জীবনধারা

ভাইফোঁটা” কথাটির আসল অর্থ হল ভাই-বোনের মধ্যে এক সুন্দর সম্পর্ক প্রতিস্থাপন।

ভাইফোঁটা হল ভাই-বোনের উৎসব! ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এটি কীভাবে পালিত হয় তা এখানে বলা হয়েছে।

 

ভাই-বোনের মতো এই নিঃস্বার্থ বন্ধন আর নেই বললেই চলে এবং তাদের মধ্যে যে ভালবাসাতা ভারতবর্ষের মতো মহিমান্বিত। হিন্দুরা প্রতি বছর এই বিশেষ সম্পর্কটিকে দুবার পালন করে, একটি হল রাখীপূর্ণিমা এবং দ্বিতীয়টি হল ভাইফোঁটা। আমরা এই বছরের ২৬শে অক্টোবর ২০২২ -এ ভাইফোঁটা উদযাপন করছি।

ভাইফোঁটা কীভাবে উদযাপন করা হয়?

দীপাবলির উদযাপনের ঠিক পরেই সারা ভারতের বোনেরা তাদের ভাইদের মঙ্গল কামনার জন্য ভাইফোঁটা উৎসবের মাধ্যমে প্রস্তুত হয়। তারা তাদের ভাইদের কপালে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে ভালবাসা ও মঙ্গল কামনা জানায়। বোনেরা তাদের ভাইদের কাছ থেকে উপহার, চকোলেট এবং আশীর্বাদ নিয়ে আনন্দিত হয়।

এখানে বিভিন্ন রাজ্য কীভাবে ভাইফোঁটা পালন করে তা বলা হল :

পশ্চিমবঙ্গ :

বাংলায় এই অনুষ্ঠানটিকে বলা হয় “ভাইফোঁটা”, যেটি বোন দ্বারা পরিবেশিত। বোনেরা ধর্মীয়ভাবে উপবাস রাখেন তাদের ভাইদের মঙ্গলের জন্য। যতক্ষণ না বোন তার ভাইয়ের কপালে চন্দনের ফোঁটা, মিষ্টিমুখ এবং উপহার দেয় এবং তার দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের জন্য প্রার্থনা করে ততক্ষন তারা উপবাস ভাঙ্গে না।

ভারতের প্রতিটি ভাই অধীর আগ্রহে এই উপলক্ষের জন্য অপেক্ষা করে, যা ভাই-বোনের মধ্যে বন্ধন এবং তাদের স্নেহপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে। এইদিনে প্রতিটি বাঙালি ঘরে ধ্বনিত শঙ্খের মধ্যে যে আনন্দ পাওয়া যায় তা প্রায় দুষ্কর।

বিহার :

ভাইফোঁটা বিহারে “যম দ্বিতীয়া” হিসাবে পালিত হয়। অন্যান্য রাজ্য থেকে এটি সম্পূর্ণ আলাদা। এটা বিশ্বাস করা হয় যে, যম মৃত্যুর দেবতা, তাই তিনি সেই সমস্ত লোকদের তার সাথে নিয়ে যান যারা কখনই অন্যদের দ্বারা অভিশাপিত হয়নি।

তাই “যম দ্বিতীয়া”-র সময় ঐতিহ্য অনুসারে, বোনেরা ভাইদের উপর অভিশাপ ও গালিগালাজ করে, যমকে তাদের থেকে দূরে রাখার আশায়। এর পরে, বোনদের শাস্তি হিসাবে তাদের নিজের জিহ্বা বিদ্ধ করতে হবে এবং ক্ষমা চাইতে হবে।

মহারাষ্ট্র :

মহারাষ্ট্রে এই উৎসব “ভাউ বেজ” নামে পরিচিত। প্রথা অনুসারে, বোন মেঝেতে একটি চৌকো তৈরি করে এবং ভাইকে সেখানে বসতে হয়।

এর পরে, তিনি তার কপালে টিকা লাগান, আরতি করেন এবং “কড়িথ” নামে পরিচিত একটি ফল খান। এছাড়াও, বোন তার ভাইয়ের মঙ্গল এবং সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করে।

দক্ষিণ ভারত :

উড়িষ্যা ও দক্ষিণ ভারতে উৎসবটি “ভ্রাতৃদ্বিতীয়া” হিসাবে পালিত হয়। এটি মৃত্যুর দেবতা যম এবং তার বোন যমুনার মধ্যে প্রেমের বন্ধনকে চিহ্নিত করে। এই দিনে যমপূজাও পালন করা হয় এবং পরের দিনই সোদরী তৃতীয়া পালন করা হয়।

অন্তর্নিহিত তাৎপর্য : অন্যান্য সমস্ত হিন্দু উৎসবের মতো ভাইফোঁটা পারিবারিক বন্ধন এবং সামাজিক সংযুক্তির সাথে অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত। এটি কিছু ভালো সময় নিয়ে আসে, বিশেষ করে একজন বিবাহিত মেয়ের জন্য, তার পরিবারের সাথে একত্রিত হওয়া এবং দীপাবলি পরবর্তী আনন্দ ভাগ করে নেওয়া।

আজকালকার দিনে ভার্চুয়াল তিলক এবং ভাইফোঁটার ই-কার্ডগুলি একে অপরের থেকে দূরে থাকা ভাই ও বোনদের জন্য, বিশেষ করে এই শুভ অনুষ্ঠানে তাদের ভাইবোনদের স্মরণ করা আরও সহজ করেছে।

 

 

Sanjana Chakraborty

My name is Sanjana Chakraborty. I'm a content writer. Writing is my passion. I studied literature, so I love writing.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button