
১৭টি ক্যান্সারের ওষুধের উপর আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে (আগে ৫% শুল্ক ছিল)।
হিমোফিলিয়া, সেল এবং মাসকুলার ডিস্ট্রফির মতো সাতটি বিরল রোগের ওষুধ এখন শুল্কমুক্ত থাকবে।
১৫,০০০ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৫০০টি কলেজে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব স্থাপন করা হবে।
১০,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং তিনটি নতুন ইনস্টিটিউট খোলার মাধ্যমে চিকিৎসা ক্ষেত্রের জন্য বায়োফার্মা শক্তি প্রকল্প চালু করা হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ক্যাপেক্স ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১২.২ লক্ষ কোটি, যা আগের বছরের ১১.২ লক্ষ কোটি থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মোবাইল এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ তৈরির বাজেট ৪০,০০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
নারী ও শিক্ষার জন্য বাজেটের গুরুত্ব
২০২৬ সালের বাজেটে বিশেষভাবে নারী শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। হোস্টেল, SHE Marts এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাবের মতো প্রকল্পগুলি নারীদের জন্য শিক্ষা, ব্যবসা এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ উন্মোচন করবে। এই বাজেট ক্ষমতায়ন এবং নেতৃত্বের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হবে, যা গ্রামীণ ও শহুরে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করবে।
স্বাস্থ্য ও ওষুধ খাতের সংস্কার
বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বেশ কিছু সংস্কারের ঘোষণাও করা হয়েছে। ক্যান্সার এবং বিরল রোগের ওষুধের উপর শুল্ক প্রত্যাহারের ফলে ওষুধের দাম কম হবে। জৈব-ফার্মা শক্তি প্রকল্পের অধীনে নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরির ফলে ওষুধ উৎপাদন এবং গবেষণা বৃদ্ধি পাবে। ২০২৬ সালের বাজেট কেবল অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংস্কারের মাধ্যম নয়, বরং নারী, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে উন্নয়নের দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নির্মলা সীতারামন টানা নবম বাজেট উপস্থাপন করে ইতিহাস তৈরি করেছেন। এই বাজেট নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, শিক্ষা এবং নিরাপত্তার সুযোগ প্রদান করবে। উপরন্তু, মোবাইল, ইলেকট্রনিক্স, স্বাস্থ্য এবং জৈব-ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
এইরকম আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।







