জীবনধারা

যাত্রী নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেমের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

গাড়িতে বিপদে পড়লেই প্যানিক বাটন টিপে লালবাজারে পাঠানো যাবে বিপদ সঙ্কেত

কলকাতা: যাত্রী নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য পরিবহন দফতরের যৌথ উদ্যোগ ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম। শহর কলকাতায় যাতে বিভিন্ন পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারকারী মানুষ নিজেকে নিরাপদ মনে করতে পারেন তার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। সোমবার সকালে জি-২০ সামিটে আন্তর্জাতিক অতিথিদের সামনে বক্তৃতা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর বিকেলে আলিপুর থেকে জোড়া উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তারমধ্যে একটি গাড়ি পার্কিংয়ের বহুতল, অন্যটি একটি অ্যাপ।

অভিনব এই ট্র্যাকিং সিস্টেম উদ্বোধন করার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “চারিদিকেই দুষ্টু লোকেরা রয়েছে। তাদের হাত থেকে মা-বোনেদের রক্ষা করতে ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে।” গত নভেম্বরের শেষে একটি নির্দেশিকা জারি করে রাজ্য জানিয়েছিল, যাত্রী পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত সব ধরনের বাণিজ্যিক গাড়িতে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে যে সব গাড়িতে এই যন্ত্রবসানো হবে না, তাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত শংসাপত্র (ফিটনেস সার্টিফিকেট) দেওয়া হবে না। উপরন্তু প্রতিদিন বিলম্বের জন্য ৫০ টাকা করে জরিমানা ধার্য হবে।

মূলত এই ট্র্যাকিং ডিভাইস লাগানো থাকবে চালকের কেবিনে। পরিবহণ দফতর এবং লালবাজারের কন্ট্রোল রুম থেকে গাড়িগুলিকে এই ডিভাইসের সাহায্য ট্র্যাকিং করা যাবে। ফলে সহজেই স্থানীয় থানা গাড়ির অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবে। কলকাতা শহরের সমস্ত বাস ও ট্যাক্সি কিংবা অ্যাপ ক্যাবে থাকছে প্যানিক বাটন। বিপদের আশঙ্কা করলেই গাড়ির ভিতরে থাকা যাত্রীরা ওই প্যানিক বাটন প্রেস করতে পারবেন। প্যানিক অ্যালার্ম পাওয়া মাত্রই ওই গাড়ি কিংবা বাসে থাকা যন্ত্রের মাধ্যমে লোকেশন ট্র্যাক করে ফেলতে পারবে পুলিশ। বাসের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী প্রতি দু’মিটার অন্তর থাকবে প্যানিক বাটন। কোনও যাত্রী বিপদ বুঝে প্যানিক বাটন পুশ করলে ৩০ মিনিটের মধ্যে স্থানীয় থানা গাড়ির অবস্থান জেনে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যেতে পারবে। এর জন্য কলকাতায় পোদ্দার কোর্টে আধুনিক কন্ট্রোল রুম তৈরি করা হয়েছে। আরও দু’টি কন্ট্রোল রুম তৈরি হওয়ার কথা শিলিগুড়ি এবং আসানসোলে।

গত ৯ই জানুয়ারি সোমবার, আলিপুরে আনুষ্ঠানিক ভাবে ওই ব্যবস্থার উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রথম ধাপে এক হাজার গাড়িকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, তার মধ্যে প্রায় সাড়ে ছ’শো গাড়ি এখনও পর্যন্ত এই ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। এদিনই মুখ্যমন্ত্রী ছ’তলা মাল্টি লেভেল কার পার্কিং জোনেরও উদ্বোধন করেন। এই কার পার্কিং জোনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সম্পন্ন।’ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আপাতত এখানে বড়ো, ছোট মিলিয়ে ৪০০ গাড়ি পার্ক করা যাবে। এটি আরও চারতলা বাড়বে। আলিপুর চিড়িয়াখানা-সহ আশপাশের এলাকায় যারা গাড়ি নিয়ে যাবেন তাদের আর রাস্তায় গাড়ি পার্ক করতে হবে না। এবার থেকে সম্পন্নতেই রাখা যাবে গাড়ি।

কিন্তু প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ করে তড়িঘড়ি এই যন্ত্র বসানোর বিষয়ে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছে বেসরকারি বাস, মিনিবাস, হলুদ ট্যাক্সি এবং অ্যাপ-ক্যাব সংগঠনগুলি। নির্দিষ্ট মেয়াদের পরে গাড়ির স্বাস্থ্য সংক্রান্ত শংসাপত্র নেওয়ার সময়ে ওই যন্ত্র বসিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মত দিয়েছে তারা। যদিও পরিবহণ দফতর এখনও ওই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। এখন না হলেও পরবর্তীকালে বাণিজ্যিক সব গাড়িতেই এই ট্র্যাকিং সিস্টেম লাগাতে হবে।

Sanjana Chakraborty

My name is Sanjana Chakraborty. I'm a content writer. Writing is my passion. I studied literature, so I love writing.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button