জীবনধারা

রান্নাঘরে ব্যবহৃত এই ৪টি জিনিস থেকে থেকে হতে পারে আপনার মারণ অসুখ

এই ৪টি জিনিস রান্নাঘরে সর্বাধিক ব্যবহৃত জিনিসগুলির মধ্যে অন্যতম

আমাদের প্রতিদিনের জীবনধারায় আমরা এমন কিছু ভুল করি যা আমাদের সারাজীবন মাসুল গুনতে হয়। এমন কিছু কাজ আমরা করে ফেলি যার জন্য ভবিষ্যতে বড়ো সমস্যার সন্মুখীন হতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জিনিসগুলি সম্পর্কে আরও একটু সতর্ক হলে আমরা আমাদের ভুলগুলি কিছুটা এড়াতে পারবো।

আমাদের দেশে ক্রমাগত সুগার, কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপের সংখ্যা বেড়েই চলেছে দিন দিন। ভারতীয়দের মৃত্যুর কারণ হিসাবে এই রোগগুলিই রয়েছে প্রথম সারিতেই। তাই প্রতিটি মানুষকে অবশ্যই এই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হতে হবে। আর তাই মাথায় রাখতে হবে রান্নায় ব্যবহৃত কয়েকটি জিনিসের উপর। আমাদের প্রাত্যহিক রান্নায় ব্যবহৃত বেশ কিছু উপাদান রয়েছে যা আসলে খুবই ক্ষতিকর। আমাদের রান্নাঘরের এমন কিছু জিনিস লুকিয়ে থাকে যা থেকে শরীরে বিষক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তাই এগুলি যত দ্রুত সরিয়ে রাখবেন ততই নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের মঙ্গল করবেন। আপনি জেনে রাখা দরকার যে, এমন কিছু সাধারণ রান্নার উপাদান রয়েছে যেগুলি একটি ধীর বিষের চেয়ে কম নয় এবং নীরবে জীবনযাত্রার ব্যাধি সৃষ্টি করছে যা মারাত্মক হতে পারে। এই ক্ষতিকর জিনিসগুলি আরও ভালো করে জেনে নিন:

তেল:

আপনি যদি বাঙালি হন তবে তেল ছাড়া রান্না করা প্রায় অসম্ভব আপনার জন্য। ভাজা থেকে শুরু করে সেদ্ধতেও একটু কাঁচা তেল না ছড়ালে ঠিক যেন জমে না। কাঁচা তেলের গন্ধে আমরা আলু সেদ্ধ ভাতও তৃপ্তি করে খেয়ে ফেলি। বিশেষজ্ঞরা বলেন প্রাপ্তবয়স্কদের ৩ টেবিল চামচের বেশি তেল খাওয়া উচিত না। কারণ প্রতিদিনের রান্নায় তেলের অত্যধিক ব্যবহারের ফলে হৃদরোগ, ফ্যাটি লিভার এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ভাজা এবং তৈলাক্ত খাবার অত্যধিক খেলে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ রক্তে শর্করার কারণ হতে পারে। তাই যতটা পারবেন অল্প তেলের রান্না করার চেষ্টা করবেন।

চিনি:

চিনি হল রান্নাঘরের অপরিহার্য একটি উপাদান। চা-কফি-শেক বা মিষ্টি তৈরিতে এর ব্যবহার সর্বাধিক। আপনি যদি মিষ্টিপ্রেমী বাঙালি হন তবে আপনার জেনে রাখা উচিত যে, এই সাধারণ উপাদানটির অত্যধিক সেবন করলে ধীরে ধীরে ইনসুলিনের ভারসাম্যহীনতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। যা পরে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে প্রধান ভূমিকা নেয়। একটি সমীক্ষা অনুসারে, পরিশোধিত চিনির অত্যধিক গ্রহণের ফলে স্থূলতা, প্রদাহ, হৃদযন্ত্রের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

ময়দা:

ময়দা হল আপনার রান্নাঘরে লুকিয়ে থাকা আরেকটি ক্ষতিকর জিনিস। পরোটা, লুচি, নুডুলস, কেক-সবই তৈরি হয় এই ময়দা থেকেই। রান্নাঘরের এই ক্ষতিকর উপাদানটি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। কিন্তু আমরা যদি আপনাকে বলি যে, এই উপাদানটি আপনার হজম সংক্রান্ত সমস্যা যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম, ফোলাভাব এই সমস্ত রোগের অন্যতম কারণ, তাহলে কী আপনি আমাদের সাথে একমত হবেন? আমাদের কথা বিশ্বাস করুন, ময়দার মধ্যে যে গ্লুটোন রয়েছে তা অন্ত্রের দেয়ালে লেগে থাকে যা শেষ পর্যন্ত মলত্যাগের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে যার ফলে হজম এবং অন্ত্রের রোগ হয়। তাই এটিকে রান্নাঘরের লুকিয়ে থাকা ক্ষতিকর জিনিস বলা হয়।

লবণ:

লবণ ছাড়া আমাদের প্রতিদিনের খাবার কল্পনা করা কার্যত অসম্ভব। বিভিন্ন তরকারি থেকে শুরু করে, ভাজা খাবারেও লবণ হল একটি অপরিহার্য উপাদান। কিন্তু এই উপাদানটি অতিরিক্ত খাওয়া উচিত না। এর কারণ এতে থাকে সোডিয়াম যা রক্তচাপের মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন নুনের পরিমাণ প্রতি পরিবেশনে ৫ মিলিগ্রামের কম সোডিয়াম হওয়া উচিত।কারণ লবণের অত্যধিক প্রভাবে কার্ডিয়াক রোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুন বাড়তে পারে।

এইরকম আরও আপডেট পেতে ওয়ান ওয়ার্ল্ড নিউজ বাংলার সাথে যুক্ত থাকুন।

Sanjana Chakraborty

My name is Sanjana Chakraborty. I'm a content writer. Writing is my passion. I studied literature, so I love writing.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button